উড়ুক্কু গাড়ি এখন আর স্বপ্ন নয়!

ঢাকার জ্যামে বসে থেকে মানুষ প্রায়ই স্বপ্ন দেখে, আহা, এখন যদি গাড়ি নিয়ে উড়ে যাওয়া যেত! সাইন্স ফিকশন সিনেমা কিংবা কার্টুনে উড়ুক্কু গাড়ির ব্যবহার বহু আগে দেখা গেলেও বাস্তবে এর দেখা খুব একটা মেলেনি।
বিশ্বের অনেক প্রতিষ্ঠান এ ধরনের গাড়ি নিয়ে কাজ করেছেন কিন্তু সেপর্যন্তই। বাণিজ্যিকভাবে উড়ুক্কু গাড়ি এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।
কিন্তু সম্প্রতি স্লোভাকিয়ার দ্য স্লোভ্যাক ট্রান্সপোর্ট অথোরিটি একটি উড়ুক্কু গাড়িকে সার্টিফিকেট দিয়েছে। হাইব্রিড এই গাড়িটি বিএমডব্লিউর ইঞ্জিনে তৈরি এবং সাধারণ পেট্রল পাম্পের পেট্রোলে চলে বা উড়ে! এটা ২ মিনিট ১৫ সেকেন্ড সময় নেয় গাড়ি থেকে উড়ুক্কু গাড়ি বা এয়ারকারে পরিণত হতে।
নানা পরীক্ষা নিরিক্ষার পর দ্য স্লোভ্যাক ট্রান্সপোর্ট অথোরিটি এটিকে সার্টিফিকেট অব এয়ারওর্থিনেস প্রদান করে। এজন্য এই হাইব্রিড গাড়িকে ৭০ ঘণ্টার ফ্লাইট টেস্টিং এবং ২০০ বার আকাশে ওঠা-নামা করতে হয়েছে।
এই গাড়ির নির্মাতা প্রফেসর স্টিফেন ক্লেইন বলেন, ‘এয়ারকার সার্টিফিকেট এটাকে ব্যাপকভাবে তৈরির দরজা খুলে দিলো।’
গত জুনে এই উড়ুক্কু গাড়ি ৩৫ মিনিটের একটি ফ্লাইটে স্লোভাকিয়ার আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট নিত্রা থেকে ব্রাটিস্লাভাতে যায়। এই কোম্পানি থেকে বিবিসি নিউজকে বলা হয়, খুব দ্রুতই এই উড়ুক্কু গাড়ি প্যারিস থেকে লন্ডন যাত্রা করবে। পাল ভি লিবার্টি নামের এই উড়ুক্কু গাড়ি তিন চাকা বিশিষ্ট এবং এটি সাধারণ প্লেনের মতো উড়ে এবং মাটিতে নামে, ফলে এর জন্য পাইলটের লাইসেন্সের প্রয়োজন হবে।
তবে অনেক কোম্পানি উড়ুক্কু গাড়ির জন্য স্বয়ংক্রিয় ওঠা-নামা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে যাতে করে এই গাড়ির মালিকদের পাইলটের লাইসেন্স নিতে না হয়। সম্প্রতি বিমান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িং ৪৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে একটি এয়ারকার প্রতিষ্ঠানে, যারা স্বয়ংক্রিয় ওঠা-নামা ব্যবস্থাসহ উড়ুক্কু গাড়ি বানাবে। উইস্ক নামের এই প্রতিষ্ঠান ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক এবং এটি গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের প্রতিষ্ঠান।
/ফিরোজ/