সারা বাংলা

ট্রেন দুর্ঘটনা: শ্রীমঙ্গলে আটকা কালনী, সিলেটে পাহাড়িকা

হবিগঞ্জের মাধবপুরে তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ সাড়ে ১৪ ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ রয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলে। ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেস মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে গিয়ে আটকা পড়েছে। চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস সিলেট রেল স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে।

এদিকে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলের বিভাগীয় কর্মকর্তাকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান এ তথ্য জানান।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, বুধবার (১ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে মাধবপুর উপজেলার মনতলা রেলস্টেশনের অদূরে একটি সেতুর কাছে সিলেটগামী ৯৫১ নম্বর তেলবাহী ট্রেনের পাঁচটি অয়েল ওয়াগনসহ ছয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এর মধ্যে একটি বগি পাশের খালে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর দুটি ওয়াগন থেকে তেল বের হতে শুরু করলে স্থানীয় লোকজন তা সংগ্রহ করতে ভিড় করেন।

দুর্ঘটনার পর রাত ২টা ১০ মিনিটে আখাউড়া থেকে একটি রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। রেলওয়ের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত লাইনচ্যুত ছয়টি বগির মধ্যে চারটি উদ্ধার হয়েছে।

সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেস শ্রীমঙ্গলে গিয়ে আটকা পড়ে। একইভাবে সকাল সাড়ে ১০টায় সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ে স্টেশন ছাড়তে পারেনি। যাত্রীরা দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তায় অপেক্ষা করছেন।

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার কাজ শেষ হওয়ার পরই রেললাইন মেরামতের কাজ শুরু হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে দুপুর ১টা থেকে ২টার মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে।

রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান বলেন, “লাইনচ্যুত বগি উদ্ধারে আখাউড়া ও ঢাকা থেকে টিম আনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম না থাকায় একটি ক্রেন দিয়েই উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণে অন্তত তিনটি ট্রেনের শিডিউল বাতিল করা হয়েছে।”

সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম বলেন, “উদ্ধার কাজ এখনো চলমান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হবে।”