ঢাকা     শুক্রবার   ১৯ জুলাই ২০২৪ ||  শ্রাবণ ৪ ১৪৩১

আ. লীগের মূল্যায়ন সভায় দুই পক্ষের চেয়ার ছোড়াছুড়ি, আহত ৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:২০, ৫ জুন ২০২৩   আপডেট: ১৭:৫৮, ৫ জুন ২০২৩
আ. লীগের মূল্যায়ন সভায় দুই পক্ষের চেয়ার ছোড়াছুড়ি, আহত ৬

গাজীপুর মহনগরীর গাছা থানা আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিবর্তী মূল্যায়ন সভায় দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। সোমবার (৫ জুন) সকাল ১১টার দিকে গাছা থানার মোল্লা কনভেনশন সেন্টারে এক কর্মীর বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটে।

আহতরা হলেন- গাছা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য হাসান উদ্দিন মাস্টার, ৩৪ নম্বর যুবলীগ নেতা এমারত হোসেন, গাছা থানা মৎস্যজীবী লীগ নেতা আশিকুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ফরহাদ হোসেন, আওয়ামী লীগের সমর্থক রমজান আলী ও রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

গত ২৫ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা জায়েদা বেগমের কাছে হেরে যান আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী আজমত উল্লা খান। নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ খুঁজে বের করতে মহানগর আওয়ামী লীগের থানা ও ওয়ার্ড কমিটির সদস্যদের নিয়ে গত ৩১ মে থেকে নির্বাচন-পরবর্তী মূল্যায়ন সভার আয়োজন করা হয়। এই মূল্যায়ন সভা চলবে আগামী ৮ জুন পর্যন্ত। 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানান, গাছা থানাধীন বোডবাজার এলাকায় মোল্লা কনভেনশন সেন্টারে সকালে মূল্যায়ন সভা শুরু হয়। সভার শুরুতে বক্তব্য রাখার জন্য স্থানীয় এক নেতর নাম ডাকা হয়। তখন অপর একটি পক্ষ তাকে বক্তব্য না দিতে হট্টগোল শুরু করে। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে কনভেনশ সেন্টারে থাকা লোহার চেয়ার একে অপরের দিকে ছুড়তে থাকেন নেতাকর্মীরা। পরে উপস্থিত নেতারা পরিস্থিতি শান্ত করেন। এ ঘটনায় ছয়জন আহত হয়েছেন। 

হট্টগোলের বিষয় আজমত উল্লা খান নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, যেকোন সভায় এ ধরণের হট্টগোল করার অর্থ হলো দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। এটা আমাদের জন্য দুঃখজন। 

গাছা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-সাধারন সম্পাদক আদম আলী, দলীয় কর্মী মো. শাহজাহানা আলী, শামছুল হক প্রমুখ।

আজমত উল্লা খান বলেন, দলের নেতাকর্মী হয়ে যারা নৌকাকে পরাজিত করেছেন তাদের লজ্জা থাকা উচিত। মঞ্চে যারা বক্তব্য দিতে চান কথা বলতে চান তারা সবাই তার নিজ কেন্দ্রের ফলাফল আগে ঘোষণা দেবেন তারপর কথা শুরু করবেন। আপনার কেন্দ্রের ফলাফল জানা না থাকলে কথা বলার প্রয়োজন নেই।  

আমাদের দলকে সুসংগঠিত করতে হবে। যাতে আগামী দিনে কেউ আবার আমাদের মধ্যে ঢুকে বিভ্রান্তি করে নৌকাকে না হারিয়ে দিতে পারে। যারা ফেসবুক খুব চালান, আমি কিছু কিছু ফেসবুকে দেখতেছি। আমাকে উন্নয়ন কর্তপক্ষের চেয়ারম্যান করায় অনেকেই আত্মহারা হয়ে উঠেছেন। কেউ কেউ নিজেই প্রসিডেন্ট হয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ নিজেই প্রেসিডেন্ট হতে চাচ্ছেন। দয়া করে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ধারা ৭ দেখবেন। 

নির্বাচনের পরের দিন থেকে আমার দরজা খুলে রেখেছি। অনেকেই আমাকে বলেছেন ভাই এতো বড় একটা নির্বাচনে হেরে গেলেন আমরা কান্দি অথচ আপনি হাসেন কারণটা একটু বলেন তো। আমি বলেছি, আমার একটা মানুষিক শান্তি আছে। আমি মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি। আমি যদি বিএনপি জামাতের কাছে হারতাম তাহলে আমার দুঃখ থাকতো। আমি ভাবতাম সংগঠনকে ঠিকমতো গোছাইতে পারিনি। কিন্তু আমাকে হারিয়েছে নিজ দলের নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগের কাছে হেরেছি এজন্য ভেতরে রক্তক্ষরণ হলেও  মুখে অন্তত হাসি রয়েছে। কারণ আমি বিএনপি জামাতের কাছে হারিনি।

মূল্যায়ন সভায় বক্তব্য রাখেন- গাজীপুর-২ আসনের সাংসদ সদস্য এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। 

জাহিদ আহসান নেতাকর্মীদের বলেন, আপনারা ভাবছিলেন ২০১৮ সালে যেভাবে হয়ে গেছে সেভাবেই জয়লাভ হবে। যার ফলে ঘরে ঘরে না গিয়ে ভোট না চেয়ে কাউন্সিলরদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। যারা আমাদের ভোট দিত না বারবার গেলে তারাও বিরক্ত হয়ে আমাদের ভোট দিত। যেখানে কল্পনাও আসে না ফেল করার সেখানেও আমরা পরাজিত হয়েছি। আমি মানে করি এগুলো চিহ্নিত করার সময় এসেছে। এরআগে যখন মেয়রকে বহিষ্কার করা হলো তখন যদি এদের চিহ্নিত করা যেত তাহলে আজকের এই সমস্যা হতো না। 

তিনি বলেন, আমরা যখন গণসংযোগে ব্যস্ত ছিলাম তখন তারা টাকা বিলাইতো। অনেকেই কষ্ট করেছেন কিন্তু ঠিকঠাক ফলাফল আসেনি। এখন আপনারা বের করেন কেন ভোট পাইনি। এগুলো বের করতে না পারলে গাছা থানাটা নষ্ট হয়ে যাবে। যারা দলকে ভালোবাসে, নৌকাকে ভালোবাসে তাদেরকে চিহ্নিত করেন। 

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনে সব প্রার্থী থেকে আমাদের প্রার্থী সবদিক থেকে পারফেক্ট ছিল। কিন্তু আমরা কেন মানুষকে বুঝাতে পারলাম না। যিনি নির্বাচিত হয়েছেন আসলেই কি সেভাবে কিছু করার সুযোগ আছে তার জন্য। সিটি করপোরেশন কাজ করতে মন্ত্রণালয়ে দৌঁড়াতে হয়। সেখান থেকে অর্থ আনতে হবে, মিটিং করতে হবে। এটাকি সম্ভব। উনি বয়স্ক মানুষ এটা কিভাবে করবেন। কিন্তু সাধারণ মানুষকে বুঝাতে পারলাম না। গত ১০ বছর আমরা কত কষ্ট করেছি একবার ভারপ্রাপ্ত আবার মেয়র আবার ভারপ্রাপ্ত। এভাবে কি একটি সিটি করপোরেশন চালাতে পারবো না। এখন আবার এই ৫ বছর কি হবে আল্লায় জানেন। 

রেজাউল/ মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়