ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ১১ ১৪৩১

আকবর আলীর কোনো তাড়া নেই…

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:২৩, ১৮ এপ্রিল ২০২৩   আপডেট: ১৯:৫৩, ১৮ এপ্রিল ২০২৩
আকবর আলীর কোনো তাড়া নেই…

তার নেতৃত্বে বৈশ্বিক কোনো আসরে বাংলাদেশ প্রথমবার ট্রফি জেতে। ২০২০ সালের সেই আকবর আলী এখন অনেক পরিণত। এবার চলমান ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে। তার নেতৃত্বে বিশ্বকাপজয়ী দলে খেলা কয়েকজন ক্রিকেটার জাতীয় দলে নিজেদের জায়গা পোক্ত করেছেন। ক্রিকেট বোর্ডের ভাবনার মধ্যে থাকলেও আকবর যেন সেই পথ থেকে খানিকটা দূরে। অন্য সবার মতো তার লক্ষ্য একটাই, জাতীয় দলে খেলা। তবে এখানে আছে একটু ভিন্নতা, আকবর আলীর কোনো তাড়া নেই। আরও পরিণত হয়ে, নিজেকে তৈরি করে গায়ে জড়াতে চান লাল সবুজের জার্সি। 

রাইজিংবিডির সঙ্গে খোলামেলা আলাপে আকবর আলী জানিয়েছেন তার বর্তমান অবস্থান হতে শুরু করে ভবিষ্যৎ লক্ষ্যের কথা। পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো।

ঢাকা লিগ কেমন চলছে?
আকবর আলী
: ডিপিএল ভালো চলতেছে আলহামদুলিল্লাহ। তিনটা ফিফটি হয়েছে আমার, কিন্তু আমি আরও দুইটা ইনিংস বড় করতে পারতাম। ২০-৩০ করে যেগুলোতে আউট হয়েছি ওগুলো বড় করার সুযোগ ছিল। তিনটা ইনিংসে নটআউট ছিলাম, একটা ব্যাটিংয়ের সুযোগ হয়নি। সবমিলিয়ে কিছু ইনিংস বড় করতে পারতাম।

আপনার নেতৃত্বে যুব বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। ঘরোয়াতেও নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়। চলমান ঢাকা লিগেও আছেন নেতৃত্বে। কেমন উপভোগ করছেন নেতৃত্ব?
আকবর আলী:
আমি যেখানেই ক্যাপ্টেন্সি করি, আমার মনে হয় টিম ম্যানেজমেন্ট ভরসা করে। তাদের ধন্যবাদ যে, গাজী গ্রুপ আমাকে এই সুযোগটা দিয়েছে। আমাদের দলে অনেক সিনিয়র ক্রিকেটার আছে তাদেরকে নেতৃত্ব দিচ্ছি। আর আমি যেখানেই ক্যাপ্টেন্সি করি সেখানেই উপভোগ করি। এটাকে আমি বাড়তি চাপ হিসেবে দেখি না, কেননা এটা মাঠে বাড়তি দায়িত্ব ছাড়া আর কিছুই না। আর যখন ক্যাপ্টেন না থাকি আমার ইনপুট ক্যাপ্টেনকে দেওয়ার চেষ্টা করি। কারণ, আমি উইকেটকিপার আর উইকেটের পিছন থেকে মাঠটা ভালো বোঝা যায়। ক্যাপ্টেন নিবে কিনা সেটার তার ব্যাপার তবে আমার মাথায় কিছু আসলে শেয়ার করি।

সিনিয়রদের যখন নেতৃত্ব দেন তখন তাদের কঠিন কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে কোনো অস্বস্তি লাগে কি না?
আকবর আলী:
আপনি যখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় থাকবেন তখন আপনি সবাইকে সবসময় খুশি করতে পারবেন না। যখন আপনার উপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার থাকবে আপনি ১০টা নিলে ৮টায় হয়তো সবাই খুশি হবে বাকি দুইটাই হবে না। কিন্তু আমরা সবাই পেশাদার, সবাই এভাবেই এটা ডিল করে। আমি যত দলেই অধিনায়কত্ব করেছি খুব ভালো টিমমেট পেয়েছিলাম। এজন্য আমার কাজটা অনেক সহজ হয়ে গেছে। এখন গাজী গ্রুপে ক্যাপ্টেন্সি করছি আমার মনে হয় গাজী গ্রুপ একটা পরিবারের মতো। এখানে যারা সিনিয়র আছে জুনিয়রদের সাথে মিলেমিশে থাকে কোনো সমস্যা হয় না।

কোন পজিশনে ব্যাটিং করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
আকবর আলী:
দেখেন আমিতো চার-পাঁচে খেলতে পছন্দ করি। তবে অনেক সময় বিভিন্ন দলে কম্বিনেশনের কারণে বা কোচের একটা চাহিদা থাকে যে তিনি আমাকে কোন রোলটা প্লে করতে বলবেন। আমি ব্যাটিং অর্ডারে সব জায়গাতেই ফ্লেক্সিবল। এখানে আমি চারে নেমেও ফিফটি করেছি আটে নেমেও ফিফটি করেছি। পাঁচে নেমেও একটা ফিফটি করেছি। তো, টিম ম্যানেজমেন্ট যেখানে চায় আমি সেখানেই খেলতে রাজি আছি সমস্যা নাই। তবে একটু উপরে নামলে নিজের জন্য ১০/১৫টা বল বেশি পাই। কিন্তু নিচের দিকে দ্রুত বাউন্ডারির দিকে ঝুঁকতে হয়।

