ঢাকা     বুধবার   ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ২৩ ১৪২৯ ||  ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

বৈশাখ নিজেই যখন পঙ্‌ক্তিমালা

জাকির তালুকদার || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:১২, ১৩ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ২১:৪৭, ১৩ এপ্রিল ২০২১
বৈশাখ নিজেই যখন পঙ্‌ক্তিমালা

বৈশাখ তো কোনো স্নিগ্ধ মাস নয়। তার আগের মাস চৈত্র আর পরের মাস জৈষ্ঠ্যও মোলায়েম পরিবেশের মাস নয়। বরং এই সময় মাটি থাকে রুক্ষ, বাতাস থাকে তাপদগ্ধ, কখনো হল্কাময়, তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য মৌসুমী ফুলের সৌরভ প্রাকৃতিক আতরের মতো এসে মেখে যায় না কারো ঘ্রাণেন্দ্রিয়তে; মনেও। বরং ঘামসিক্ত শরীর বারবার আকুলতা জানায় ছায়াস্পর্শ লাভের। দ্রাবির সূর্য আগুন ঢালতে বিরতি দেয় না উদয় থেকে অস্ত পর্যন্ত। সেই আগুনের উত্তাপের রেশ থেকে যায় রাতটুকুতেও। আধুনিক তাপানূকুল যন্ত্র এখনো এই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কাছে খুব উচ্চ পর্যায়ের বিলাসসামগ্রী। তিন পাখার ফ্যান মাথার ওপরে ঘোরে, তবে তা শরীরকে ঘুমের মধ্যেই ঘামে ভিজে ওঠা থেকে রক্ষা করতে পারে না। গাঢ় তামাটে রঙের মানুষগুলোর মুখ এই সময় প্রায় পলির মতো, কখনো কয়লার মতো কৃষ্ণবর্ণ ধারণ করে হয়ে ওঠে সত্যিকারের ভূমিপুত্রের পরিচয়পত্র।

কৃষ্ণচূড়া-পলাশ-শিমূল যে বহুবর্ণিল আগুনের মতো সৌন্দর্য বিছিয়ে রেখেছিল পথের পাশে, মাঠে, বাগানে, দীঘি-পুকুরের ধারে, নদী-খালের পাড়জুড়ে, সেগুলো তো বৈশাখ আসার আগেই বিদায় নিয়েছে। ফুলের ঝোঁপ আম-লিচুর মউল ঘিরে মৌমাছির গুণগুণও নেই এখন। কেবল গুবাকতরুর মাথায় মাথায় রয়েছে বাকল ফুঁড়ে বেরুনো মঞ্জুরি কিছু। ধুলোমাখা পাতার আড়াল থেকে মাঝে মাঝে উঁকি দিচ্ছে বাতাবি লেবুর ফুল। জাম-জামরুলের কালো-সাদা শরীরগুলো মাত্র পুষ্ট হতে শুরু করেছে। এইটুকু মাত্র সম্পদ নিয়ে বহু ঋতুবৈচিত্রের এই দেশে অন্য আরামদায়ক অন্য বর্ণিল মাসগুলোকে বাদ দিয়ে বৈশাখ কেন হলো বর্ষশুরুর মাস। পহেলা বৈশাখ কেন হলো বর্ষশুরুর দিন?

অনেক কারণই আছে নিশ্চয়ই। তবে কৃষিসমাজের সমষ্টিবদ্ধ এই ব-দ্বীপে বৈশাখের প্রধান সৌন্দর্য নিশ্চিতভাবেই কৃষকের গোলায় ফসল তোলার পরের স্বস্তি। বলা হয়ে থাকে মোগল বাদশা আকবরের সময় থেকে নতুন যে সন গোনা শুরু হয়, তখন থেকেই বৈশাখকে বছরের শুরুর মাস হিসাবে ধরা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে পহেলা বৈশাখকে লোকজ উৎসব হিসাবে উদযাপনের ইতিহাস বাঙালি জাতির জন্মেও সমান বয়সী।

