ঢাকা     শনিবার   ১৩ জুলাই ২০২৪ ||  আষাঢ় ২৯ ১৪৩১

ক্যাফে বয়াতির মুখরোচক খরগোশের কাবাব

মুজাহিদ বিল্লাহ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:১৪, ২৪ অক্টোবর ২০২৩   আপডেট: ১২:২৫, ১৩ নভেম্বর ২০২৩
ক্যাফে বয়াতির মুখরোচক খরগোশের কাবাব

দিল্লির কাবাবের পর ঢাকার কাবাবের সুনাম-খ্যাতি রয়েছে বিশ্বজুড়ে। ঢাকার নানান কাবাবের দোকানে নিয়মিতই দেখা মেলে ভোজনরসিকের আড্ডা। এসব দোকানে দেখা মেলে মুরগির, গরুর, খাসির নানা ধরনের চাপ। শুধু মাংসই নয় পাওয়া যায় নানা ধরনের মাছ ও সামুদ্রিক মাছেরও কাবাব। তবে বর্তমানে ঢাকায় পাওয়া যাচ্ছে খরগোশের কাবাব। খরগোশের কাবাব ইতিমধ্যেই পেয়েছে বেশ জনপ্রিয়তা।

রাজধানী পুরান ঢাকার স্বামীবাগের ‘ক্যাফে বয়াতি’তে পাওয়া যায় খরগোশের কাবাব। তবে এটি খাওয়ার জন্য একদিন আগে বুকিং দিতে হবে। বুকিং দিলেই পরদিন খেতে পারবেন মচমচে খরগোশের কাবাব।

খরগোশের কাবাব বানানোর জন্য ফার্ম থেকে খরগোশ সংগ্রহ করেন হোটেল বয়াতি কর্তৃপক্ষ। সাভারের একটি খরগোশ ফার্ম থেকে হালাল পদ্ধতিতে খরগোশ এনে জবাই করে মাংসে বার বি কিউ মশলা ম্যারিনেট করে রাখা হয় ঘণ্টাকয়েক এরপর আগুনের তাপে তাপে তৈরি হয় সুস্বাদু খরগোশের কাবাব।

কোথা থেকে আসলো এ ধরনের কাবাব? এ নিয়ে কথা হয় ক্যাফে বয়াতির মালিক ইকবালের সাথে। ইকবাল জানায় কাবাবের দোকান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে মামার পরামর্শেই খরগোশের কাবাব বিক্রি শুরু করেন তিনি। আমাদের দেশে খরগোশের কাবাব প্রচলিত নয় বলে এ নিয়ে কটু কথাও শুনতে হয় ইকবালকে। এসব খাবার হালাল এবং অন্যান্য দেশে দারুণ জনপ্রিয় বলে জানায় তিনি।

ক্যাফের নাম কেন ক্যাফে বয়াতি এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইকবাল জানায়, মূলত বংশের নামেই এই ক্যাফের নামকরণ। আমাদের বংশ বয়াতি বংশ তাই আমার ক্যাফের নাম বয়াতি।

দূরদূরান্ত থেকে ভিন্ন এই কাবাবের স্বাদ নিতে আসছেন অনেকেই। রাইজিংবিডির সাথে কথা হয় শিহাব আহমেদের। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই কাবাবের নাম শুনে এসেছি। খাবারটা ভালোই লেগেছে। ভিন্নরকম স্বাদ। মূলত নতুন এই আটেমটা কেমন লাগে তাই বন্ধুদের সাথে খেতে এসেছি।

তাহমিদ হাসান নামের আরেকজন জানায়, খাবারটা বেশ ভালো লেগেছে। মাংসে মসলার কম্বিনেশন ঠিকঠাক ছিলো। অন্য একটা আইটেমও ট্রাই করেছি সেটাও ভালো।

ব্যবসা কেমন চলছে জানতে চাইলে ইকবাল জানায়, ব্যবসা ভালোই চলছে। আমাদের এই নতুন আইটেম (খরগোশের কাবাব) অনেকেই এসে টেস্ট করছেন। ভালো বলছেন তারা। বিদেশে এসব অনেকেই খেয়ে থাকে এটা হালাল খাবার।

কেজি প্রতি মিডিয়াম সাইজের খরগোশের দাম রাখা হয় ১০০০ টাকা কেজি এবং বড় সাইজের দাম রাখা হয় দুই হাজার টাকা কেজি।

ক্যাফে বয়াতিতে শুধু কাবাব নয় পাবেন নানা ধরনের জুস। এখানে খরগোশের কাবাবের পাশাপাশি পাওয়া যাবে চিকেন উইংস যার দাম ১০০ টাকা, চিকেন তান্দুরি লেগ ১১০ টাকা, চিকেন তান্দুরি ব্রেস্ট ১২০ টাকা, নাগা তান্দুরি লেগ পিছ ১২০ টাকা, এরাবিয়ান চিকেন কাবাব ১৩০ টাকা, আফগানি চিকেন কাবাব ১৪০ টাকা, রেশমি চিকেন কাবাব ১৪০ টাকা, হারিয়ালি চিকেন কাবাব ১৫০ টাকা, টেংরি কাবাব (৪ টা রান) ১৮০ টাকা,  ফুল কক মুরগি তান্দুরি ৩৫০ টাকা, চিকেন বটি ১৫০ টাকা, খাসির বটি কাবাব ১৫০ টাকা, খাসির গুর্দা কাবাব ১৪০, খাসির ক্ষিরি কাবাব ১৩০ টাকা, কোয়েলের বারবিকিউ ১০০-১৫০ টাকা,  কাকড়া বারবিকিউ ১০০ থেকে শুরু, অক্টোপাস বারবিকিউ-৩০০ থেকে শুরু, তেলাপিয়া বারবিকিউ ২৫০ থেকে শুরু, পরোটা/লুচি ১০ টাকা।
 

/এসবি/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়