ঢাকা     রোববার   ২১ জুলাই ২০২৪ ||  শ্রাবণ ৬ ১৪৩১

লিভার ক্যান্সার শনাক্তে উচ্চমানের পরীক্ষা উদ্ভাবন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:১২, ১০ জুন ২০২৩   আপডেট: ১৪:১২, ১০ জুন ২০২৩
লিভার ক্যান্সার শনাক্তে উচ্চমানের পরীক্ষা উদ্ভাবন

হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা বা এইচসিসি নামের লিভার ক্যান্সার রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করার একটি উচ্চমানের পরীক্ষা উদ্ভাবনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশের একদল প্রখ্যাত চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী। এই পরীক্ষা সুনির্দিষ্ট ডিএনএ মিথাইলেশন সিগনেচার পদ্ধতিতে এইচসিসি নির্ণয় করতে সক্ষম হবে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা।

আইসিডিডিআর'বি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ঝুঁকিতে আছেন এমন লিভারের রোগ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং অ্যালকোহল গ্রহণকারীদের এইচসিসি শনাক্তকরণে এই পরীক্ষা বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। যার ফলে ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত অসুস্থতা ও মৃত্যুর হার অনেকটা কমে আসবে।

আইসিডিডিআর'বি সূত্রে জানা গেছে, আমাদের দেশে মানুষ সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা নামক লিভার ক্যান্সারে। এটি একজন মানুষের লিভারের প্রাথমিক কোষকে আক্রান্ত করে। এসব কোষের নাম হেপাটোসাইট। এইচসিসি সাধারণত একটি টিউমারের জন্ম দেয়, যা বড় হতে থাকে। কিন্তু একজন রোগীর যদি সিরোসিস ও এইচসিসি উভয়ই থাকে, তাহলে তার শরীরের ভেতরে লিভারজুড়ে অনেক ছোট ছোট টিউমার তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

চিকিৎসকরা বলছেন, এইচসিসির ব্যাপকতা বিশ্বের সব দেশেই দেখা গেলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই রোগ দেরিতে শনাক্ত হয়। ফলে এর চিকিৎসা বড় রকমের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় যা রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। উদ্ভাবিত এই পরীক্ষা আধুনিক সিকুয়েন্সিং ও মাল্টিপ্লেক্সিং প্রক্রিয়া ব্যবহার করে সাধারণ টিস্যু, রক্তের অন্যান্য নমুনা ও নন-এইচসিসি টিউমার থেকে এইচসিসি নমুনাকে আলাদা করে প্রচলিত রোগ নির্ণয় পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা দূর করতে পারবে।

আইসিডিডিআর'বি জানিয়েছে, তারা তাদের গবেষণার আওতায় ৫৫৪ জন ব্যক্তিকে এনে এই পরীক্ষাটির মূল্যায়ন করেছেন। যার মধ্যে ছিল এইচসিসি রোগী, নন-এইচসিসি ক্যান্সার রোগী, ক্রনিক হেপাটাইটিস বি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং সুস্থ ব্যক্তি। ফলাফল হিসেবে এইচসিসি শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে ৮৪.৫ শতাংশ এবং সেন্সিটিভিটি ৯৫ শতাংশ স্পেসিফিসিটি দেখা গেছে এই পরীক্ষায়।

এ বিষয়ে দেশের স্বনামধন্য হেপাটোলজিস্ট এবং উল্লেখিত গবেষণার প্রধান গবেষক অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) বলেন, এই পরীক্ষার ব্যাপারে আমাদের আরও গবেষণা করার প্রয়োজন রয়েছে। এইচসিসিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ওপর রোগের প্রভাবকে রীতিমতো হ্রাস করার কার্যকারিতার এই অগ্রগতি; প্রকৃত পদক্ষেপ হিসেবে এইচসিসির উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের একটি মানসম্মত কৌশলের ভূমিকা পালন করবে। 

আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানী ড. ওয়াসিফ আলী খান বলেন, এই অগ্রগতি এইচসিসি শনাক্তকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আক্রান্ত রোগীর জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে এটির সম্ভাবনা অসাধারণ। এর মাধ্যমে ক্যান্সার নির্ণয় এবং দেশের মানুষের জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে আমাদের দলের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটেছে। এইচসিসি-র ব্যাপকতা কমাতে এবং দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতির লক্ষ্যে আমরা বাংলাদেশে এই পরীক্ষা শুরুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।

মেয়া/ইভা 

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়