ঢাকা     সোমবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১৩ ১৪৩০

সিলেট রকেটের ‘ইঞ্জিনে’ মুগ্ধ ডোনাল্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক, সিলেট থেকে || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:০৪, ২২ মার্চ ২০২৩   আপডেট: ২১:২৩, ২২ মার্চ ২০২৩
সিলেট রকেটের ‘ইঞ্জিনে’ মুগ্ধ ডোনাল্ড

যদি পেস বোলিং সম্পর্কে ভালো খোঁজ-খবর রাখেন তাহলে ডেথ, বিগ বার্ড, বিফি, রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস নামগুলোর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার কথা। এবং এই তালিকায় আরও কিছু নাম যুক্ত হওয়া স্বাভাবিক। ওল্ড-স্কুল ফাস্ট বোলিংয়ে বলতে গেলে ছিল নির্মম গতি। তার সঙ্গে ছিল যথাযথ লাইন ও লেন্থের মিশ্রণ।

আধুনিক ক্রিকেটেও পেসারদের মূল অস্ত্র গতি। তাতে উঠতি পেসাররা পেয়ে যান নিক নেম। বাংলাদেশের বোলিং কোচ অ‌্যালান ডোনাল্ড যেমনটা তার সময় পেয়েছিলেন। যাকে সবাই সাদা বিদ্যুৎ নামেই চেনে। সেই ডোনাল্ডই তার এক শিষ‌্যকে নতুন নাম দিলেন। ইবাদত হোসেনকে ডাকলেন সিলেট রকেট নামে।

ডানহাতি এ পেসারের ওয়ার্ক এথিকসে রীতিমত মুগ্ধ ডোনাল্ড। শিষ‌্যকে প্রশংসায় ভাসিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেছেন, ‘সে এমন একজন অ‌্যাথলেট যার ইঞ্জিন দুর্দান্ত।’

বাংলাদেশ ক্রিকেটে পেসারদের নিক নেম খুব একটা জনপ্রিয় নয়। কেবল মাশরাফি বিন মুর্তজাকেই তার সেরা সময়ে নড়াইল এক্সপ্রেস বলা হতো। এছাড়া তাসকিন আহমেদের আগমণের পর তাকে ঢাকা এক্সপ্রেস নামে ডাকা হতো কিছুটা সময়। এছাড়া মোস্তাফিজকে দ‌্য ফিজ নামে ডাকা হয়। তবে এবার ইবাদত পেয়ে গেলেন নিজের বোলিংয়ের সঙ্গে যুৎসই এক নাম।

লাল বলের ক্রিকেটে শুরুতে ইবাদত হোসেনকে নেয়া হয়েছিল। সাদা পোশাকে নিজের সামর্থ‌্য দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলার পর সীমিত পরিসরেও যোগ দেওয়ার দাবি তোলেন পারফরম‌্যান্স দিয়ে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করায় তার থেকে নজর সরাতে পারেননি নির্বাচকরা।

পেস বোলিং আক্রমণে তাসকিন বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সেই ঝাণ্ডা উড়াচ্ছেন ইবাদতও। সমানতালে পারফর্ম করে তাসকিন-ইবাদত দ্যুতি ছড়িয়ে যাচ্ছেন। তার উন্নতি, কাজের পরিধি, সামর্থ‌্য খুব কাছ থেকে দেখছেন ডোনাল্ড। তাইতো শিষ‌্যকে স্তুতিতে ভাষাতেও কার্পণ্য করেননি প্রোটিয়া কোচ।

বুধবার সিলেটে সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড বলেছেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে ১২ মাস আগে তাকে যেভাবে দেখেছিলাম তার চেয়ে অনেক শাণিত এখন। নিজেকে নতুন করে আবিস্কার করতে মুখিয়ে থাকে। তাকে যদি বলা হয় এই জায়গায় উন্নতির প্রয়োজন। সে ওটা নিয়ে কাজ করে যাবে। চেষ্টা করবে ত্রুটিহীন থাকার।’

‘ইবাদতের সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে, সে সব সময় ম‌্যাচে থাকে। চার-ছক্কা খেলেও তার মাথায় ওসব থাকে না। আমি নিশ্চিত থাকতে পারেন প্রতি ম‌্যাচে তার উইকেটের কলামে কিছু না কিছু যুক্ত হবেই। ১৪৫-১৪৮ কি.মি. -এর আশেপাশে থাকা বোলারদের একজন সে। বলার অপেক্ষা রাখে না এখনকার সময়ে গতি দিয়েই সবাই রাজত্ব করছে। প্রথম ম‌্যাচে যেটা সে করে দেখিয়েছে। সিলেট রকেট। সে এমন একজন অ্যাথলেট যার ইঞ্জিন দুর্দান্ত। কাজ করার জন্য দারুণ শিষ্য। পেস বোলার হতে যে চ্যালেঞ্জ প্রয়োজন সমস্ত কিছু জিতেছে সে। তিন ফরম্যাটে ধারাবাহিকভাবে খেলানোর মতো উপযুক্ত। আমরা সেসব নিয়েই দীর্ঘদিন কাজ করেছি। ট্যাকটিকাল দিকগুলো যেগুলো মাঠে বেশি খাটাতে হয়। প্রতিটি ম্যাচে তিন ফরম্যাটেই যা কার্যকরী হয়।’ –যোগ করেন ডোনাল্ড।

ইয়াসিন/আমিনুল

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়