ঢাকা     বুধবার   ৩০ নভেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ১৬ ১৪২৯ ||  ০৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

মুশফিকের অনুপস্থিতি, মাহমুদউল্লাহর কণ্ঠে অভিমান নাকি ক্ষোভ?

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:০০, ১৮ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ২০:০২, ১৮ নভেম্বর ২০২১

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে কথার লড়াইয়ে গরম ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট। বিশ্বকাপ শেষ তবে এখনো থামেনি কথার চালাচালি। উল্টো প্রতিদিনই নতুন বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে আলো ছাড়াতে পারেননি মুশফিকুর রহিম। এজন্য বাদ পড়েছেন দল থেকে। অথচ প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু তাকে বিশ্রাম দেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু মুশফিকের দাবি তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে সাকিব ও তামিম নেই। মুশফিককে রাখার সুযোগ ছিল। কিন্তু তাকে বিবেচনা করেননি।  কিন্তু অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ভূমিকা কী ছিল?

সিরিজ শুরুর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে মুশফিককে দলে না রাখা নিয়ে প্রশ্নবাণে জর্জরিত হন মাহমুদউল্লাহ। তিনি টিম ম্যানেজমেন্টের কোর্টে বল ঠেলে দিয়েছেন প্রত্যেকবারই। এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন মুশফিকের বিষয়টি। ২৫ মিনিটের সংবাদ সম্মেলনে এক মুশফিককে নিয়েই প্রশ্ন হয়েছে পাঁচটিরও বেশি। টিম ম্যানেজমেন্টের ওপর দায় চাপিয়ে এড়াতে চাইলেও মাহমুদউল্লাহ জানিয়েছেন মুশফিককে মিস করবে বাংলাদেশ, ‘আসলে এটা পুরোটাই টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত। আমি নিজে এই মুহূর্তে আসলে এটা নিয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না। তবে এতটুকু বলতে পারি যে আমরা অবশ্যই মুশফিককে মিস করতে যাচ্ছি।’

মাহমুদউল্লাহ নিজেও টিম ম্যানেজমেন্টের অংশ। পাল্টা প্রশ্নে অধিনায়ক জানান তিনি ম্যানেজমেন্টের অংশ হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন না, ‘হ্যাঁ, (টিম ম্যানেজমেন্টের অংশ) কিন্তু আমি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না। দেখেন মুশফিক কী বলেছে আমি নিজেও জানি না, সুতরাং আমি আগে জানি, তারপর আমি দেখি।’

বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে মুশফিক জানিয়েছেন তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার সঙ্গে টিম ম্যানেজমেন্টের কেউ এই বিষয়ে কথা বলেননি। মুশফিক এসব বিষয় নিয়ে ক্রিকেটারদের সঙ্গে টিম ম্যানেজমেন্টের আরো খোলামেলা ও সরাসরি কথা বলা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। জানিয়েছেন কাউকে বাদ দেওয়া হোক কিংবা রাখা হোক, এটা সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারের সঙ্গে যেন সরাসরি কথা বলা হয়। মুশফিক মনে করেন তার সঙ্গে যেটা হয়েছে, এটা নতুন কিছু না। মাশরাফি মুর্তজা-সাকিব আল হাসানদের নাম উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে এটা ট্রেন্ড।

দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশকে সেবা দেওয়ার পর এমন পরিস্থিতির মধ্য পড়া ক্রিকেটারদের জন্য হতাশাজনক। কিন্তু এটা নিয়ে কী ভাবছেন মাহমুদউল্লাহ? এটা নিয়েও বাংলাদেশ অধিনায়ক এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন টিম ম্যানেজমেন্টের কোর্টে বল ঠেলে, ‘প্রথমত আমার মনে হয় এই অবস্থায় কোনো মন্তব্য না করাটাই ভালো। ক্যারিয়ারে ইনশাআল্লাহ আরো কয়েক বছর খেলার সুযোগ পাব যদি ইনজুরি না থাকে, যদি সুস্থ থাকি। এ বিষয়গুলো নিয়ে আসলে চিন্তা করা হয়নি। চাপ সবসময়ই থাকবে। চ্যালেঞ্জ থাকবে, চাপ থাকবে। সেগুলো উতরেই খেলতে হবে। এগুলো সব সময়ই থাকবে, অভিজ্ঞ খেলোয়াড় হোক, নতুন কেউ হোক। আমার মতে এটা সবসময়ই থাকবে, এগুলো নিয়ে বেশি মাথা না ঘামিয়ে নিজের সেরাটা দেওয়ার বিষয়ে সচেষ্ট থাকতে হবে।’

মুশফিক নিয়ে প্রশ্নে মাহমুদউল্লাহর একটাই উত্তর ছিল, টিম ম্যানেজমেন্ট। বেশ কয়েকবার এমন প্রশ্নের মুখে পড়ে মাহমুদউল্লাহ জানিয়েছেন, তিনি যদি এ সব নিয়ে বলতে যান তাহলে অনেক কিছু বলা হয়ে যাবে। মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘আমার অবস্থান সম্পর্কে যদি কিছু বলতে যাই তাহলে অনেক কিছু বলা হয়ে যাবে। এটা অনেক ভেতরের কথা। আমার মনে হয় এই মুহূর্তে এই বিষয়ে কথা বলা উচিত না। মুশফিক বিষয়ক সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে টিম ম্যানেজমেন্ট।’

বিশ্বকাপে কথা চালাচালির মধ্যে জড়িয়ে মাঠের পারফরম্যান্সে হতাশ করেছিল বাংলাদেশ। এবারও পাকিস্তান সিরিজ শুরুর আগেই মুশফিক তাতে যেন বাড়তি ঘি ঢাললেন। তাই তো সিরিজ শুরুর আগের সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক দলে না থাকলেও তাকে নিয়েই বেশি প্রশ্ন হয়, আলোচনা হয়। এমন সংস্কৃতি থেকে কবে বের হবে বাংলাদেশ?

ঢাকা/ফাহিম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়