পহেলা বৈশাখ এখন বাঙালির প্রধান উৎসব। অনেক কিছুর মতোই বাঙালি জাতির জীবনে ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হয়ে আসছিল বৈশাখি উৎসব। বৈশাখি উৎসব হচ্ছে এখনকার বাঙালির প্রধান সর্বজনীন উৎসব। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসের মতোই সত্যিকারের  ধর্মনিরপেক্ষ উৎসব। বাংলাদেশের জন্মের পর যে নাগরিক মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উদ্ভব ঘটেছে, সেই শ্রেণীটি নানা কারণে উদভ্রান্ত, দিকভ্রান্ত, নিজভূমেই অনেকটাই পরবাসী। কারণ বাঙালির আবহমান সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের পরিচয় খুব সামান্য। পহেলা বৈশাখের উৎসব উদযাপনের সাথে মাত্র দুই দশক আগেও তাদের সম্পৃক্ততা ছিল সামান্যই। দুই দশক আগেও পহেলা বৈশাখ ছিল কেবলমাত্র ব্যবসায়ীদের হালখাতা আর মিষ্টি খাওয়া-খাওয়ির দিন। বাংলাদেশের মধ্যবিত্তকে নিজের সংস্কৃতির দিকে ফিরে তাকানোতে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করেছে বৈশাখি উৎসব, শোভাযাত্রা, পাড়া-মহল্লায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আর মানুষের সঙ্গে মানুষের সামনাসামনি মিলিত হবার ঔৎসুক্য। আর পহেলা বৈশাখকে বাঙালি নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পেরেছে তার আদিতম উৎসব হিসাবে। এখানেই বাঙালির সংস্কৃতির অন্তর্লীন শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়।

হাজার হাজার বছর নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র না থাকা সত্ত্বেও বাঙালি যে নিজেদের বাঙালিত্ব বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছিল, তার প্রধান কৃতিত্ব বাংলাভাষা এবং বাংলার সংস্কৃতি। পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে অনেক ভাষা, অনেক জাতি। উপনিবেশিক অপশক্তি সভ্যতার নামে ধ্বংস করেছে অন্তত ২৫ হাজার সভ্যতা। সেইসব সভ্যতার সাথে হারিয়ে গেছে ২৫ হাজার সমৃদ্ধ সংস্কৃতিও। বাঙালি কীভাবে বাঁচাতে পারল নিজের ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনীশক্তিকে? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা পহেলা বৈশাখের সাথে খুবই প্রাসঙ্গিক এখন।

আমাদের এই দেশ, এই ভূমি, এই জাতি শত শত বছর ছিল নানা বিদেশী আগ্রাসনের শিকার। বাংলা ও বাঙালির ভাগ্যে কোনোদিন জোটেনি রাজসম্মান। জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাভাষাকে মোকাবিলা করতে হয়েছে রাজশক্তির ভাষাকে। প্রথমে সংস্কৃত, পরে পালি, তারপরে ফারসি, তারও পরে ইংরেজি। আর উর্দুকে মোকাবিলা করার ঘটনা তো মাত্র কয়েক দশক আগের। কিন্তু এই অবস্থাতেও নিরন্তর বিকশিত এবং উন্নত হয়েছে বাংলাভাষা। রাজশক্তির বিপক্ষে দাঁড়িয়ে, রাজসভায় প্রবেশের অধিকারবঞ্চিত হয়েও বাংলাভাষার এই বিকাশ সত্যিকার অর্থেই বিশ্বে একটি অনন্য ঘটনা। বাঙালি এবং বাংলাভাষা কোথায় পেল এই শক্তির স্পর্ধা? উত্তর লুকিয়ে আছে বাংলার আবহমান আখ্যানগুলির মধ্যে। আছে বাঙালির নিজস্ব উৎসবগুলোর মধ্যে।

