নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসমিয়া হোসেন অদিতি (১৪) হত্যা মামলার রায় ঘোষণার তারিখ পিছিয়ে আগামী ২৯ এপ্রিল ধার্য করেছেন আদালত। বুধবার (১৫ এপ্রিল) নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার নতুন তারিখ ধার্য করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. সেলিম শাহী। তিনি বলেন, আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) এই মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত থাকলেও এজলাসে বসেই রায়ের তারিখ পুননির্ধারণ করেছেন বিচারক। মামলার রায়ের তারিখ পিছিয়ে আগামী ২৯ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরো পড়ুন: স্কুলছাত্রী অদিতি হত্যা মামলার রায় আজ
নিহত অদিতি নোয়াখালী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মৃত রিয়াজ হোসেন সরকারের মেয়ে। তার মা রাজিয়া সুলতানা বেগমগঞ্জ উপজেলার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।
অভিযুক্ত আব্দুর রহিম রনি (৩২) নোয়াখালী পৌরসভার একই এলাকার খলিল মিয়ার ছেলে ও অদিতির সাবেক গৃহশিক্ষক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলের দিকে নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার জাহান মঞ্জিলের নিজ বাসা থেকে অদিতির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের সময় তার গলা, হাত ও পায়ের রগ কাটা ছিল। যা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার দিন রাতেই অদিতির সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনি গ্রেপ্তার হন। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা, বালিশসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
আরো পড়ুন: নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রীকে গলা কেটে হত্যা
অদিতির মা রাজিয়া সুলতানা জানান, রনি কিছুদিন অদিতির গৃহশিক্ষক ছিলেন। রনির কাছে অল্প কয়েকদিন পড়ে অদিতি তার মাকে জানায়, সে আর রনির কাছে পড়বে না। প্রাইভেট বন্ধ করে অদিতি অন্যত্র কোচিং শুরু করলে ক্ষুব্ধ হন রনি। ঘটনার দিন দুপুরে বাসায় প্রবেশ করে রনি অদিতিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। অদিতি বিষয়টি তার মাকে জানাবে বললে রনি প্রথমে বালিশ চাপা দিয়ে ও পরে গলা, হাত ও পায়ের রগ কেটে অদিতিকে হত্যা করেন। ঘটনাটিকে ভিন্ন রূপ দিতে আসবাবপত্রসহ পুরো বাসা এলোমেলো করে রাখেন রনি।
রাজিয়া সুলতানা বলেন, “আমার মেয়ে হত্যার ন্যায় বিচার চাই। খুনির এমন শাস্তি হোক, যাতে আর কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।”
পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের সময় রনির শরীরের বিভিন্ন স্থানে নখের আঁচড়ের দাগ ও তার পোশাকে তাজা রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়, যা ডিএনএ টেস্টে অদিতির বলে শনাক্ত হয়। পরে রনির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়। মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমে বাদীপক্ষের ৪১ জন এবং আসামিপক্ষের ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।