ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৪ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২১ ১৪৩৩ || ১৮ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

কারো ব্যক্তিগত অপছন্দ অন্যের ওপর চাপানো উচিত না: ফারুকী

বিনোদন ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:০৯, ২ জুন ২০২৬   আপডেট: ১৬:০৯, ২ জুন ২০২৬
কারো ব্যক্তিগত অপছন্দ অন্যের ওপর চাপানো উচিত না: ফারুকী

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্মাতা তানিম নূরের চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’–এর দুটি প্রদর্শনী স্থগিত হওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নির্মাতা ও সাবেক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তার মতে, কারো ব্যক্তিগত অপছন্দ অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত না।

সোমবার (২ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে ফারুকী জানান, তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনাটি কিছুটা দেরিতে জেনেছেন। তবে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

আরো পড়ুন:

স্ট্যাটাসে ফারুকী লেখেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা অনেক দেরিতে জানলাম। যাই হোক এটা একটা ফ্রিন্জ এলিমেন্ট হইলেও এসব প্রশ্রয় দেওয়া উচিত না। কারও কাছে সিনেমা হারাম মনে হইলে সে দেখবে না। কিন্তু মুশকিল হইলো, তার অপছন্দ যখন সে অন্যের ওপর চাপাইয়া বলতে চায়—তুমিও সিনেমা দেখতে পারবা না!”

তিনি আরো লেখেন, “ধর্মীয় পরিচয়ের আড়ালে এমন আচরণ শুধু দেশকেই বিতর্কিত করে না, সংশ্লিষ্ট ধর্মকেও অযথা প্রশ্নের মুখে ফেলে। প্রায় ১৩ বছর আগে নির্মিত তার চলচ্চিত্র ‘টেলিভিশন’–এও একই ধরনের একটি বিষয় তুলে ধরা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। এত বছর পরও একই ধরনের ঘটনা ঘটছে জেনে বিরক্তি প্রকাশ করেন এই নির্মাতা।

ফারুকীর স্ট্যাটাসে উঠে আসে চলচ্চিত্র খাতের প্রশাসনিক কাঠামোর বিষয়ও। তিনি বলেন, “অনেকেই এ ঘটনার ব্যাখ্যা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাছে চাইছেন। কিন্তু বাস্তবে চলচ্চিত্র খাত বর্তমানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেই। তবে, সাধারণ মানুষের কাছে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সম্পর্ক থাকায় প্রশ্নগুলো সেদিকেই যাচ্ছে।”

একইসঙ্গে চলচ্চিত্র, ওটিটি ও বিনোদননির্ভর টেলিভিশন খাতকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনার পক্ষে মত দেন তিনি। ফারুকীর ভাষায়, “ভারত বাদে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই এটি সংস্কৃতির অংশ। দ্রুত অ্যালোকেশন অব বিজনেসে পরিবর্তন আনা উচিত।”

এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’–এর দুটি প্রদর্শনী স্থগিত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে জেলার ১০টি সাংস্কৃতিক সংগঠন।

তাদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৩০ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে অন্নদা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে চলচ্চিত্রটির একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পক্ষ ধর্মীয় আবেগকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্রটির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায়। পরে ভেন্যু কর্তৃপক্ষ পূর্বের অনুমতি প্রত্যাহার করলে প্রদর্শনীটি স্থগিত হয়ে যায়।

একই দিনে কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামেও স্থানীয় তরুণদের উদ্যোগে চলচ্চিত্রটির আরেকটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেই প্রদর্শনীও বন্ধ হয়ে যায়।

বিবৃতিতে সংগঠনগুলোর নেতারা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ ও আল মাহমুদের মতো গুণীজনদের স্মৃতিবিজড়িত জেলা। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে সাংস্কৃতিক চর্চা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য রয়েছে। সেখানে সরকার অনুমোদিত একটি চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।

তারা আরো উল্লেখ করেন, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ বাংলাদেশ ফিল্ম সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩ অনুযায়ী প্রদর্শনের অনুমতি পেয়েছে এবং দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। নির্মাতা তানিম নূরও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান। ফলে নিজ জেলায় তার চলচ্চিত্র প্রদর্শনের সুযোগ না পাওয়া আরো বেদনাদায়ক বলে মনে করছেন তারা।

সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মতে, চলচ্চিত্র একটি স্বীকৃত শিল্পমাধ্যম। সমাজ, সংস্কৃতি, রাষ্ট্র ও মানবিক মূল্যবোধ তুলে ধরতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই অসহনশীলতা, উগ্রতা কিংবা অগণতান্ত্রিক আচরণের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়।

ঢাকা/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়