ঢাকা     সোমবার   ২৮ নভেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৯ ||  ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

ডু প্লেসি-মঈন-নারিন যেভাবে কুমিল্লাকে পরিবার বানিয়েছেন

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:০৭, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২   আপডেট: ২২:০৮, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২
ডু প্লেসি-মঈন-নারিন যেভাবে কুমিল্লাকে পরিবার বানিয়েছেন

‘মঈন ভাইয়ের সাথে অনেক কথা হয়েছে। টেকনিকের নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ডু প্লেসির সঙ্গে কথা হয়েছে। আমাদের পরবর্তী সিরিজ দক্ষিণ আফ্রিকায়, ওখানে খেলা নিয়ে কথা হয়েছে।’

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিদেশি সতীর্থদের নিয়ে দুই দিন আগে ঠিক এভাবেই কথাগুলো বলেছিলেন দলটির তরুণ ব্যাটসম্যান মাহমুদুল হাসান জয়।

বৃহস্পতিবার তার কথার পুনরাবৃত্তিই যেন ফুটে উঠেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির কোচ সালাউদ্দিনের কণ্ঠে। স্থানীয় কোচ জানালেন, তার দলের বিদেশি ক্রিকেটাররা দুহাত ভরে দলের ক্রিকেটারদের সহযোগিতা করেছেন। নিজেদের ক্রিকেট ভাবনা জয়-লিটনদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কোনো কার্পণ্য করেননি। তরুণরাও যখন যেভাবে পেরেছে শেখার চেষ্টা করেছে। অভিজ্ঞ ও তারুণ ক্রিকেটারদের এই মেলবন্ধনে দারুণ খুশি সালাউদ্দিন। গোটা দল স্বল্প সময়ে এক পরিবার হয়ে উঠেছে সেই কথা বলতে দ্বিধা করলেন না তিনি। 

কুমিল্লার হয়ে এবার খেলছেন অনেক বড় বড় নাম। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি এবারই প্রথম বিপিএল খেলছেন। প্লেয়ার্স ড্রাফটের আগেই এই তারকাকে দলে ভেড়ায় কুমিল্লা। ইংলিশ অলরাউন্ডার মঈন আলী নয় বছর পর বিপিএল খেলতে এসেছেন। তাকেও দলে নেয় কুমিল্লা। আর যার কথা না বললেই নয়, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের হট কেক সুনীল নারিন। এক কথাই ত্রয়ী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ফেরিওয়ালা।

এমন তারকা ক্রিকেটারদের ড্রেসিংরুমের পাওয়া, তাদের সামলানো, ঠিক মতো পরিচালনা করা কঠিন কাজ। কোচ সালাউদ্দিন সিদ্ধহস্তে কাজটা করে আসছেন। পাশাপাশি খেলোয়াড়রা সহযোগিতা করায় কাজটা সহজ হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। 

‘এ বছর আমি খুবই সন্তুষ্ট বিদেশি ক্রিকেটারদের নিয়ে। প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম যে, তারা অনেক বড় ক্রিকেটার, আমাদের ছেলেদের সঙ্গে কীভাবে মিশবে, না মিশবে, আমরা এতটা আশাও করিনি যে, তারা আমাদের পরিবারের মতো হয়ে যাবে। ফাফ বলেন, সুনিল (নারাইন) বা মইন আলি, তাদের কাছ থেকে আমাদের ছেলেরা অনেক শিখছ।’

‘আগে তো দেখা যেত যে টুর্নামেন্ট শেষে তারা কথা বলত। এবার প্রথম থেকেই ছেলেরা তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার চেষ্টা করেছে। যে জিনিসটা আমার কাছে মনে হয়, বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অনেক ইতিবাচক।’

অনুশীলনেও দেখা গেছে নিঃসঙ্কোচে দেশি ক্রিকেটাররা তাদের থেকে সহায়তা নিচ্ছেন। সামনের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে জয় কিভাবে খেলবেন সেই টিপস ফাফের থেকে পেয়েছেন। বাকিরাও ভাষাগত দূরত্ব কমিয়ে তাদের সঙ্গে গিয়ে কথা বলেছেন। নিজেদের খেলা নিয়ে আলোচনা করেছেন। নারিন, মঈন আলীরাও খোলামনে নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেছে।  

সালাউদ্দিন আরো বলেন, ‘আমাদের ছেলেরা একটু অন্তর্মুখি। কথা বলতে চায় না। বিশেষ করে, ভাষার কারণে। ভাষার সীমাবদ্ধতার কারণে তারা হয়তো কাছে যেতে চায় না। কিন্তু ফাফ, সুনিল, মইনরা নিজে থেকেই এসে ছেলেদের সঙ্গে কথা বলেছে, শিখিয়েছে। এটা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে।’

‘আমরা টুর্নামেন্ট জিততে পারি বা না পারি, ছেলেরা তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছে। সেটা আমার কাছে বেশি ইতিবাচক মনে হয়েছে।’

ঢাকা/রিয়াদ/ইয়াসিন

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়