ঢাকা     শনিবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৫ ১৪২৯

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ‘শেষ ফাইনাল’ কেমন ছিল, কারা খেলেছিলেন?

ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:২৩, ১০ জুলাই ২০২১   আপডেট: ২০:২২, ১১ জুলাই ২০২১
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ‘শেষ ফাইনাল’ কেমন ছিল, কারা খেলেছিলেন?

করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যে ঘরবন্দী জীবনে রোমাঞ্চ নিয়ে এসেছে ফুটবল। ইউরো-কোপার ডামাডোলে ঘি ঢেলে দিয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ফাইনালের মহারণ। ফুটবল ভক্ত হতে শুরু করে বোদ্ধাদের মাঝে চলছে কথার লড়াই; কোনো কোনো জায়গায় রূপ নিয়েছে মারামারিতেও!

রোববার (১১ জুলাই) বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় রিও ডি জেনেইরোর বিখ্যাত মারাকানা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। এখন পর্যন্ত দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ১০৫ বার। ১৯১৪ সালে প্রথমবার মুখোমুখি হয় সেলসাও-আলবিসেলেস্তেরা। দুই দলের ১০৫ মোকাবেলায় ব্রাজিলের জয়ের পালা ভারি। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা জেতে ৪১টি ম্যাচে, আর্জেন্টিনা ৩৮টিতে। আর বাকি ২৬টি ম্যাচ ড্র।

১৯৯৫ সালের কোপার আসর থেকে চলমান টুর্নামেন্ট পর্যন্ত মোট ৫ বার দেখা হয়েছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার। তার মধ্যে ব্রাজিল জিতেছে তিনটিতে আর্জেন্টিনা দুটিতে। তারমধ্যে একবার দেখা হয় ২০০৭ সালের ফাইনালে; সেবার ৩-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে উড়িয়ে দেয় ব্রাজিল। কেমন ছিল সেবারের ফাইনাল? কারা-ই বা খেলেছিলেন? আর এবারের একাদশে কারা থাকবেন, কে এগিয়ে? চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক…

টাইম মেশিনে চড়ে যাওয়া যাক ২০০৭ সালের কোপার ফাইনালে; ভেনিজুয়েলার মারাকাইবোতে। ৯০ মিনিটের চর্মগোলকের এই লড়াইয়ে আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে ট্রফি জেতে ব্রাজিল। ম্যাচের ৪ মিনিটে গোল দিয়ে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন জুলিও বাপতিস্তা। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে রবার্তো আইলায় আত্মঘাতী গোলে আরও এগিয়ে যায় ব্রাজিল। ২ গোলে পিছিয়ে থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি আর্জেন্টিনা। উল্টো ৬৯ মিনিটে আলবিসেলস্তেদের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন ডানি আলভেজ।

আক্রমণ আর বল দখলের লড়াইয়ে যদিও এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৬০ শতাংশ সময় বল ছিল আর্জেন্টাইনদের পায়ে। ব্রাজিলের গোলবার লক্ষ্য করে ৬টি শট নিলেও একটি গোলও দিতে পারেননি তারা; অন্যদিকে ৪টির মধ্যে ৩টিতেই গোল দিয়ে দেয় ব্রাজিল!

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দুই দলই মাঠে নেমেছিল ৪-৪-২ ফর্মেশনে। কার্লোস দুঙ্গার অধীনে ব্রাজিল একাদশে ছিলেন দোনি, মাইকন, জুয়ান, অ্যালেক্স, গিলবার্তো, মেনিরো, জোসে, এলানো, জুলিও বাপতিস্তা, রবিনহো ও ভগনার লাভ।

অন্যদিকে কোচ আলফিও বাসিলের অধীনে আর্জেন্টিনা দলে ছিলেন, অ্যাবোনডানজিরি, জানেত্তি, মিলিতো, আইলা, হেইঞ্জ, মাশচেরানো, কম্বিয়াসো, ভেরন, রিকেলমে, তেভেজ ও মেসি।

সেবারের ব্রাজিল দলের তুলনায় আর্জেন্টিনা দলে ছিল তারকায় ভরা। মাশচেরানো-তেভেজ-রিকেলমের সঙ্গে ছিলেন মেসিও। অন্যদিকে ব্রাজিল দলে ছিল বাপতিস্তা-রবিনহোরা। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে পরিবর্তন হয়েছে খেলার ধরণও। পাওয়ার ফুটবলের সঙ্গে যোগ হয়েছে রক্ষণাত্মক খেলার দৃষ্টিভঙ্গি। যেটা এক সময় লাতিন ফুটবলে কমই দেখা যেতো। দৃষ্টি নন্দন ড্রিবলিং, মাঝ মাঠে ফুটবল নিয়ে যাদুকরি কারিকুরি আর ছন্দে ভরা ছিল খেলা। তবে মেসি-নেইমারদের কল্যাণে এখনো দেখা যায় লাতিন ফুটবলের ঝলক।

শেষ বারের ফাইনালে দুই দলের মধ্যে একমাত্র মেসিই খেলবেন এই ম্যাচে। তার কাছে এই ফাইনাল হতে পারে প্রতিশোধের মঞ্চ। এবারের আসরে দুই দলই কোনো ম্যাচ না হেরেই ফাইনাল নিশ্চিত করে। ঘরের মাঠে নেইমার-ক্যাসিমোরার ব্রাজিল ফেভারিট হলেও মেসির দুর্দান্ত ফর্ম গড়ে দিতে পারে পার্থক্য। তবে সবকিছু মিলিয়ে কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না। মাঠের ফুটবলে যে সেরাটা দেবে তারাই হাসবে শেষ হাসি।

সম্ভাব্য একাদশ ব্রাজিল-
এডারসন (গোলরক্ষক), দানিলো দা সিলভা, মারকুইনহোস, থিয়াগো সিলভা, রেনাল লোদি, লুকাস পাকুয়েতা, ক্যাসিমোরা, পাকুয়েতা, রিচারলিসন, রবার্তো ফিরমিনো ও নেইমার।

সম্ভাব্য একাদশ আর্জেন্টিনা-
এমি মার্টিনেজ, আকুনা, রোমেরো, ওটামেন্দি, মোলিনা, ডি পল, গুইদো/পারেদেস, লু চেলসো, মেসি, লাউতারো ও ডি মারিয়া।

ঢাকা/রিয়াদ/ইয়াসিন

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়