Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ২৮ নভেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৮ ||  ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, চ্যাম্পিয়ন মেসি

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৫:৩৫, ১১ জুলাই ২০২১   আপডেট: ২০:১৮, ১১ জুলাই ২০২১
চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, চ্যাম্পিয়ন মেসি

কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিলের মাটিতে ব্রাজিলকে হারিয়ে ২৮ বছরের আক্ষেপ ঘোচালো আর্জেন্টিনা। রিও ডি জেনেইরোর বিখ্যাত মারাকানায় সেলেসাওদের ১-০ গোলে হারিয়ে ১৯৯৩ সালের পর প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি জেতে আর্জেন্টিনা। সেই সঙ্গে আক্ষেপ ঘুচলো লিওনেল মেসিরও। ক্যারিয়ারের একমাত্র আক্ষেপ ছিল দেশের হয়ে একটি ট্রফি; সেটাও হয়ে গেলো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে হারিয়ে। ম্যাচের ২২ মিনিটের সময় গোল দিয়েছিলেন ডি মারিয়া; সেটি আর শোধ করতে পারেনি ব্রাজিল। তবে সেমিফাইনালের মতো এবারো আর্জেন্টাইনদের গোল খাওয়া থেকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক মার্টিনেজ।

ব্রাজিল গত আসরের কোপা চ্যাম্পিয়ন ছিল। কিন্তু নিজেদের মাটিতে ট্রফি ধরে রাখতে পারেননি নেইমাররা। এর আগে সর্বশেষ ২০০৭ সালে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল; সেবার আলবিসেলস্তেদের উড়িয়ে দিলেও মারাকানায় পারেননি তিতের শিষ্যরা।

বল দখলের লড়াই হতে শুরু করে আক্রমণেও এগিয়ে ছিল ব্রাজিল।  ম্যাচের ৬০ শতাংশ সময় বল নিজেদের পায়ে রাখার সঙ্গে আর্জেন্টিনার বার লক্ষ্য করে শট নেয় ১৩টি। কিন্তু রক্ষণভেদ করে বল জালে জড়াতে পারেননি নেইমার-ফিরিমিনোরা। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা মাত্র ৬টি শট নেয় তাতেই সফল দলটি।

এই ম্যাচে মেসি-নেইমার তাদের সেরাটা দিতে পারেননি। শেষ দিকে মেসি একটি সুযোগ পেয়েছিলেন কিন্তু ব্রাজিলের গোলরক্ষক এডারসনকে ফাঁকি দিতে পারেননি। আর্জেন্টিনার ফাইনালে আসার পেছনে মেসির অবদানই বেশি ছিল  সবচেয়ে।

ম্যাচের খুঁটি-নাটি

যোগ করা সময়ের ৩ মিনিটে এমারসনের ভুলে ব্রাজিলের ডি বক্সে বল পেয়ে যান ডি পল। তবে এডারসনকে ফাঁকি দিতে পারেননি তিনি।

৮৯ মিনিটে ভিনিচিয়াস জুনিয়রকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন মন্টিল।

৮৮ মিনিটে দারুণ সুযোগ পান মেসি। ৬ গজ দূর থেকেও গোল করতে পারেননি এডারসনের দারুণ সেভে।

৮৭ মিনিটে আবারও আর্জেন্টিনার দুর্গ হয়ে দাঁড়ান মার্টিনেজ।

৮২ মিনিটে ব্রাজিলের মার্কুইনহস ও ৮৩ মিনিটে আর্জেন্টিনার ওটামেন্ডি হলুদ কার্ড দেন।

৫৫ মিনিটে মার্টিনিজের দারুণ সেভে রক্ষা পায় আর্জেন্টিনা। ডান দিক থেকে নেইমারের বাড়ানো বলে শট নিয়েছিলেন রিচার্লিসন। কিন্তু মার্টিনেজকে ফাঁকি দিতে পারেনি বল।

৫২ মিনিটে রিচার্লিসনের গোল বাতিল হয় অফ সাইডে। খুব কাছ থেকে আর্জেন্টিনার জালে বল জড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পাকুয়েতার কারণে অফসাইড হওয়ায় বাতিল হয় গোল।

৫১ মিনিটে নেইমারকে মাঝমাঠে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন লো সেলসো।

প্রথমার্ধ শেষে এগিয়ে ১-০ গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা। আক্রমণ ও বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকলেও ব্রাজিলকে দেখাচ্ছে ছন্নছাড়া। প্রথমার্ধের ৫৪ শতাংশ সময় বল ছিল নেইমারদের পায়ে। ব্রাজিল ৬টি শট নিয়েও গোল পায়নি অন্যদিকে আর্জেন্টিনার ৩টি শটের মধ্যে ১টি গোল। হলুদ কার্ড দেখেছেন ব্রাজিলের ফ্রেড ও আর্জেন্টিনার পারেদেস। 

৩৩ মিনিটে নেইমারকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন পারেদেস। আর্জেন্টিনার গোলবারের ২৫ গজের মধ্যে ফ্রি কিক পায় ব্রাজিল। নেইমার কাজে লাগাতে পারেননি।

২২ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ডি মারিয়ার গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। রেনান লোদির ভুলে ডি মারিয়া এডারসনকে ফাঁকি দিয়ে ব্রাজিলের জালে বল জড়ান। ব্রাজিল ডিফেন্সের ওপর দিয়ে ডি পলের শট প্রথম সুযোগেই নিজের আয়ত্বে নেন ডি মারিয়া; লোদি থাকলেও তিনি রক্ষা করতে পারেননি। একা এডারসনকে ফাঁকি দিতে সমস্যা হয়নি অভিজ্ঞ ডি মারিয়ার। তিনিই প্রথম আর্জেন্টিনা ফুটবলার যিনি ২০০৪ সালের পর কোপার ফাইনালে প্রথম গোল করেন।

