ঢাকা     রোববার   ২১ জুলাই ২০২৪ ||  শ্রাবণ ৬ ১৪৩১

ধানের দাম কম, লোকসানের আশঙ্কা 

মো. শামীম কাদির, জয়পুরহাট || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৫১, ৩ জুন ২০২৩   আপডেট: ১৭:০৩, ৩ জুন ২০২৩
ধানের দাম কম, লোকসানের আশঙ্কা 

জয়পুরহাটের বিভিন্ন বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে চিকন ধানের দাম কমেছে মণ প্রতি ২০০ টাকা। ধানের দাম কমায় লোকসানের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। বাজারে দিন দিন ধানের আমদানি বাড়লেও চাহিদা না থাকায় নায্য দাম পাচ্ছেন না বলে দাবি চাষিদের। কৃষকদের অভিযোগ, মিল মালিকরা ধান না কেনায় দাম কমছে।

মিল মালিকরা বলছেন, আগের মজুত ধান বিক্রি না হওয়ায় অর্থসঙ্কটে তারা ধান কিনতে পারছেন না। 

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় ৬৯ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৪ লাখ ২২ হাজার ৫৩০ মেট্রিক টন। চালের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮১ হাজার ৬৮৬ মেট্রিক টন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ধারদেনা করে এ মৌসুমে কৃষকরা ইরি-বোরো ধানের আবাদ করেছেন। কাটা-মাড়াইয়ের পর ঋণ পরিশোধের জন্য তারা হাটে নিয়ে আসছেন ধান। এ বছর সার, তেল, শ্রমিক ও কীটনাশকের দাম বাড়ায় ফসল উৎপাদনের খরচ বেড়েছে। কিন্তু ধানের দাম কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে ধানের দাম কমিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। টাকার প্রয়োজনে তাই লোকসান করেই ধান বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।  

সরেজমিনে শনিবার (৩ জুন) সকালে হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দুই সপ্তাহ আগেও  প্রতি মণ কাটারি জাতের ধান ১২৫০ থেকে ১৩০০ টাকা, জিরাশাইল ১২৫০ থেকে ১২০০ টাকা, মোটা জাতের আতপ ১১৫০ থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অথচ  বাজাওে বর্তমানে সেই কাটারি জাতের ধান প্রতি মণ ১০৫০ থেকে ১১০০ টাকায়, জিরাশাইল ১০০০ থেকে ১০৫০ টাকা, মোটা আতপ ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ভায়ের পুকুর এলাকার কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, ‘গত সপ্তাহে পাঁচশিরা বাজারে কাটারি ধান বিক্রি করেছিলাম ১৩০০ টাকা। আজকে কাটারি ধান ৪৯ মণ বিক্রি করতে এসেছিলাম। ১১০০ টাকা বিক্রি হয়েছে। ধানের দাম এত কম। আমরা কৃষকরা হিমশিম খাচ্ছি।’ 

জয়পুরহাট সদর উপজেলার পুরানাপৈল এলাকার কৃষক আনিছুর রহমান বলেন, ‘সপ্তাহে ধানের দাম প্রতি মণ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কমেছে। আবার প্রতি বিঘায় ধান হচ্ছে ২২ মণ থেকে ২৬ মণ। উৎপাদন খরচ হয়েছে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। একদিকে ধানের আমদানি বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করছেন। আবার আবহাওয়া অনূকূলে না থাকলে আরো লোকসানে পড়তে হবে। কিনতে আসলে সবকিছুর দাম বেশি। আমরা কৃষকরা বেঁচতে আসলেই দাম কম।’

জয়পুরহাট সদর উপজেলার ধারকী সিএন্ডবি চারমাথার ধান ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান রাশেদ বলেন, ‘অনেক মিলারের কাছেই আগের মৌসুমের ধান মজুত থেকে গেছে। ফলে তারা অর্থসংকটের কারণে ধান কিনতে পারছেন না।’ 

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রাহেলা পারভীন বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এখন পর্যন্ত বোরোর ভালো আবাদ হয়েছে।

জয়পুরহাট কৃষি বিপণন কর্মকর্তা রতন কুমার রায়  বলেন, ধানের আমদানি বেড়ে যাওয়ার কারণে দাম কমে যাচ্ছে। আবার স্থানীয় ধান ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণেও ধানের দাম কমে যাচ্ছে। নিয়মিত মনিটরিং করার পাশাপাশি ধানের বাজার নিয়ে সিন্ডিকেট করার অভিযোগ পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিহত করা হবে।

মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়