ঢাকা     রোববার   ২৭ নভেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ১৩ ১৪২৯ ||  ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

সাকিবের একার লড়াই, ৩৫ রানে হারলো বাংলাদেশ

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২৩:০১, ৩ জুলাই ২০২২   আপডেট: ০৩:৩২, ৪ জুলাই ২০২২
সাকিবের একার লড়াই, ৩৫ রানে হারলো বাংলাদেশ

ডোমিনিকা থেকে ছবি পাঠিয়েছেন মিলটন আহমেদ।

একাই লড়ে গেলেন সাকিব আল হাসান। সঙ্গী হিসেবে কাউকে পেলেন না। ১৯৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ১৫৮ রান করে। হার ৩৫ রানে। আবারও সেই ব্যাটিং ব্যর্থতার বলি হলো বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম দুই বলে ফেরেন লিটন-এনামুল। মাহমুদউল্লাহ (১১) এসে তৃতীয় ওভারে চার-ছয় মেরে ইঙ্গিত দেন প্রতিরোধের। তিনিও ফিরলেন সেই ওভারে। এরপর হাল ধরেন সাকিব-আফিফ। দুজনে খেলতে থাকেন সাবলীল। ক্রিজে থিতু হয়েও গিয়েছিলেন দুজনে। ফিফটির জুটিঈ গড়ে ফেলেন। কিন্তু আফিফের (৩৪) আউটে ভেঙে যায় ৫৫ রানের জুটি। এবার সাকিবের সঙ্গী হন সোহান-মোসাদ্দেকরা। দুজনের কেউই আলো ছড়াতে পারেননি। আগের ম্যাচে সোহান বিস্ফোরক ব্যাটিং করলেও এবার ছিলেন নিস্প্রভ। ১৩ বলে ৭ রান করেন সোহান। আর মোসাদ্দেক আউট হন ১১ বলে ১৫ রান করে। এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন সাকিব সেই শুরু থেকেই। ৪৫ বলে তুলে নেন ফিফটি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৫২ বলে ৬৮ রান করে। ২ উইকেট করে নেন রোমারিও শেইফার্ড ও ওবেদ ম্যাককয়। 

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৯৩/৫ (২০ ওভার)

বাংলাদেশ: ১৫৮/৫ (২০ ওভার) 

ফল: ৩৫ রানে জয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: রভম্যান পাওয়েল (২৮ বলে ৬১*)

ফিফটির পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে সাকিবের ২ হাজার

৪৫ বলে ফিফটি হাঁকালেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ দল যখন বিপদে তখন হাল ধরেছিলেন। তবে সঙ্গী কাউকে পাননি। এক প্রান্ত আগলে রেখে ধরে খেলতে হয়। ৪টি চার ও ১টি ছয়ে ফিফটির দেখা পান এই অলরাউন্ডার। ফিফটির পর অবশ্য হাত খুলে মারতে থাকেন। ১৯তম ওভারে নেন ১৯ রান। শেষ বলে ৬ মেরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে দুই হাজার রানের দেখা পান। ৯৮ ম্যাচে তিনি ২ হাজার অতিক্রম করেন। ফিফটি ১০টি। গড় ২৩.৩০। স্ট্রাইক রেট ১২০.৯৪। ১০৩ ম্যাচে ১৭০১ রান নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছেন তামিম ইকবাল। সবার আগে মাহমুদউল্লাহ ২ হাজার রান করেছিলেন। ক্রিজে তার সঙ্গী মোসাদ্দেক হোসেন। জয়ের কোনো সম্ভাবনাই নেই। ৮ বলে প্রয়োজন ৫৪ রান। 

বিপদ বাড়িয়ে আউট সোহান, ৩০ বলে প্রয়োজন ৯৫

সাকিব-সোহান রান তুলেছেন ধীরগতিতে। সাকিবের বলে রানে সমান থাকলেও সোহানের ছিল দিগুণ।  শেষ পর্যন্ত মারতে গিয়ে আউট হন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান সোহান। ১৩ বলে ৭ রান করেন তিনি। ক্রিজে সাকিবের সঙ্গী মোসাদ্দেক। ৩০ বলে বাংলাদেশের প্রয়োজন ৯৫ রান। 

