ঢাকা     সোমবার   ২২ জুলাই ২০২৪ ||  শ্রাবণ ৭ ১৪৩১

পথে অন্তহীন দুর্ভোগ, নগরবাসীর ক্ষোভ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:১৭, ১০ জুলাই ২০২৪  
পথে অন্তহীন দুর্ভোগ, নগরবাসীর ক্ষোভ

রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো বন্ধ হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে অলি-গলিতেও

ঢাকার তাপমাত্রা আজকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই গরমে বিভিন্ন প্রয়োজনে যারা রাজধানীর রাস্তায় বের হয়েছেন, তাদের জীবন আজ ওষ্ঠাগত। কাকরাইল থেকে মৌচাক, বিজয়নগর থেকে পল্টন, প্রেস ক্লাব থেকে শাহবাগ কিংবা কারওয়ান বাজার থেকে শাহবাগ—সব রাস্তায় সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে গাড়ি। মানুষ হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছেন। স্কুল ছুটির পর বাচ্চাদের নিয়ে বাসায় ফেরার জন্য যানবাহন পাচ্ছেন না অভিভাবকরা। রিকশা বা সিএনজি অটোরিকশা পেলেও লাভ নেই। রাস্তা তো বন্ধ। ঢাকার প্রায় সব এলাকার চিত্র আজ একই। পথে পথে অন্তহীন দুর্ভোগে পড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী। 

কোটাবিরোধী আন্দোলনের কারণে রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকা কার্যত এখন অবরুদ্ধ এবং রাস্তাগুলো বন্ধ। কাকরাইল, পল্টন, শাহবাগ, বাংলামোটর, নিউ মার্কেট, মৌচাকসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন মোড়ে এবং রাস্তায় দড়ি টাঙিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাস, সিএনজি অটোরিকশা, রিকশা, এমনকি মোটরসাইকেলও যেতে দিচ্ছে না। এ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যাত্রীদের কথাকাটাকাটিও হয়েছে। 

কাকরাইলের রাস্তায় সারি সারি বাস দাঁড়িয়ে আছে। ভেতরে কোনো মানুষ নেই। সবাই হাঁটছেন। সবচেয়ে বিপদে পড়েছেন বয়স্ক মানুষ, শিশু ও নারীরা। তপ্ত রোদ মাথায় নিয়ে মাইলের পর মাইল হাঁটতে হচ্ছে তাদের।   

বেইলি রোডের মাথায় শান্তিনগর মোড়ে স্কুল ছুটির পর বাচ্চাকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন আবির আহমেদ। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাস্তা বন্ধ করে কীসের আন্দোলন, আমি বুঝি না। কয়েকদিন ধরে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। আজকে সেটি সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আপনি তো নিজেও এখানে এসেছেন। কিছু পেয়েছেন? পাননি। হেঁটে হেঁটে এই বাচ্চা নিয়ে খিলগাঁও যাওয়া সম্ভব?

কাকরাইলে বাস থেকে নেমে হাঁটছেন ৬০ বছরের বৃদ্ধ আবুল খায়ের। ‘কী করুম। কিছুই তো নাই’- বলছিলেন তিনি। হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে বলেও জানান তিনি। 

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে বুধবার (১০ জুলাই) তৃতীয় দিনের মতো ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুরের পর আন্দোলন জোরদার করেছেন তারা। রেললাইন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়সহ সব রাস্তা তারা অবরোধ করে রেখেছেন।

সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন তারা, যারা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন। রাস্তার মধ্যে আটকা পড়ার পর না পেছনে যেতে পারছেন, না সামনে এগোতে পারছেন। গাড়ির মধ্যে বসে হাঁসফাঁস করতে দেখা গেছে অনেককে। প্রচণ্ড গরমে গাড়িতে বসে বাচ্চারাও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। রোদে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পুড়ছেন মোটরসাইকেলের চালকরাও। মাথায় হেলমেট, গরমে ঘেমে অসহনীয় পরিস্থিতি।

 রাজধানীর কাকরাইল সিগন্যাল থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে নয়া পল্টন এলাকার দিকে যেতে চাচ্ছিলেন একজন মোটরসাইকেলচালক। কিন্তু, রাস্তা অবরোধ করা শিক্ষার্থীরা তাকে যেতে দেবেন না। তাকে বলা হচ্ছে, রাস্তা রাত ৮টার পর ছাড়া হবে, তখন যাবেন। কথা শুনে ওই মোটরসাইকেল চালক বলেন, আমি কি এখানে ৮টা পর্যন্ত বসে থাকব। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে মারামারির উপক্রম। রহিম নামের ওই মোটরসাইকেল আরোহী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশটা মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে। যার খুশি, সে রাস্তা বন্ধ করে দেবে।   

এদিকে, রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো বন্ধ হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে অলি-গলিতেও। সেখানেও প্রচণ্ড রকম যানজট তৈরি হয়েছে। যানজটের কারণে রিকশা বা ইজিবাইকও গন্তব্যে যেতে চাইছে না। এ কারণে জনসাধারণ পড়েছেন আরো ভোগান্তিতে। 

এদিকে, শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে আছে পুলিশ। তবে, রাস্তা বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলেও তা নিরসনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দেখা যায়নি। 

সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর বুধবার এক মাসের স্থিতাবস্থা জারি করেছেন আপিল বিভাগ। তবে, আপিল বিভাগের এই আদেশ প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কোটাবিরোধীরা। 

পারভেজ/রফিক

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়