বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সবশেষ বোর্ড সভাতে পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যানের পদে পুনর্বহাল করে। তবে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি জানায়নি বিসিবি। গণমাধ্যমে যখন মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন কথা বলেন, তিনিও জানান, লিখিত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে।
দিন যায়, সপ্তাহ যায়। বিসিবির লিখিত সিদ্ধান্ত আসে না। তবে ভেতরে ভেতরে নাজমুল নিজের কাজটা করে যাচ্ছিলেন ঠিকঠাক। সরাসরি তাকে স্বপদে রাখার সিদ্ধান্ত বিসিবি আজও জানায়নি। তবে আজ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নাজমুলের পদবী, ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেই দেখিয়েছে বিসিবি। তাতে স্পষ্ট হয়ে যায়, ক্রিকেটারদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা নাজমুল স্বপদেই দায়িত্ব পালন করছেন।
বিসিবি সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘‘স্কোরার সাইদুর রহমানকে কিডনি চিকিৎসার জন্য পাঁচ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে বিসিবি। বিসিবির ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারম্যান মোকসেদুল কামাল সাইদুর রহমানের হাতে এই চেক তুলে দেন। এ সময়ে বিসিবির টেন্ডার ও পারচেস কমিটির প্রধান আবুল বাশার এবং ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলাম এবং প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।’’
বিসিবির পাঠানো এই বিবৃতিতেই এম নাজমুল ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে স্বপদে থাকার বিষয়টি পরিস্কার হয়েছে।
বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম ক্রিকেটারদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। তার পরিচালক পদের পদত্যাগ চেয়ে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব) খেলা বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। একপ্রকার বাধ্য হয়ে ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে নাজমুলকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
পরিচালক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার এখতিয়ার আমিনুলের ছিল না। তাই পারেননি। সবকিছুই এখন নিয়ন্ত্রণে। বিপিএলের খেলাও শেষ। তাইতো নিরুত্তাপভাবে আমিনুল এম নাজমুলকে পুরোনো জায়গাতে ফিরিয়েও এনেছেন।
তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলা নাজমুল ক্রিকেটারদের নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করেছিলেন। যেখানে শুধু ক্রিকেটারদের তিনি ছোটই করেননি, বরং তাদের নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। পারফরম্যান্স নিয়ে করেছিলেন কটূক্তি। ক্রিকেটারদের নিয়ে তার করা অস্বাভাবিক মন্তব্যর জেরে বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গন ছিল সরগরম।
পেশাদার ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) তার পদত্যাগের দাবি করে ম্যাচ বয়কট করে। দুটি ম্যাচ তারা মাঠে নামেননি। পরবর্তী সময়ে বোর্ডের সঙ্গে আলোচনার পর নাজমুলের প্রক্যাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার শর্তে মাঠে ফেরেন ক্রিকেটাররা। কিন্তু, সেই শর্ত এখন পর্যন্ত মানেননি। বোর্ডও নেয়নি কোনো ব্যবস্থা। কোয়াবও এখন নিশ্চুত। মাথা পেতে বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন।
নাজমুল স্বপদে ফিরেছেন ঠিকই। তবে ক্রিকেটারদের অপমান করে বিসিবির শোকজের জবাব ‘ইতিবাচক’ দিয়েছেন বলেই পুরোনো জায়গায় ফিরেছেন বলে দাবি করলেন বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন, ‘‘গত বোর্ড মিটিংয়ে যেই জিনিসটা হয়েছে, উনার যে শোকজটা ছিল সেটার ভালো জবাব তিনি দিয়েছেন। ওটার ব্যাপারে আলাপ হয়েছে।’’