টেনিস ইতিহাসে আরেকটি অনন্য অধ্যায় যোগ করলেন নোভাক জোকোভিচ। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে শেষ ষোলোতে উঠতে গিয়ে গ্র্যান্ড স্ল্যামে ৪০০ ম্যাচ জয়ের মাইলফলক স্পর্শ করলেন সার্বিয়ান মহাতারকা। এ কীর্তি আগে কোনো খেলোয়াড়ের নেই।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি, ২০২৬) মেলবোর্ন পার্কের সেন্টার কোর্টে বন্ধ ছাদের নিচে ডাচ খেলোয়াড় বোটিক ফান ডে জ্যান্ডসখুলপকে ৬-৩, ৬-৪, ৭-৬ (৭-৪) গেমে হারান ৩৮ বছর বয়সী জোকোভিচ। এই জয়ের মধ্য দিয়ে মেজর টুর্নামেন্টে নিজের ম্যাচজয়ের রেকর্ডকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেলেন তিনি। তালিকায় তার পরেই আছেন রজার ফেদেরার (৩৬৯) ও সেরেনা উইলিয়ামস (৩৬৫)।
এটি জোকোভিচের মেলবোর্ন পার্কে ১০২তম জয়। যেখানে তিনি জিতেছেন রেকর্ড ১০টি শিরোপা। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে একক ম্যাচজয়ে রজার ফেদেরারের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষেও উঠে এলেন তিনি।
শেষ ষোলোতে জোকোভিচের প্রতিপক্ষ হবেন চেক প্রতিভা ইয়াকুব মেনশিক অথবা যুক্তরাষ্ট্রের ইথান কুইন। প্রচণ্ড গরমের কারণে তাদের ম্যাচ বিলম্বিত হওয়ায় প্রতিপক্ষ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী জোকোভিচ এবারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে দারুণ ছন্দে আছেন। লক্ষ্য- ইয়ানিক সিনার ও কার্লোস আলকারাসের সাম্প্রতিক আধিপত্যে ভাঙন ধরা। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “আমি এখনো তরুণদের চ্যালেঞ্জ দিতে চাই। আমি এখানেই আছি। লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। আলকারাস আর সিনার এখন বিশ্বের সেরা দুই খেলোয়াড়। তারা ভিন্ন এক স্তরে খেলছে। তবে কোর্টে নামলে সবসময়ই সুযোগ থাকে।”
গত বছর ইন্ডিয়ান ওয়েলসে এই ভ্যান ডে জ্যান্ডসখুলপের কাছেই হেরেছিলেন জোকোভিচ। তবে এবার ডাচ খেলোয়াড় আর চমক দিতে পারেননি। প্রথম সেটেই ২৬ বলের দীর্ঘ র্যালির পর গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক আদায় করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন জোকোভিচ। দ্বিতীয় সেটেও শুরুতেই ব্রেক পেলেও লড়াইটা সহজ ছিল না। এক পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে বিজ্ঞাপনী বোর্ডের দিকে বল মারেন তিনি, প্রায় বলবয়কে লাগার উপক্রম হলেও দ্রুত ক্ষমা চান।
তৃতীয় সেটে পায়ের ফোসকার কারণে মেডিক্যাল টাইম আউট নেন জোকোভিচ। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকে অভিজ্ঞতা ও মানসিক দৃঢ়তায় ম্যাচ নিজের করে নেন।
২০২৩ ইউএস ওপেন জয়ের পর থেকেই মার্গারেট কোর্টের সঙ্গে ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপায় যৌথভাবে শীর্ষে জোকোভিচ। আর ৪০০ ম্যাচ জয়ের এই কীর্তি যেন আরও একবার জানিয়ে দিল ইতিহাস গড়ার ক্ষুধা এখনো ফুরোয়নি সার্বিয়ান কিংবদন্তির।