সাকিবের সঙ্গে ফিফটির জুটির পর আফিফের বিদায়

আফিফ-সাকিবের ব্যাটে ২৩ রানে ৩ উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে উঠছিল বাংলাদেশ। দুজনের চতুর্থ উইকেটের জুটি ছাড়িয়ে যায় পঞ্চাশ। এরপরেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দারুণ খেলতে থাকা আফিফ সাজঘরে ফেরেন ২৭ বলে ৩৪ রান করে। শেফার্ডকে ঘুরে ফাইন লেগে খেলতে গিয়ে ধরা পড়েন পুরাআনের হাতে। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ৩টি চার ও ১টি ছয়ে। দুজনের জুটি থেকে আসে ৫৫ রান। ক্রিজে সাকিবের সঙ্গী সোহান। 

পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেটে বাংলাদেশের ৪৪

দ্রুত ৩ উইকেট হারানোর পর সাকিব আল হাসান ও আফিফ হোসেনের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লে থেকে বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ৪৪ রান তোলে। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম ২ বলে এনামুল (৩) লিটন (৫) রানে ফেরেন। এরপর মাহমুদউল্লাহ এসে দারুণ কিছুর আভাস দিয়ে ফেরেন মাত্র ১১ রানে। এরপর হাল ধরেন সাকিব-আফিফ। লিটন-এনামুলের পর বিপদ বাড়ালেন মাহমুদউল্লাহ

লিটন-এনামুলের পর সাজঘরে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তৃতীয় ওভারেই স্মিথকে ছয়-চার মেরে দারুণ কিছুর আভাস দিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। কিন্তু ইনিংস লম্বা করতে পারেননি ক্রিজে থেকে। এগিয়ে এসে মিড অফে মাথার উপর দিয়ে মারতে চেয়েছিলেন, টাইমিং ঠিক মতো হয়নি। বল চলে যায় ম্যাককয়ের হাতে। ৭ বলে ১১ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। ৩ ওভারে ২৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে বাংলাদেশ। ক্রিজে সাকিব আল হাসানের সঙ্গী আফিফ হোসেন। 

ইনিংসের শুরুতেই পরপর দুই বলে আউট লিটন-এনামুল

ম্যাককয়ের করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম দুই বলে এনামুল হক ও লিটন দাসের উইকেট হারালো বাংলাদেশ। লিটন ৫ ও এনামুল ৩ রান করেন।

পাওয়েল ঝড়ে বাংলাদেশের সামনে ১৯৪ রানের চ্যালেঞ্জ

ইনিংসের শেষ বলে শরিফুল ইসলামকে ৬ মেরে ইতি টানেন রভম্যান পাওয়েল। ৫ উইকেট হারিয়ে উইন্ডিজের সংগ্রহ ১৯৩ রান। জয়ের জন্য প্রয়োজন ১৯৪ রান। পাওয়েল মাত্র ২৮ বলে ৬১ রান করেন। ৪০ রান দিয়ে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন শরিফুল। ২৬ রানে ২ উইকেট হারানোর পর কিং-পুরান ৭৪ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়েন। পুরান ৩০ করে আউট হলেও কিং ৫৭ রান করেন। এরপর পাওয়েল এসে ঝড় তোলেন। ৬টি ছয়ে সর্বোচ্চ রান করেন উইন্ডিজ অধিনায়ক। তুলে নেন উইন্ডিজের হয়ে tতৃতীয় দ্রুততম ফিফটি। সাকিবের ১ ওভারেই নেন ২৩ রান। বাংলাদেশের পেসাররা ছিলেন খরুচে। তাসকিন ৩ ওভারে দেন ৪৬ রান। সাকিব দেন ৩৮ রান। নেন ১টি উইকেট। এ ছাড়া মোসাদ্দেক ১ ওভার করে কোনো রান না দিয়ে ১ উইকেট নেন। মোস্তাফিজ ২৭ রান দিয়ে কোনো উইকেটের দেখা পাননি। 