৩ মিনিটের সময় হলুদ কার্ড! খেলা শুরু না হতেই ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখলেন ব্রাজিলের ফ্রেড। সাইডলাইনে মন্টিলকে ফাউল করায় ফ্রেড এই শাস্তি পান।

শুরু হলো মহারণ

২০০৭ সালের পর এই প্রথম কোপা আমেরিকার ফাইনালে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল। মারাকানায় লেজার শোর প্রদর্শণী ও দুই দলের জাতীয় সঙ্গীতের পর অবশেষ শুরু হলো মাঠের লড়াই।

মারাকানায় আলোর ঝলকানি

দুই দলের খেলোয়াড়রা মাঠে নামার আগে মারাকানায় চলে আলোর ঝলকানি। ঝাঁকজমকপূর্ণ লেজার শোতে তুলে ধরা হয় বিভিন্ন বিষয়। যা শেষ হয়েছে কোপা আমেরিকার ট্রফি ও আয়োজক কনমেবলের লোগোর প্রদর্শনীতে।

অবশেষে এলো সেই মহেন্দ্রক্ষণ!

করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যে ঘরবন্দী জীবনে রোমাঞ্চ নিয়ে এসেছে ফুটবল। ইউরো-কোপার ডামাডোলে ঘি ঢেলে দিয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ফাইনালের মহারণ।

রোববার (১১ জুলাই) বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় রিও ডি জেনেইরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে খেলাটি শুরু হচ্ছে। মেসি-ডি মারিয়া-লাউতারো মার্টিনেজকে আক্রমণে রেখে একাদশ সাজিয়েছে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। অন্যদিকে ব্রাজিলের আক্রমণে আছেন নেইমারের সঙ্গে এভারটন, লুকাস পাকুয়েতা, রিচার্লিসনরা। আর্জেন্টিনা নামছে ৪-৩-৩ ফর্মেশনে আর ব্রাজিল ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে।  

আর্জেন্টিনা একাদশ: দামিয়ান মার্টিনেজ, ওটামেন্দি, আকুনা, মন্টিল, রোমেরো, ডি পল, পারেদেস, লো সেলসো, মেসি, ডি মারিয়া, লাউতারো মার্টিনেজ।

ব্রাজিল একাদশ: এডারসন, থিয়াগো সিলভা, ড্যানিলো, মারকুইনহোস, রেনান লোদি, ক্যাসেমিরো, ফ্রেড, এভারটন, লুকাস পাকুয়েতা, রিচার্লিসন, নেইমার।

থাকছে দর্শক

ফাইনাল উপভোগ করতে প্রায় ৫ হাজার দর্শককে মাঠে আমন্ত্রণ জানিয়েছে কোপার আয়োজকরা। রিও শহরের স্বাস্থ্য সচিব ড্যানিয়েল সোরাঞ্জ শুক্রবার একটি স্বাস্থ্যবিধি জারি করেন। এর ভিত্তিতে ৭৮ হাজার ধারণক্ষমতার মারাকানা স্টেডিয়ামের দুই প্রান্তে ১০ শতাংশ করে দর্শক প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছে। তবে কোনও টিকিট বিক্রি করা হবে না।

কনমেবল বলেছে, ফাইনালে প্রত্যেক দল তাদের ২২০০ জন সমর্থককে আমন্ত্রণ জানাতে পারবে। মানে ৪৪০০ জন দর্শক থাকবেন। স্টেডিয়ামে প্রত্যেককে মাস্ক পরে থাকতে হবে এবং একজনের সঙ্গে আরেকজনের মধ্যে দুই মিটার দূরত্ব রাখবেন। কোনও খাবার বা পানীয় আনা যাবে না।

মুখোমুখি লড়াই

ব্রাজিল এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় কোপার মিশনে নামছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার খরা পাক্কা ২৮ বছরের। ১৯৯৩ সালের কোপার পর আর কখনও কোনও শিরোপা ঘরে নিতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা। তবে আর্জেন্টিনার জন্য যতটা এই শিরোপা আকাঙ্ক্ষার, তার চেয়েও বহুগুণ আকাঙ্ক্ষার মেসির জন্য। দেশের জার্সিতে একটি ট্রফি যে তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এখন পর্যন্ত দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ১০৫ বার। ১৯১৪ সালে প্রথমবার মুখোমুখি হয় সেলসাও-আলবিসেলেস্তেরা। দুই দলের ১০৫ মোকাবেলায় ব্রাজিলের জয়ের পালা ভারি। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা জেতে ৪১টি ম্যাচে, আর্জেন্টিনা ৩৮টিতে। আর বাকি ২৬টি ম্যাচ ড্র।

১৯৯৫ সালের কোপার আসর থেকে চলমান টুর্নামেন্ট পর্যন্ত মোট ৫ বার দেখা হয়েছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার। তার মধ্যে ব্রাজিল জিতেছে তিনটিতে আর্জেন্টিনা দুটিতে। তারমধ্যে একবার দেখা হয় ২০০৭ সালের ফাইনালে; সেবার ৩-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে উড়িয়ে দেয় ব্রাজিল।

ঢাকা/রিয়াদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়