ঢাকা     রোববার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ২০ ১৪২৯ ||  ০৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

‘ওয়ার্কলোড নিয়ে ভাবছি না, ফিট থাকবো, সব ফরম্যাটে খেলবো’

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৩২, ২৩ জুন ২০২২   আপডেট: ১২:৩৪, ২৩ জুন ২০২২
‘ওয়ার্কলোড নিয়ে ভাবছি না, ফিট থাকবো, সব ফরম্যাটে খেলবো’

তাসকিন আহমেদ। জাতীয় দলের ডানহাতি এই পেসারকে আলাদা করে পরিচয় করে দেওয়ার কিছু নেই। গতির ঝড় তুলে সবার মণিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছেন। স্বস্তির খবর ইনজুরি কাটিয়ে আবারও তাসকিন ফিরছেন মাঠে, একদিন বাদেই উড়াল দেবেন ওয়েস্ট ইন্ডিজে। ক্যারিবিয়ান দ্বীপে রঙিন পোশাকে রাঙানোর অপেক্ষায় বিভোর তিনি।

দেশ ছাড়ার আগে রাইজিংবিডিকে তাসকিন জানিয়েছেন, তার বর্তমান অবস্থা হতে শুরু করে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা। পাঠকদের জন্য হুবুহু তুলে ধরা হলো।  

রিহ্যাবে ব্যথা পাওয়ার পর আবার বোলিং করলেন দুইদিন। এখন ফিটনেসের কী অবস্থা?  

তাসকিন: আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো আছি। একটু ব্যাকে ব্যথা পেয়েছিলাম। এখন আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। জিম করতে গিয়ে ব্যথা পেয়েছিলাম। এটা তেমন সিরিয়াস কিছু না। ৫ দিনে ঠিক হয়ে গেছে। গত দুই দিন বোলিং করেছিলাম। নির্বাচক, চিকিৎসক সবাই বোলিং দেখেছেন। ভালোই আছি আর কী। আল্লাহ যদি চায় ২৪ তারিখ ওয়েস্ট ইন্ডিজ যাচ্ছি।

কাঁধের ইনজুরি নিয়ে কোনো ঝুঁকি আছে কি না?

তাসকিন: যে কাঁধের ইনজুরির জন্য লন্ডনে গিয়েছিলাম, সেটাও ভালো এখন। অনেক উন্নতি হয়েছে। দেখা গেছে একটা ইনজুরি যখন হয়, ওটার পেছনে সময় দিতে গিয়ে শরীরের অন্য কোনো জায়গা দুর্বল হয়ে যায়। এজন্যই ব্যথা পেয়েছিলাম। এখন একজন ফাস্ট বোলারকে সারা শরীরেই রিহ্যাব করতে হবে, কোনো কথা নেই।

ঘরে বসে খেলা দেখতে হচ্ছে। খেলতে পারছেন না। খারাপ লাগে না?  

তাসকিন: সত্যি কথা বলতে একজন ক্রিকেটার হিসেবে খারাপ লাগে। কিন্তু বাস্তবতাও তো মানতে হবে। ইনজুরি তো আর নিজের হাতে নেই। কিন্তু ঠিক আছে, আল্লাহ ভরসা, কী আর বলবো!

আরও একটু গভীরে গিয়ে যদি বলি, আপনি ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্তের (প্রথমবার ম্যান অব দ্য সিরিজ) শেষে পুরো ছন্দে থাকার পর ইনজুরির জন্য কাটাতে হচ্ছে না খেলে, এটা হতাশার কি না?  

তাসকিন: না, আসলে দেখেন ইনজুরি তো হতেই পারে। সামনে হয়তো এর থেকেও ভালো কিছু হতে পারে (পারফরম্যান্স)। পজিটিভলি নিজেকে অনুপ্রাণিত করছি। ইনজুরি হতেই পারে। ফাস্ট বোলারদের ইনজুরি হবেই। সামনে দিন আশা করি আরও ভালো হবে।

ইনজুরির সময় বাইরে থাকলে দলে জায়গা হারানোর ভয় কাজ করে কি? যেমন আপনার জায়গায় কেউ এসে যদি খুব ভালো করে ফেলে…

তাসকিন: ইনজুরিতে থাকার সময় মাঝে মধ্যে মনে আসে (জায়গা হারানোর ভয়)। কিন্তু আমি আসলে চাই সবসময় পজিটিভ চিন্তাটাই করতে। এরকম ইনজুরি যে কোনো সময় যে কোনো ক্রিকেটারের আসতে পারে। এই সিরিজে এমনও হতে পারে ভালো করতে পারি, এমনও হতে পারে খারাপ করতে পারি। আমি আমার প্রসেসটা ঠিক রাখতে চাই।

এই যে আপনার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প সবার মুখে মুখে। সম্প্রতি টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও প্রশংসা করেছেন। এটা বাড়তি আনন্দ দেয়?

তাসকিন: এটা আসলে আমাকে সবসময় আনন্দ দেয়। আর সত্যি কথা বলতে সাকিব ভাই তো বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার, আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় ক্রিকেটার। ওনার মতো ক্রিকেটার যদি এমন কিছু বলে, এই আড়াইটা মাস যে রিহ্যাব করলাম, এ সময়ে এমন বার্তা আত্মবিশ্বাস এনে দেয়।

কোন বিষয়টা বেশি আঘাত দিয়েছিল। যার জন্য নিজেকে ভেঙেছেন, গড়েছেন?