শরিফুলের শিকার কিং, ২০ বলে পাওয়েলের ফিফটি

শরিফুলের করা ১৮তম ওভারের প্রথম বলে লং অফে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ব্রেন্ডন কিং। ৭ চার ও ১ ছয়ে ৫৭ রান করেন কিং। পরের বলেই লং অফে ঠেলে দিয়ে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটির দেখা পান রভম্যান পাওয়েল। মাত্র ২০ বলে ফিফটি করেন উইন্ডিজ সহ অধিনায়ক। এটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের তৃতীয় দ্রুততম ফিফটি।  

৩ ছক্কায় সাকিবের ১ ওভারে পাওয়েলের ২৩ রান

সাকিব আল হাসানের শেষ ওভারে পাওয়েল তিন ছক্কা ও ১ চারে ২৩ রান নিয়েছেন রভম্যান পাওয়েল। আগের ৩ ওভারে ১৫ রান দেওয়া সাকিব ১ ওভারেই দেন ২৩ রান। চার ওভারে ৩৮ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন এই অলরাউন্ডার। ১৪ বলে ৩০ রান করে ক্রিজে আছেন পাওয়েল। 

কিংয়ের ফিফটি 

সাকিবকে চার মেরে ৩৬ বলে ফিফটির দেখা পান ব্রেন্ডন কিং। এটি তার তৃতীয় ফিফটি। ২৬ রানে ২ উইকেট হারানোর পর পুরানকে সঙ্গে পাল্টা প্রতিরোধ গড়েন কিং। দুজনের জুটি থেকে আসে ৭৪ রান। কিং ফিফটি করলেও পুরান ফেরেন মোসাদ্দকের শিকার হয়ে। 

কিং-পুরানে ৭২ বলে উইন্ডিজের ১০০

২৬ রানে ২ উইকেট হারানোর পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্রেন্ডন কিং-নিকোলাস পুরানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দলটি ১২ ওভারে ১০০ রান করে। দুজনের জুটি ৭০ পেরিয়েছে। কিং ফিফটির পথে আছেন। 

কিং-পুরান ঝড়ে উইন্ডিজের পাল্টা প্রতিরোধ

ব্রেন্ডন কিং ও নিকোলাস পুরান ঝড়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুজনে ইতিমধ্যে জুটিতে ৫০ রান যোগ করেছেন। ২৬ রানে প্রথম দুই উইকেট হারিয়েছিল স্বাগতিকরা। এরপর দুজনের ব্যাটে চড়ে এগিয়ে চলছে বড় রানের দিকে। প্রায় প্রতি ওভারেই আসছে বাউন্ডারি-ওভার বাউন্ডারি। পাওয়ার প্লের পর ৪ ওভারে তারা ৩৯ রান করে। 

২ উইকেট হারিয়েও পাওয়ার প্লেতে উইন্ডিজের দারুণ ব্যাটিং

দ্বিতীয় ও চতুর্থ ওভারে উইন্ডিজ তাদের ২টি উইকেট হারায়। তবুও পাওয়ার প্লেতে তারা ৪৬ রান তোলে। তার মধ্যে সাকিব আল হাসান নিজের প্রথম ওভারে ১ রান দিয়েছেন! পেসাররা সুবিধা করতে পারছেন না। তাসকিন প্রথম ওভারে ১৪ দেন, শরিফুল দেন ১১ আর মোস্তাফিজুর রহমান দেন ৮ রান। ব্যাটিংয়ে নিকোলাস পুরান ও ব্রেন্ডন কিং।

মেহেদির পর সাকিবের আক্রমণ, শূন্য রানে আউট ব্রুকস

মেহেদির পর এবার সাকিবের আক্রমণ ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে কাইল মায়ার্সকে ফিরিয়েছিলেন শেখ মেহেদি হাসান। এবার চতুর্থ ওভারেই উইকেট নিলেন সাকিব আল হাসান। তার প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে আকাশে তুলে দিয়েছেন শামরাহ ব্রুকস। শর্ট মিডউইকেটে ক্যাচ নেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। শূন্য রানে ফেরেন ব্রুকস। ২৬ রানে ২ উইকেট হারালো উইন্ডিজ। সাকিব প্রথম ১ রানে ১ উইকেট নেন। 

