ঢাকা     সোমবার   ২৮ নভেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৯ ||  ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

ফাহিমের চোখে ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের সম্ভাবনা

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:১৫, ২ ডিসেম্বর ২০২১   আপডেট: ২০:১৭, ২ ডিসেম্বর ২০২১
ফাহিমের চোখে ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের সম্ভাবনা

ক্রিকেট নিয়েই তার জীবন। ২৪ ঘণ্টাই ক্রিকেট। বিকেলে ফোন দিতেই বললেন, রাস্তায় আছেন, তবে ফ্রি নেই। কাজ করছেন। কিছুক্ষণ পর যোগাযোগ করতে বললেন। ঘণ্টাখানেক পর ফোন দিতেই পাওয়া গেল সাকিব-মুশফিকদের গুরু বিকেএসপির ক্রিকেট উপদেষ্টা নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে। জনমনে যিনি ফাহিম স্যার নামেই খ্যাত। তিনি বুঝে গেছেন যে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকা টেস্ট নিয়েই হবে আলাপ। তাই প্রশ্ন করতেই খুলে দিলেন কথার ঝাঁপি।

চট্টগ্রাম টেস্টে হেরেছে, ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কতটুক? সাদাপোশাক এলেই ভেসে ওঠে বাংলাদেশের বিবর্ণ চিত্র। সাগরিকার পারে এমন হারের পর শের-ই-বাংলায় মুমিনুল হকের দল কি বাবর আজমদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে? ক্রিকেট বোদ্ধা হোক কিংবা ভক্ত কাউকে এমন প্রশ্ন করলে এক নিমিষেই বলে দেবেন, কিছুই করতে পারবে না বাংলাদেশ। তবে ফাহিম স্যার সম্ভাবনা দেখালেন টেকনিক্যাল বিষয়গুলো টেনেই। তার মতে ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের সম্ভবানা বেড়েছে। কেন?

শুনুন তার মুখেই,  ‘প্রথম টেস্টের তুলনায় দ্বিতীয় টেস্টের সম্ভাবনা বেশ ভালো। প্রথম টেস্টে আমরা যতটুকু পিছিয়ে ছিলাম তার থেকে অনেক ভালো খেলেছি। কিছু কিছু সময় আমরা আধিপত্য করেছি, সেগুলোর ধারাবাহিকতা যদি আমরা ধরে রাখতে পারতাম তাহলে ফল অন্যরকম হতো। প্রথম ইনিংসে শুরুতে খারাপ করার পর ঘুরে দাঁড়ানো, ভালো রান করা। এরপর মনে হয়েছে পাকিস্তান ৫০০ রান করে ফেলবে সেখান থেকে লিড নেওয়া। এগুলো আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। আমাদের পেস বোলিং যথেষ্ট কার্যকরী ছিল না, এখন তাসকিন যদি যুক্ত হয় তাহলে পেস আক্রমণের শক্তি বাড়বে। বোলিংটা আরেরেকটু শক্তিশালী হবে। একইভাবে সাকিবের সংযুক্তিটাও আমাদের সম্ভাবনা আরো বাড়িয়ে দেবে।‘

তার কথায় ফুটে উঠেছে ব্যাট হাতে লিটন দাস-মুশফিকুর রহিমদের লড়াইয়ের মানসিকতা। বল হাতে তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণি জাদুর কথা। যদি বাংলাদেশ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারত, তাহলে ফল হতো ভিন্ন রকম। তবে সাকিব আল হাসানের উপস্থিতির কারণে বেশ আত্মবিশ্বাসী নাজমুল আবেদীন ফাহিম। তার মতে সাকিব যদি খেলেন বাংলাদেশের সম্ভবানা বেশ কয়েকগুণ বাড়বে। কিন্তু, কেন?

নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলেন, ‘আর সাকিব থাকায় বাংলাদেশ একজন ব্যাটসম্যান একজন বোলার একসঙ্গে পাবে। অধিনায়কের জন্য সুবিধা হবে। হাতে একজন বাড়তি বোলার থাকবে। সবকিছু মিলিয়ে সাকিবের উপস্থিতিটা গুরুত্বপূর্ণ, দলের শক্তি বাড়বে, তার টেকনিক্যাল জ্ঞান কাজে লাগবে। ও যদি খেলে আমাদের জন্য এটি বড় পাওনা হবে।‘

প্রথম টেস্টের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে গিয়ে নাজমুল আবেদীন ফাহিমের কণ্ঠে ক্রিকেটারদের প্রশংসার সঙ্গে ঝরেছে আক্ষেপও। দুই ইনিংসেই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতাকে বলেছেন দুঃখজনক। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৯ রানে ৪ উইকেট হারায় আর দ্বিতীয় ইনিংসে সমান উইকেট হারায় মাত্র ২৫ রানে।

প্রথম টেস্ট মূল্যায়ন করতে গিয়ে নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলেন, ‘আমরা যদি ব্যাটিংটা মূল্যায়ন করি তাহলে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। টপ অর্ডারদের ব্যর্থতার পর যেভাবে তারা রান করেছে এটা প্রশংসনীয়। আর দুই ইনিংসেই টপ অর্ডারদের ব্যর্থতা দুঃখজনক। এক ইনিংসে এমনটা হলে মানা যায় কিন্তু দুই ইনিংসেই এমন করা আসলে খুবই দুঃখজনক। এগুলো যে কোনো দলকে পিছিয়ে দেয়। ঢাকায় এরকমটা আশা করি হবে না। আর যদি ভালো শুরু এনে দিতে পারে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা তাহলে দারুণ কিছু হবে আশা করি। দুই ইনিংসেই ভালো করার শক্তি আমাদের আছে, এখন শুধু কার্যকর করার অপেক্ষা। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এখানে শুরুটা ভালো হবে বলে আমি মনে করি। আর আমরা চারজন বিশেষজ্ঞ বোলার নিয়ে খেলেছি, কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে রাহীর ব্যাপারে অধিনায়কের একটু আস্থা কম ছিল। আর বাকি তিনজন খুব একটা খারাপ করেনি, ইবাদতও একটা ইনিংসে উইকেট পেয়েছে। তাইজুলকে লিডিং বোলার মনে হয়, সাকিব থাকাতে সে আরও সাপোর্ট পাবে। সে যে বোলিংটা করেছে এটা ভালোমানের বোলিং, স্পিন, বাউন্স, টার্ন সবকিছুই ছিল। সে আরো কার্যকর হবে সাকিব যখন থাকবে।‘ 

এই ম্যাচে একাদশে দেখা যেতে পারে তাসকিনকেও। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের বোলিং শক্তি বেড়ে যাবে আরো। নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলেছেন, ‘তাসকিনের গতি তো আছেই, এখন সে ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখতে পারবে। ফিটনেস আগের তুলনায় ভালো। বিশেষ বিশেষ সময়ে সে দারুণ উপযোগী বোলার। ব্রেক থ্রু এনে দিতে পারবে। তাসকিন থাকলে বোলিংটা অনেক শক্তিশালী হবে।’

সর্বোপরি শের-ই-বাংলার ইতিহাসও বাংলাদেশের পক্ষে। এখানে তারা ২১ ম্যাচ খেলে জয় পেয়েছে ৬টিতে, ড্র করেছে ৩টিতে। আর হেরেছে ১২টিতে। জয়-পরাজয়ের হার খুব খাছাকাছি। যেখানে ১২৫টি টেস্ট খেলে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র ১৫টিতে। ড্র করেছে ৭টিতে। তবে নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলছেন ভিন্ন কথা। তার মতে উইকেটের ওপরই নির্ভর করবে পুরোনো দিনের সাফল্যের গল্প। 

তিনি বলেন, ‘শের-ই-বাংলার ইতিহাস যতই ভালো হোক না কেন তা উইকেটের ওপর নির্ভর করবে। মিরপুরে যে উইকেটে খেলা হয় সেরকম কিন্তু পাকিস্তানেরও বোলার আছে। অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই। পাকিস্তান এখানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছে, তারা জানে উইকেটের আচরণ। বাড়তি সুবিধা আদায় করতে পারবে না মনে হয়। আর আগের মতো উইকেট হয় তাহলে আমাদের ব্যাটসম্যানের জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং হবে। কারণ টেস্ট ক্রিকেট খেলার মতো মানসিকতা আমাদের ব্যাটসম্যানদের খুব একটা নেই।‘

ঢাকা/ফাহিম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়