তাসকিন: যখন দলের বাইরে ছিলাম সবকিছুই হার্ট করেছিল। যে একবার জাতীয় দলে খেলেছে, তার জন্য দীর্ঘদিন দলের বাইরে থাকা খুব কঠিন। তিন-চার বছর এভাবে বাইরে ছিলাম। সময়টা খুব কঠিন ছিল। অনেক মানুষ আসলে বিভিন্ন রকম প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল, আসলে এ বিষয়ে আমি বেশি কথা বলতে চাই না। সবার ক্ষেত্রেই এটা একই। এটা নিয়ে চিন্তা করে লাভ নেই। ভালো করলে সবার মাঝে ক্রেজ থাকবে, না করলে থাকবে না। এগুলা মেনে নিয়েছি। স্বাভাবিক একটা বিষয়। এ ছাড়া আর কিছু না। সামনে এমন হতে পারে খারাপ দিন আসতে পারে, হয়তো এর থেকে ভালো কিছু হতে পারে।

ইনজুরি প্রবণতা এড়াতে বিশ্বের অনেক ক্রিকেটার ওয়ার্কলোড ম্যানেজ করে খেলতে চান। ফরম্যাট বিবেচনায় বেছে বেছে খেলতে চান। আপনার ভাবনায় এমন কিছু আছে?

তাসকিন: এখন আসলে এমন কিছু (ওয়ার্কলোড) ভাবিনি। লক্ষ্য তিন ফরম্যাটেই খেলার। ফিট থাকবো আর সব ফরম্যাটে খেলবো। এটাই আমার পরবর্তী লক্ষ্য। একটা জিনিষ কী, বড় বড় দেশের মতো আমাদের বিকল্পটাও কম। আমাদের পাইপ লাইন অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড-ভারতের  মতো না। এটাও আমাদের দেখতে হবে। আমি ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট বা কোনো ফরম্যাট ছাড়া নিয়ে এই মুহূর্তে চিন্তা করছি না। আরও বয়স হোক, বেঁচে থাকলে দেখা যাবে। এ সময়টা আসলে তিন ফরম্যাটে খেলতে চাই।  

আপনার প্রধান শক্তি গতি। এর সঙ্গে আর কী কী নিয়ে কাজ করছেন?

তাসকিন: আমি এখন সবকিছুই আয়ত্ব করার চেষ্টা করছি। দেখেন গতি হলো আমার শক্তির জায়গা। গতির সঙ্গে আমি যতটুক পারি ভেরিয়েশন, সুইং এগুলো নিয়ে আমি কাজ করছি। এটা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কাজ করতেই হবে। শুধু গতি দিয়ে এখন বিশ্ব ক্রিকেটে ভালো করা সম্ভব না। ক্রিকেট এখন অনেক গতিময়। সব বড় বড় ইভেন্ট, ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টগুলো সবাই রান চায়। রান না হলে আসলে দর্শকও খেলা দেখে মজা পায় না। এ জন্য এখন শুধু গতি দিয়ে হয় না। গতির সঙ্গে সুইং-ভেরিয়েশন লাগবে। বড় বোলার হতে গেলে এসব লাগবেই। কাজ করছি এগুলো নিয়ে এবং উন্নতিও হচ্ছে অনেক।

অ্যালান ডোনাল্ডের সঙ্গে আপনার রসায়ন কেমন?

তাসকিন: ওনার সঙ্গে আসলে আমার একটা সিরিজেই কাজ করার সুযোগ হয়েছে। এই সিরিজে গেলে আরও কাজ করবো, তখন আশা করি বুঝতে পারবো। তবে আমি নিশ্চিত উনি ভালো কোনো কোচ হবেন। লিজেন্ড ফাস্ট বোলার ছিলেন। সামনে কাজ করবো, আশা করি ভালো কিছুই হবে। আমি এমনিতে বেশি সুজন স্যারের (খালেদ মাহমুদ সুজন) হেল্প নিয়ে থাকি। স্যার অনেক হেল্পফুল।

নিজেকে কোথায় নিয়ে যেতে চান?

তাসকিন: পরের বার যখন সুযোগ পেলাম, তখন থেকে আমার লক্ষ্যই বিশ্বসেরা হওয়া। শুধু দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য লক্ষ্য থাকলে আমি যে কোনো সময় বাদ পড়ে যেতে পারি। আমার স্বপ্ন আমি বড় ক্রিকেটার হতে চাই, পজিটিভ মেন্টালিটি নিয়ে ভালো কিছু করতে চাই। এখন নিজের প্রসেসটা ঠিক রাখছি, দিনশেষে ভাগ্য বলেও একটা কথা আছে।

বাংলাদেশের সফল অধিনায়ক একজন পেসার ছিলেন। আপনার কাঁধে যদি নেতৃত্বের ভার আসে…  

তাসকিন: এখনো এই বিষয় নিয়ে চিন্তা করিনি। যখন আসবে তখন দেখা যাবে। এখন নিজের পারফম্যান্স নিয়েই বেশি ভাবছি। নিজের খেলার পরিকল্পনা করি। এই পরিকল্পনা কীভাবে আরও ভালোভাবে করা যায় তা ভাবছি। এসব নিয়ে কোনো চিন্তা করছি না, কখনও পরিস্থিতি আসলে দেখা যাবে।

সবশেষ প্রশ্ন, নিজেকে খুঁজে পাওয়ার পেছনে কৃতিত্ব কাকে দেবেন?

তাসকিন: আমার পরিবারকে। ভালো সময়, খারাপ সময়, সবসময় পরিবার পাশে ছিল। এরাই আছে, এরাই থাকবে।

ঢাকা/ফাহিম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়