রাজভাষাকে নিজেদের ভাষা বলে মেনে নিয়েছে আমাদের মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত সমাজ। এখনো তো সেই তথাকথিত  ইংরেজি-জানা সমাজ একই উপনিবেশিক ধ্যান-ধারণা বহন করে চলেছেন। কিন্তু বৃহত্তর বাঙালি সমাজ, নিজেরাও যেমন আড়ালে থেকেছেন, তেমনই আড়ালে আড়ালেই বয়ে নিয়ে চলেছেন আখ্যান, কথকতা, পাঁচালী, ব্রতকথার সাগরসমান ঐতিহ্য। সাথে বয়ে নিয়ে চলেছে মাঘ-সংক্রান্তি, চৈত্র-সংক্রান্তি, পূর্ণিমা-অমাবস্যার লোকজ রীতি-প্রথা, পুষনা পার্বণ, বৈশাখি উৎসব। সাথে বয়ে নিয়ে চলেছে মেলা-পার্বণ-দোলখেলার পাশাপাশি লোকজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উৎসবগুলিকেও। সেখানে হাত পাততে অনেক দেরি করেছে বাঙালি মধ্যবিত্ত। কারণ ব্রিটিশ যুগে এদেশে যদি সত্যিকারের দাস কোনো শ্রেণী তৈরি হয়ে থাকে তো তারা ছিল এই ইংরেজিজাননেওয়ালারা। চিন্তার জগতে এক সংস্কৃতির ওপর অন্য একটি সংস্কৃতির আধিপত্যের ব্যাপারটি অনেক সূক্ষ্ম, কিন্তু তার পরিণতি প্রচণ্ড ভয়াবহ। তার কারণ এটিকে সচরাচর অনুভব করা যায় না। যতদিন কোনো নিয়ন্ত্রণ বা আধিপত্যের ব্যাপারে মানুষের সচেতনতা থাকে, ততদিন পর্যন্ত এটিকে প্রতিহত করার বোধ কাজ করে। ফলে চেতনা ততক্ষণ স্বাধীনই থাকে। যখন এই অনুভব করার ক্ষমতাটি হারিয়ে যায়, তখনই শুরু হয় প্রকৃত দাসত্ব। সাংস্কৃতিক পরাধীনতা একমাত্র তখনই জেঁকে বসে যখন নিজের ঐতিহ্যগত ভাবধারা, নিজেদের মননের-সৃজনের বৈভব এবং নিজেদের সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলি চাপা পড়ে যায় তুলনামূলক বিচার এবং প্রতিযোগিতা ছাড়াই। এই পরাধীনতাই হচ্ছে সত্যিকারের দাসত্ব।

হাজার বছর বয়সী একটি জাতির আখ্যান-উপাখ্যান-উৎসব-পার্বণই আসলে সেই জাতির সত্যিকারের প্রাণস্পন্দন। সেই প্রাণস্পন্দন কোনোদিনই লুপ্ত হয়নি বাঙালির। সমাজের ওপর তলার মানুষকে আপাতদৃষ্টিতে সবকিছুর নিয়ন্ত্রক মনে হলেও জাতিকে ধারণ করে রাখে অন্ত্যবাসী কর্মীসমাজ। ইউরোপীয় শিক্ষা তথা সাহিত্য-সংস্কৃতির আগ্রাসন সেই তলা পর্যন্ত পৌঁছুতে পারেনি। আবার তারও আগে তুর্কী আগ্রাসনও এই পর্যন্ত শেকড় বিছাতে পারেনি। ব্রিটিশ যুগে শরীয়তপন্থীদের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি আমাদের অনেক ঋণ। কিন্তু এই শরিয়া আন্দোলনও পরাজিত হয়েছে প্রকৃতিনিষ্ঠ বাঙালির আখ্যানকাব্যের শরীরে ফাটল ধরাতে। শেষ পর্যন্তও বাঙালির আখ্যান তাই ধর্মনিরপেক্ষই থেকে গেছে, এবং গড়ে দিয়েছে আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত। ধর্মনিরপেক্ষতার চাইতেও শক্তিশালী একটি ধারা রয়েছে বাঙালির আখ্যানের। সেটি হচ্ছে সর্বধর্মের সমন্বয়বাদী আখ্যান। পৃথিবীর ইতিহাসে এর কোনো তুলনা পাওয়া যাবে না। বাঙালি তার মাটিতে আশ্রয় দিয়েছে আর্যদের, শক-হুন-মোগলদের, পাঠানদের, বৌদ্ধ-জৈনদের, তুর্কী-ইরানী-আরবীয়দের। তাদের দিয়েছে নিজের থালার অন্ন-ব্যঞ্জনের ভাগ, নিজের সংস্কৃতির সাথে মিলিয়ে নিয়েছে তাদের, নিজের ধর্মপরায়ণতার সাথে সাংঘর্ষিক হতে দেয়নি অতিথিদের ধর্মবিশ্বাস। তাই সকল ধর্মবিশ্বাসের বাইরের আবরণটিকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে খুঁজে নিতে হয়েছে ভেতরের অন্তর্নিহিত আদর্শটিকে। সেখান থেকে যেসব অভিন্ন উপাদান সংগৃহীত হয়েছে- যেমন সকল মানুষের প্রতি ভালোবাসা, প্রকৃতির সাথে সহাবস্থান, অন্যের ধর্মাচরণে বাধা না দেওয়া, নির্বাণ বা প্রশান্তির জন্য ধর্ম-অবলম্বন- এই সবগুলিকে নিয়ে তৈরি করেছে অভিন্ন ধর্মবিশ্বাসের কথকতা-কাব্য-পাঁচালী-পুঁথি।

