সময়ের পরিক্রমায় বিদায় নিলো আরও একটি বছর। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে আগমন ঘটলো নতুন বছরের। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, আনন্দ-বেদনার অম্লমধুর স্মৃতি পেছনে ফেলে নতুন স্বপ্ন, নতুন আশা আর আগামীর অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু হলো ২০২৬ সাল।
বাংলাদেশ ক্রিকেটও এগিয়ে গেল আরো একটি বছরে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এ বছরও ব্যস্ত সময় পার করবে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বাদেও এ বছর দ্বিপক্ষীয় সিরিজে বেশ ব্যস্ততা বাংলাদেশ ক্রিকেটের।
ক্রিকেটাররা এখন বিপিএল নিয়ে ব্যস্ত। ২৩ জানুয়ারি পর্দা নামবে বিপিএলের। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়ে। বিপিএল শেষ হওয়ার ৫ দিন পর আগামী ২৮ জানুয়ারি বেঙ্গালুরুর পথে ঢাকা ছাড়বে বাংলাদেশ দল। বিশ্বকাপের আগে গা গরমের ম্যাচে নামিবিয়া ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলবে লিটন কুমার দাসের দল। এরপর কলকাতা ফিরে বাংলাদেশ তিনটি ম্যাচ খেলবে যথাক্রমে ৭, ৯ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি। প্রতিপক্ষ যথাক্রমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও ইংল্যান্ড। ১৭ ফেব্রুয়ারি গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ নেপালের বিপক্ষে ওয়াংখেড়েতে। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে সুপার এইটে উঠতে পারলে বাংলাদেশের সফর বাড়বে। নয়তো ভারতেই শেষ হবে মিশন।
বিশ্বকাপেরে পর পাকিস্তানকে আতিথেয়তা দেবে বাংলাদেশ। মার্চ-এপ্রিলে পাকিস্তানের আসার কথা রয়েছে। ২টি টেস্ট ও ৩টি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলতে আসবে পাকিস্তান। পাকিস্তান সুপার লিগের কারণে দুই ভাগে হতে পারে এবারের সফর।
এপ্রিলের শেষে বাংলাদেশে আসবে নিউ জিল্যান্ড। খেলবে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি। তাসমান পাড়ের আরেক দেশ অস্ট্রেলিয়া জুনে বাংলাদেশ সফরে এসে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে। জুলাই মাসে বাংলাদেশ যাবে জিম্বাবুয়ে সফরে। ২টি টেস্টসহ দুই দল খেলবে ৫ ওয়ানডে।
আগস্টে বাংলাদেশের অ্যাওয়ে ট্যুর। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে দুই টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। বর্তমান টেস্ট দলে থাকা সব ক্রিকেটারেরই প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফর হবে এটি। অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে এসেই বাংলাদেশ উড়াল দেবে আয়ারল্যান্ডে। ৩টি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলবে এই সফরে।
গত বছর বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল ভারতের। নিরাপত্তা অজুহাতে সফর পিছিয়ে দেয় ভারত। এই বছরের সেপ্টেম্বরে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলতে ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর করতে আসার কথা রয়েছে। অক্টোবরে বাংলাদেশ সফরে আসবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। খেলবে দুই টেস্ট। বাংলাদেশের বছর শেষ হবে নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর দিয়ে। ২ টেস্ট ও ৩ ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
২০২৬ সালে ঘরের মাঠেই ব্যস্ততা বেশি বাংলাদেশের। পাকিস্তান, নিউ জিল্যান্ড, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১২টা ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ। টেস্ট আছে ৪টি, টি-টোয়েন্টি ১২টি। এছাড়া অ্যাওয়ে সিরিজে টেস্ট আছে ৬টি। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি যথাক্রমে ১১টি ও ৩টি।