ঝড়ো ইনিংসের আভাস দিয়ে দ্বিতীয় ওভারেই বোল্ড মায়ার্স

তাসকিনের প্রথম ওভারে ১৪ রান নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরু। প্রথম বল ডট দিয়েছিলেন। পরের বল সিঙ্গেল নেন ব্রেন্ডন কিং। এরপর ১টি করে চার-ছয়ে কাইল মায়ার্স ৪ বলে নেন ১৩ রান। প্রথম ওভারে উইন্ডিজের রান ১৪। দ্বিতীয় ওভারেই শেখ মেহেদি হাসান এসে প্রথম বলে মায়ার্সের কাছে চার হজম করেন। পরের তিন বল কোনো রান নিতে পারেননি। আর পঞ্চম বলেই বোল্ড হন মায়ার্স। তিনি ৯ বলে ১৭ রান করেন। 

একাদশে মোসাদ্দেক-তাসকিন, ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

ডোমিনিকার উইন্ডসর পার্কে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মুখোমুখি বাংলাদেশ। টসে হেরে মাহমুদউল্লাহর দল ফিল্ডিং করবে। বাংলাদেশ সময় রোববার (৩ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টায় খেলাটি শুরু হবে। প্রথম ম্যাচ বৃষ্টির কারণে বাতিল হয়েছে। বাংলাদেশ একাদশে দুই পরিবর্তন এসেছে। একাদশে এসেছেন মোসাদ্দেক হোসেন ও তাসকিন আহমেদ। বাদ পড়েছেন মুনিম শাহরিয়ার ও নাসুম আহমেদ। বাংলাদেশ একাদশ সাজিয়েছে তিন পেসার নিয়ে।  

বাংলাদেশ একাদশ: এনামুল হক বিজয়, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), আফিফ হোসেন ধ্রুব, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদী হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান।

১১ মাস পর একাদশে মোসাদ্দেক 

টি-টোয়েন্টিতে মোসাদ্দেক হোসেন সবশেষ খেলেছেন ২০২১ সালের আগস্টে। অস্ট্রেলিয়ায়র বিপক্ষে ঘরের মাঠে এই ম্যাচের পর আর সুযোগ পাননি। ছিলেন না বিশ্বকাপ দলেও। এবার সুযোগ এলো উইন্ডিজের মাটিতে। এখন পর্যন্ত ১৬ টি-টোয়েন্টিতে ব্যাট হাতে ২০০ রানের পাশাপাশি মোসাদ্দেক বল হাতে নিয়েছেন ৫ উইকেট। 

মুনিমের 'ব্যাক ইস্যু'

এখন পর্যন্ত তিন টি-টোয়েন্টি খেলে ২৩ রান করেছেন মুনিম শাহরিয়ার। উইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে আউট হন মাত্র ২ রানে। দ্বিতীয় ম্যাচের একাদশে নেই এই ব্যাটসম্যান। টসের সময় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলেছেন, তার ব্যাক ইস্যু (ইনজুরি) রয়েছে। 

ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ 

এক পরিবর্তন নিয়ে নেমেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইনজুরির কারণে নেই ডেভন থমাস। একাদশে এসেছেন কিমো পল। 

কাইল মায়ার্স, ব্রেন্ডন কিং, সামারাহ ব্রুকস, নিকোলাস পুরান (অধিনায়ক), রভম্যান পাওয়েল, কিমো পল, ওডিয়ান স্মিথ, রোমারিও শেইফার্ড, আকিল হোসেন, ওবেদ ম্যাককয়, হেইডেন ওয়ালশ।

আবহাওয়া নিয়ে স্বস্তি 

প্রথম দিন বৈরি আবহাওয়ার কারণে ১৩ ওভার পর শেষ পর্যন্ত ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে এমন সম্ভাবনা খুবই কম। ডোমিনিকার আকাশ এখন পরিস্কার। সকাল থেকে কোনো বৃষ্টি হয়নি। ক্রিকেটাররা মাঠে এসে ঝালিয়ে নিচ্ছেন নিজেদের। আছেন ফুরফুরে মেজাজে। যথাসময়ে খেলা শুরু থেকে পুরো ম্যাচই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