বিভেদের বিভ্রান্তি এসেছে কখনও কখনও, কিন্তু সমন্বয়ের সাফল্যই শেষকথা। আর আছে ভালোবাসা। ব্যক্তির জন্য ভালোবাসা, কৌমের জন্য ভালোবাসা, যে কাছে আসছে তার জন্যই ভালোবাসা, বৃক্ষের জন্য, বৃষ্টির জন্য, পিঁপড়ের জন্য, পাখির জন্য, মাছের জন্য, গায়ে পরশ বুলিয়ে বয়ে যাওয়া ঝিরঝিরে বাতাসের জন্য, প্রাণদায়ী বৃষ্টির জন্য, বিপাকে পড়া শত্রুর জন্যও, আর সর্বোপরি গর্ভধারিণী এবং হৃদয়ধারিণী মায়েদের জন্য। লিখিত হয়নি এইসব আখ্যান। রচিত হয়েছে কৌমের কোনো প্রাজ্ঞ বৃদ্ধ বা তরুণের মুখে, সঞ্চিত এবং পরিশীলিত হয়েছে বুকের মধ্যে, তারপর সঞ্চারিত হয়েছে মুখের বয়ান হিসাবে আরেকজনের কাছে, পরবর্তী জন ধারণ করেছে সেই আখ্যানকে, পুষে রেখেছে বুকের মধ্যে, তারপর ছড়িয়ে দিয়েছে পর্যটনে গিয়ে, পশুশিকারে গিয়ে, মৎস্যশিকারে গিয়ে, কৃষিক্ষেত্রে গিয়ে, ‘জলকে চল’তে গিয়ে, নাইয়রে গিয়ে। মুখে মুখে সৃষ্টি, বুকে বুকে সঞ্চয়ন, বুকে বুকে বহন, মুখে মুখে সঞ্চালন- এই প্রক্রিয়ায় হাজার বছর ধরে সৃষ্টি হয়েছে এবং বাহিত হয়ে এসেছে বাঙালির আখ্যান। বিদেশী আগ্রাসন পারেনি এইসব আখ্যান বন্ধ করতে, উপনিবেশিকতা পারেনি সংস্কৃতির এইসব প্রবাহ রুদ্ধ করতে।

মধ্যবিত্ত এবং ওপরের তলার বাঙালির একটা অংশ শাসকের সাথে তাল মিলিয়ে ইংরেজ হতে চেয়েছে, পাঞ্জাবি হতে চেয়েছে, তুর্কী হতে চেয়েছে, পারসী হতে চেয়েছে, আরবী হতে চেয়েছে। কিন্তু আবহমান বাঙালিত্ব রয়ে গেছে সেই আগের জায়গাতেই অনড়, অপাপবিদ্ধ। বাঙালির সংস্কৃতি বিকশিত হয়েছে এই আগ্রাসী এবং ভিখারি মানসিকতার বাইরে বসেই। সেই সংস্কৃতি শেষ পর্যন্ত পুষ্টি জুগিয়েছে বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে। চিরায়ত আখ্যানের সাথে যুক্ত হয়েছে বাঙালির মুক্তির আখ্যান। এটাই বাঙালির প্রাণশক্তির সত্যিকারের উৎস। আর সেই শক্তিউৎসের অন্যতম হচ্ছে পহেলা বৈশাখ।

বৈশাখ নিয়ে হাজার বছর ধরেই অসংখ্য পঙ্‌ক্তিমালা জন্ম নিয়েছে শত শত শক্তিমান কবির কলমে। সেগুলোও এখন বৈশাখী উৎসবের অংশ। তবে সেই সাথে এটাও মনে রাখতে হবে যে বৈশাখ নিজেই বাঙালির হৃদয়ের সবচেয়ে ভেতরের কুঠুরিতে জায়গা করে নেওয়া ভাস্বর অবিনশ্বর পঙ্‌ক্তিমালার সমষ্টি।  

আরও পড়ুন :
*বাঙালির সংস্কৃতি: অপরাজেয় লেনদেন
*কারাগারে বঙ্গবন্ধুরনববর্ষউদ্যাপন
*বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় নববর্ষ উদ্যাপনের ঐতিহ্য
*চৈত্র সংক্রান্তি: সামাজিক আচার ক্রিয়া

ঢাকা/তারা

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়