টি-টোয়েন্টি বদলে দিয়েছে ক্রিকেটকে। সব সংস্করণে আগ্রাসী খেলার প্রবণতা বাড়ছে। এটা নিয়ে আপনার কি ভাবনা?
আকবর আলী:
আমি চেষ্টা করি স্ট্রাইক রেট মেইনটেইন করার। কারণ, বর্তমানে সাদা বলে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকক্ষেত্রে যারা নিচে ব্যাটিং করে তাদের জন্য গড় নয় স্ট্রাইক রেট আসল বিষয়। আমিও ১০০ এর আশেপাশে বা ৯০ এ স্ট্রাইক রেট মেইনটেন করার চেষ্টা করি। যেমন বললেন ক্রিকেটটা পরিবর্তন হয়েছে অনেক, রানের খেলা হয়ে গেছে। সেটা অবশ্যই মাথায় থাকে, স্ট্রাইক রেট নিয়ে। আমি গতবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে সাড়ে চারশোর উপর রান করেছি, যেখানে একশোর উপরে স্ট্রাইক রেট ছিল। এবারও যে রান হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ ৯০ এর উপরে স্ট্রাইক রেট আছে।

যুব বিশ্বকাপে আপনার নেতৃত্বে খেলা তৌহিদ হৃদয়-শরিফুল ইসলামরা জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন। কখনো এমন চিন্তার হয় কি না তারা পেরেছে আমি পারলাম না এখনো…
আকবর আলী:
 সত্যি কথা বলতে আমি এটা নিয়ে চিন্তা করি না। কারণ, আমি বিশ্বাস করি হাতে এখনও অনেক সময় আছে যদি পারফর্ম করতে পারি ওখানে অবশ্যই সুযোগ আসবে। আর যেটা অ্যাজ এ প্লেয়ার সবারই লক্ষ্য থাকে জাতীয় দলে খেলার। ওই লক্ষ্যটা অবশ্যই আছে, ওটাকে সামনে রেখেই সবাই কাজ করে, আমিও করছি। তবে এমন কোনো তাড়া নেই যে আমার এখনই খেলতে হবে।

হৃদয়-শরিফুলদের সঙ্গে দেখা হলে কি কথা হয় আপনাদের মাঝে?
আকবর আলী:
 আমাদের ওই দলের যারা এখন খেলছে তাদের সঙ্গে সবসময় দেখা হয়। সেখানে কিরকম স্ট্রেস, চ্যালেঞ্জ সবকিছু জানতে পারি তাদের কাছে।

আপনি একজন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। বর্তমান জাতীয় দলের দিকে তাকালে আপনার জন্য জায়গা করে নেওয়া কঠিন। এমন কোনো চিন্তা হয় কি না?
আকবর আলী:
আমি এভাবে চিন্তা করি না, আমি শুধু আমার কাজে ফোকাস করি। আমার হাতে আছে আমার নিজের কাজ ভালো করে করার আমি সেটাই চেষ্টা করি। অন্য কোনো চিন্তা আমি করি না। জাতীয় দলে সব পজিশনই কঠিন, কোনো পজিশনই সহজ না।

আপনি উপরের দিকে ব্যাটিং পছন্দ করেন। কিন্তু আপনাকে পাঁচ কিংবা তার পরেই বেশি ব্যাটিং করতে দেখা যায়। অর্থ্যাৎ ফিনিশিং রোল প্লে করতে হয়। ফিনিশিং নিয়ে কি ভাবনা?
আকবর আলী:
এটা অনেক চ্যালেঞ্জিং জায়গা। অনেক সময় প্রথম বল থেকেই হিট করতে হয়। আমাকে যখন ফিনিশের রোল দেওয়া হয়, তখন চেষ্টা করি নটআউট থেকে ম্যাচ শেষ করার। আউট হলেও যেন লাস্ট বা সেকেন্ড লাস্ট ওভারে হই আর কি!

ঘরোয়া টুর্নামেন্টে ভিন্ন ভিন্ন কোচদের সঙ্গে কাজ করতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে কার সঙ্গে কাজ করছেন?
আকবর আলী:
এইচপিতে যতদিন ছিলাম এহসান স্যারের সাথে কাজ করেছি। সেটা শেষ হওয়ার পর এনসিএল একজন কোচ আসছেন, বিসিএলে কোচ ছিলেন, প্রিমিয়ার লিগে রাজিন ভাই তুষার ভাই ছিলেন। তো শুধু এহসান স্যারের সাথেই লম্বা সময় ধরে কাজ করেছি। এছাড়া নির্দিষ্ট কারো সাথে লম্বা সময় ধরে কাজ করিনি।

ঢাকা/আমিনুল

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়