ক্রিকেটারদের পাশে রাসেল ডোমিঙ্গো

গতকাল রাতে প্রথম টি-টোয়েন্টি বৃষ্টির বাগড়ায় পরিত্যক্ত হয়। তবে বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে দুশ্চিন্তা শেষ হয়নি। ভালো শুরুর পর মাত্র ২১ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ডমিঙ্গো ভুল না ধরে ছেলেদের পাশেই আছেন, ‘আমাদের কিছু ছেলে বেশ কয়েক সপ্তাহ খেলায় ছিল না। আফিফ, মাহমুদউল্লাহ- ওরা ভালোমতো অনুশীলনের সুযোগ পায়নি। মাহমুদউল্লাহ তো আমার মনে হয় ওর সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকায়।’

লড়াই হবে সমানে-সমান 

টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুর্দান্ত দল হলেও বাংলাদেশের বিপক্ষে তেমন সুবিধা করতে পারেনি। হার-জিতের পাল্লা দুই দলেরই প্রায় কাছাকাছি অবস্থান। এখন পর্যন্ত দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ১৪বার। তাতে ৭বার উইন্ডিজ ও ৫বার বাংলাদেশ জিতেছে। গতকালেরটিসহ ২ ম্যাচের ফল হয়নি। সবশেষ সফরে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সিরিজও জিতেছিল ২-১ ব্যবধানে। এবারও সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে নামতে চান মাহমুদউল্লাহ।

সিরিজ শুরুর আগের দিন মাহমুদউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘সাকিব, লিটন আছে, আমি আছি। আফিফ, সোহান, মোসাদ্দেক আছে। শেখ মেহেদী আছে। আমি মনে করি ব্যাটিংয়ের গভীরতা ভালো। আমাদের বোলিং আক্রমণও খুব ভালো, বৈচিত্র্য আছে। আশা করি অনেক চ্যালেঞ্জিং সিরিজ হবে।

পরিত্যক্ত টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং নিয়ে দুশ্চিন্তা 

১২.৪ ওভারে সোহানের ছয়ে বাংলাদেশ দলীয় একশ পার করে। সোহান আউট হয়ে যান এই ওভারেই। ওভারট শেষ না হতেই আবার বৃষ্টির বাঁধা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ভেসে যায় বৃষ্টিতে। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এই মাঠেই, আগামীকাল রাত সাড়ে ১১টায়। আজ বৃষ্টির কারণে প্রথমে ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট দেরিতে খেলা শুরু হয় ১৬ ওভারে। ৭.৩ ওভার পর আবার বৃষ্টি আসলে আরও ২ ওভার কমিয়ে ১৪ ওভার করা হয়। ১৩ ওভার পর এবার বৃষ্টি আসে। বৃষ্টি আইনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৪ ওভারে নতুন লক্ষ্য পায় ১০৮ রান৷ কিন্তু স্থানীয় সময় ৫টা ১৮ মিনিটের আগে কমপক্ষে পাঁচ ওভারের খেলার সিদ্ধান্ত নিতে হতো। কিন্ত বৃষ্টিতে খেলার কোন সুযোগই মেলেনি। শেষ পর্যন্ত দুই অধিনায়কের সঙ্গে কথা বলে ম্যাচ অফিসিয়ালরা পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে। বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে ভালো করতে পারেনি। পাওয়ার প্লেতে ৫৬ রান যোগ করার পর হঠাৎ ছন্দপতন ঘটে। ২১ রানে হারায় ৫ উইকেট। শুরুতে সাকিব আল হাসানের ঝড় আর শেষে নুরুল হাসান সোহানের দারুণ ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ ১০০ পার করতে পারে ১৩ ওভারে। ১৫ বলে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন সাকিব। আর সোহানের ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ২৫। ৭ বছর পর দলে ফিরে এনামুল হক বিজয় আউট হন ১০ বলে ১৬ রান করে। এ ছাড়া কোনো ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘর পেরোতে পারেননি। ৩ ওভারে ২১ রান দিয়ে উইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন রোমারিও শেইফার্ড। এ ছাড়া ২ উইকেট নেন হেইডেন ওয়ালশ।

ঢাকা/রিয়াদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়