ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৫ জুলাই ২০২৪ ||  শ্রাবণ ১০ ১৪৩১

৫ দিন পর রৌদ্রোজ্জ্বল সুনামগঞ্জের আকাশ, স্বস্তি জনমনে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২৩:০৮, ২১ জুন ২০২৪   আপডেট: ২৩:১৬, ২১ জুন ২০২৪
৫ দিন পর রৌদ্রোজ্জ্বল সুনামগঞ্জের আকাশ, স্বস্তি জনমনে

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের রিভারভিউ এলাকা

সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল হাওরের জেলা সুনামগঞ্জ। টানা ৫ দিন মেঘে ঢাকা ছিলো এ জেলা। অবশেষে শুক্রবার (২১ জুন) সকাল থেকে রৌদ্রোজ্জ্বল হয় সুনামগঞ্জের আকাশ।

এদিকে সুনামগঞ্জের প্রায় সব ক’টি নদ-নদীর পানি কমেছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। শুক্রবার (২১ জুন) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জের পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি কমেছে আরও ৪ সেন্টিমিটার। বর্তমানে সুরমা নদীর এ পয়েন্টে বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ছাতক পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ৯২ সেন্টিমিটার ও সুরমা নদীর দিরাই পয়েন্টে বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে,  ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়ে পানিবন্দি হয়েছেন প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ। তাদের মধ্যে ৫৩১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠেছেন ১৮ হাজার ৪২৯ জন মানুষ।
গত দুইদিন থেকে বৃষ্টিপাত বন্ধ ও শুক্রবার সকাল থেকে রোদ ওঠায় সুরমা, কুশিয়ারা, বৌলাই, রক্তি ও যাদুকাটাসহ সকল নদনদীর পানি কমতে শুরু করেছে। এতে করে পানি নেমেছে সুনামগঞ্জ পৌরশহরের ষোলঘর, কাজির পয়েন্ট, উকিলপাড়া, বড়পাড়া, তেঘরিয়া, সাহেববাড়ী, বকপয়েন্ট এলাকায়। তবে এখনো বন্যার পানি অপরিবর্তিত রয়েছে সুলতানপুর, মরাটিলা, হাছননগর, নতুনপাড়া, শান্তিবাগ, বুড়িস্থল, দুপাখালি এলাকায়।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুরের বাসিন্দা সবুজ মিয়া বলেন, বন্যার পানিতে সব তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। আজ রোদ দেওয়ায় বাড়ির সব জিনিসপত্র রোদে শুকাতে দিচ্ছি। এখন যদি আর বৃষ্টি না হয় তাহলেই শুকরিয়া।

ষোলঘর এলাকার বাসিন্দা অহনা চৌধুরী বলেন, ষোলঘর বিভিন্ন জায়গায় পানি হয়েছে কিন্ত আমাদের বাসার আশপাশে পানি আসেনি। খুব ভয়ে ছিলাম একদিন বৃষ্টি দিলেই আমাদের বাসায় পানি উঠে যেতো। আল্লাহ আমাদের এই বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, দু’দিন থেকে উজানে ও সুনামগঞ্জে কোথাও বৃষ্টি না হওয়ায় পানি কমেছে। আগামী ২৪ ঘন্টায় সুনামগঞ্জের বৃষ্টিপাতের পূর্বভাস রয়েছে। যদি আবার বৃষ্টিপাত শুরু হয় তাহলে নদনদীর পানি বেড়ে বন্যা দেখা দিতে পারে।

মনোয়ার/ফয়সাল

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