রড লেভার অ্যারেনার আলোঝলমলে রাতে আবারও প্রমাণ হলো বয়স কেবল একটি সংখ্যা। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ইতালির ইয়ানিক সিনারকে হারিয়ে ফাইনালের মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছেন নোভাক জকোভিচ। একই সঙ্গে পেশাদার টেনিসের ইতিহাসে এই গ্র্যান্ড স্ল্যামে সবচেয়ে বেশি বয়সে ফাইনাল খেলার অনন্য রেকর্ডও গড়েছেন তিনি।
রাতে শুরু হওয়া এই মহারণ চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দর্শকদের টানটান উত্তেজনায় বেঁধে রাখে। পাঁচ সেটের লড়াইয়ে জকোভিচ শেষ পর্যন্ত ৩-৬, ৬-৩, ৪-৬, ৬-৪, ৬-৪ ব্যবধানে পরাস্ত করেন ডাবল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন সিনারকে। নিজের ৩৯তম জন্মদিনের মাত্র কয়েক মাস আগে এমন পারফরম্যান্স দিয়ে সার্বিয়ান তারকা বুঝিয়ে দিলেন সেরা দিনে তিনি এখনও ভয়ংকর প্রতিপক্ষ।
ম্যাচ শেষে আবেগ লুকাননি জকোভিচ। কোর্টে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, এত দীর্ঘ ও শারীরিকভাবে কঠিন ম্যাচ খেলতে গিয়ে পুরোনো স্মৃতি ভেসে উঠছিল। বিশেষ করে ২০১২ সালে রাফায়েল নাদালের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ফাইনালের কথা মনে পড়ছিল, যা ছয় ঘণ্টার কাছাকাছি সময় চলেছিল।
সিনারের প্রশংসা করতে গিয়ে হাস্যরসের আশ্রয়ও নেন জকোভিচ। তার ভাষায়, এই ম্যাচে জয়ের একমাত্র উপায় ছিল সর্বোচ্চ মানের টেনিস খেলা। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে সিনার তার বিপক্ষে টানা কয়েকটি ম্যাচ জিতেছিলেন। রসিকতা করে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ যেন তার খেলার ধরন এতটাই জেনে ফেলেছিল যে ‘আজ রাতে নম্বর বদলানো ছাড়া উপায় ছিল না’।
এবার ফাইনালে জকোভিচের সামনে অপেক্ষা করছে নতুন প্রজন্মের আরেক তারকা, বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা কার্লোস আলকারাজ। অন্য সেমিফাইনালে আলেক্সান্ডার জ্ভেরেভকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের ইতিহাসের দীর্ঘতম ম্যাচগুলোর একটিতে জয় তুলে নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেন আলকারাজ।
অভিজ্ঞতার পাহাড় বনাম তারুণ্যের আগুন; রোববারের ফাইনালে এই দ্বন্দ্বই এখন টেনিস দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। মেলবোর্নে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় লেখার অপেক্ষায় জকোভিচ। আর ইতিহাস বদলানোর স্বপ্ন নিয়ে নামবেন আলকারাজ।