ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৮ মে ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪৩১

সারাহর কিডনিগ্রহীতা দ্বিতীয় নারীও মারা গেলেন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৫৩, ৩ এপ্রিল ২০২৪  
সারাহর কিডনিগ্রহীতা দ্বিতীয় নারীও মারা গেলেন

শামীমা আক্তার

সারাহ ইসলামের কিডনিগ্রহীতা অপর নারীও মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামীমা আক্তার (৩৪) নামে ওই নারীর মৃত্যু হয়।

ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল শামীমার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, সারাহর কিডনি নেওয়া প্রথমজন ফুসফুসের সংক্রমণে মারা গেছেন। এবার দ্বিতীয়জনও চলে গেলেন। এটি আমাদের জন্য খুবই কষ্টের।

এর আগে, গত বছরের অক্টোবরে সারহার কিনডি নেওয়া হাসিনা আক্তারের মৃত্যু হয়।

গত বছরের জানুয়ারিতে সারাহ ইসলামের অঙ্গদানের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো ‘ব্রেইন ডেড’ মানুষের কিডনি নিয়ে অন্য রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা দেশব্যাপী আলোচনার সৃষ্টি করেছিল।

অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, শামীমা শেষ ৬ মাস আমাদের তত্ত্বাবধায়নের বাইরে ছিল। সম্প্রতি তার ভাই জানায়, শামীমার ক্রিটিনিন বেড়েছে, একেবারে শুকিয়ে গেছে। ৩ সপ্তাহ আগে তাকে ফের বিএসএমএমইউতে ভর্তি করানো হয় তাকে। শুরুর দিকে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও ক্রিটিনিন ফের বাড়ায় তাকে ওয়ার্ড থেকে কেবিনে আনা হয়। এরপরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ৪ দিন আগে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল।

শামীমার মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার সি ভাইরাস ও বিরল নিউমোনিয়া ধরা পড়েছিল। সে অনুযায়ী ডায়ালাইসিসও শুরু করেছিলাম আমরা। একদিন বাইরের হাসপাতালেও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানেই আজ রাত ৯টার দিকে শামীমা মারা যায়।

কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও বিশিষ্ট কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হারুন অর রশিদ জানান, সারাহর কিডনি নেওয়া হাসিনা আক্তার অক্টোবর কিডনি ফাউন্ডেশনে মারা যায়। তার সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল।

এদিকে দ্বিতীয়বারের মতো যে দুজনের শরীরে ‘ব্রেইন ডেড’ মানুষের কিডনি প্রতিস্থাপন (ক্যাডাভেরিক কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট) করা হয়েছিল, তাদের একজন মারা গেছেন। ৭ বছর ধরে কিডনি সমস্যায় ভোগা এক ব্যক্তির শরীরে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি ওই কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। গত ৪ ফেব্রুয়ারি ৪৪ বছর বয়সী ওই রোগী মারা যান। অপর রোগী এখনও সুস্থ আছেন।

মেয়া/এনএইচ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়