‘কাঁদতে কাঁদতে ফিরেছিল সেদিন’, সায়নীর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন দাবি মায়ের
বিনোদন ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
সায়নী চক্রবর্তী
নেটপ্রভাবী সায়নী চক্রবর্তীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে পরিবারের একাধিক অভিযোগ। মেয়ের মৃত্যুর পর সায়নীর মা মলি চক্রবর্তী দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে চাপে ছিলেন তার মেয়ে এবং মৃত্যুর আগে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে অপমানের শিকার হয়েছিলেন তিনি।
সায়নীর মৃত্যু ঘিরে ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, ঘটনাটিকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সম্পর্কের সংকট হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। তাদের অভিযোগ, সায়নীকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছিল।
মলি চক্রবর্তী বলেন, “পরিবারের কেউই বুঝতে পারেননি যে মেয়ের ওপর এত বড় মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল।” তার ভাষ্য, সবার পরিচিত হাসিখুশি স্বভাবের সায়নী পশুপাখি ভালোবাসতেন এবং সম্প্রতি আইন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন।
পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগের রাতে সায়নী তার প্রেমিকের বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফেরেন তিনি। পরে বন্ধুদের কাছ থেকে তারা জানতে পারেন, ওই সময় সায়নীকে হেনস্তার মুখে পড়তে হয়েছিল। যদিও এসব বিষয়ে জীবদ্দশায় পরিবারের কাউকে কিছু জানাননি তিনি।
মায়ের দাবি, মেয়ের মোবাইল ফোনের বিভিন্ন বার্তা ও কথোপকথন পর্যালোচনা করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তে সহায়ক হতে পারে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবার।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর ধরে একটি সম্পর্কে ছিলেন সায়নী। দুই পরিবারই সেই সম্পর্ক সম্পর্কে অবগত ছিল এবং সম্পর্ক মেনে নিয়েছিল। তবে পরে ওই সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
মলি চক্রবর্তীর দাবি, বন্ধুদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন যে সায়নীর প্রেমিক একপর্যায়ে সম্পর্ক অস্বীকার করতে শুরু করেন। পাশাপাশি মেয়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও করেছেন তিনি। তার দাবি, এসব বিষয় পরিবারকে কখনও জানায়নি সায়নী।
মায়ের কথায়, “আমরা মেয়েকে অনেক কষ্ট করে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম। কিন্তু সে নিজের কষ্টের কথা কাউকে বলেনি।”
ঘটনার পর অভিযুক্ত তরুণ এবং তার পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও দাবি করেছে সায়নীর পরিবার। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে মলি চক্রবর্তী বলেন, “কোনও ভুল না থাকলে কেন তারা সামনে আসছে না?”
তবে, এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ। তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।
সায়নীর মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পশুপাখিকে ঘিরে তৈরি করা তার ভিডিও এবং পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন মুহূর্তের কনটেন্ট বহু মানুষের কাছে জনপ্রিয় ছিল।
সূত্র: আনন্দবাজার ডটকম (অনলাইন)
ঢাকা/জান্নাত
সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ: নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয় ফাইনালে বাংলাদেশ