ঢাকা     সোমবার   ১৭ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৩ ১৪৩১

‘আমি পরিপূর্ণ অলরাউন্ডার হলে বাংলাদেশের লাভ’

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৪৮, ৪ জুন ২০২৩   আপডেট: ১২:৫৩, ৪ জুন ২০২৩
‘আমি পরিপূর্ণ অলরাউন্ডার হলে বাংলাদেশের লাভ’

‘সাকিব ভাই তো একদিনে হয়নি। সময় লেগেছে। আমারও সময় আছে। আমি যদি অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে পারি তাহলে বাংলাদেশ দলের উপকার হবে।’ – কথাগুলো মেহেদী হাসান মিরাজ বলছিলেন আর চোখে মুখে বড় স্বপ্ন ঝিলিক দিচ্ছিল। ঊনিশের আগে জাতীয় দলে পা মাড়িয়ে মিরাজ নিজেকে কেবল বোলার হিসেবে মেলে ধরেছিলেন। বড় মঞ্চে কন্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে পারফরম‌্যান্সের ঘোড়া ছুটিয়ে মিরাজ এখন দলের অন‌্যতম ভরসা।

সামনে জাতীয় দলের ব‌্যস্ত সূচি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টসহ পূর্নাঙ্গ সিরিজ। এরপর এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ। দম ফেলার ফুরসত-ই পাবেন না। ব্যস্ত সময় শুরুর আগে রাইজিংবিডির মুখোমুখি হয়ে নিজের ভাবনা, পরিকল্পনা ও স্বপ্নের কথা শুনিয়েছেন মিরাজ। তার কথা শুনেছেন সাইফুল ইসলাম রিয়াদ।

অনুশীলনের ফাঁকে ব্যক্তিগত কাজ, নিজের জন্য কিছুটা সময় পাওয়া গেলো অন্তত। কেমন কাটছে সময়? 
মিরাজ:
এখন ভালো যাচ্ছে। পরিবার নিয়ে সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছি। আফগানিস্তান আসছে, জাতীয় দলের অনুশীলন শুরু হয়ে যাবে। সামনেতো আরও ব্যস্ত হয়ে যাবো, এশিয়া কাপ আছে, বিশ্বকাপ আছে। সবকিছুতে ধারাবাহিকতা রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ।   

জাতীয় দলের খেলা না থাকলে সবচেয়ে বেশি কি করা হয়? 
মিরাজ:
অবসর সময়ে আমার শেরকে (পুত্র) নিয়ে খেলা হয়। এখনও আমরা খেলছি (হাসি) ।

আফগানিস্তান সিরিজ থেকে টানা খেলা, আছে বিশ্বকাপের মতো বড় আসর। সব মিলিয়ে মানসিকভাবে প্রস্তুত তো?
মিরাজ:
মানসিকভাবে প্রস্তুত। প্রস্তুতি নিচ্ছি ধাপে ধাপে। সামনে টেস্ট ম্যাচ আছে, সেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিন-চারদিন ধরে অনুশীলন করছি। ভালো প্রস্তুতি চলতেছে সবমিলিয়ে।

মাঝে কাউন্টিতে খেলা নিয়ে কথা উঠেছিল। কতদূর এগোলো? 
মিরাজ:
(জ্যাক) লিনটটের সঙ্গে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ চলার সময় শুধু কথা হয়েছিল কাউন্টি নিয়ে। এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কিছু আগায়নি। আমারতো খেলা আছে জাতীয় দলে, মনে হয় না এরকম সুযোগ পাব। 

বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলা নিয়ে কি ভাবনা আপনার? 
মিরাজ:
ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলতে পারলে অভিজ্ঞতা হতো। সামনে যদি সুযোগ থাকে অবশ্যই খেলবো যদি জাতীয় দলের সূচি না থাকে। 

বোলার মিরাজ হিসেবে জাতীয় দলে শুরু, এখন ব্যাটসম্যান মিরাজের দিকে তাকিয়ে থাকে সবাই। ব্যাটিং উপভোগ করছেন?
মিরাজ:
আপনি যদি দেখেন আমি আগে সুযোগ (ব্যাটিংয়ের) পেতাম না। এখন যেহেতু সুযোগ পাচ্ছি, দলকে যতটুক সাহায্য করা যায় করছি। অনেক ভালোই চলছে। ব্যাটিংটা নিয়ে অনেক আত্মবিশ্বাসী হয়েছে আগে থেকে। এখনো অনেক উন্নতি করার বাকি আছে, এটা যদি ধরে রাখতে পারি ভালো হবে। 

আপনার ব্যাটিং পজিশন অনুযায়ী দ্রুত রান তুলতে হয়। কোন দিকে নজর দিচ্ছেন বেশি?
মিরাজ:
আমি আগে বোঝার চেষ্টা করছি আমার দায়িত্বটা কী। কারণ আমি যখন ব্যাটিংয়ে নামি সময় (বল) অল্প থাকে। রান করা লাগে বেশি। সেক্ষেত্রে আমি যদি স্ট্রাইক রেট একশর কাছাকাছি বা একশর বেশি করতে পারি তাহলে আমার জন্য টিমের জন্য ভালো হবে।  

কোন পরিচয় পেতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন? অলরাউন্ডার মিরাজ? নাকি বোলার মিরাজ?  
মিরাজ:
সবসময় অলরাউন্ডার মিরাজ ডাক শুনতে ভালো লাগে।

 

সাকিব আল হাসানের বিকল্প ভাবা হচ্ছে আপনাকে। বোর্ড প্রেসিডেন্টও বলেছেন, কেউ যদি সাকিবের মতো হতে পারে সেটি মিরাজ। আপনার কি মনে হয়? 
মিরাজ:
অলরাউন্ডার যখন টিমের মধ্যে থাকে আলাদা সুবিধা পায় টিম। এখন যেহেতু ব্যাটিং-বোলিং দুটাই করতে পারি, সুযোগ আছে অলরাউন্ডার হওয়ার। সাকিব ভাইতো একদিনে হয়নি, সাকিব ভাই খেলতে খেলতে ভালো করেছে। আমরাও সময় আছে, আমরাও অনেক উন্নতি করার জায়গা আছে, আমি যদি সেটি করতে পারি তাহলে বাংলাদেশেরই লাভ। দুই বিভাগ থেকে আমার সার্ভিস পাবে। 

তার মানে নিজেকেই নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার হিসেবে দেখতে চান?  
মিরাজ:
পজিশনতো একদিনে সম্ভব না। আমি যদিও ভবি্ষ্যত নিয়ে চিন্তা করি না, প্রক্রিয়া মেনে চলার চেষ্টা করি। বর্তমানে চেষ্টা করছি ব্যাটিং-বোলিং দুটাতেই যেন অবদান রাখতে পারি। সামনে যদি সুযোগ থাকে র্যাংকিংয়ে নাম্বার ওয়ান হওয়ার, সেটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করবো। কিন্তু নাম্বার ওয়ান (অলরাউন্ডার) হতেই হবে এটা একটা আলাদা চাপ। আমি চেষ্টা করবো। আর নাম্বার ওয়ানই হতে হবে এরকম না। 

ক্যামেরায় যতটুক দেখা যায় তাতে বোঝা যায় সাকিবের সঙ্গে আপনার রসায়ন বেশ ভালো। দুজনের মধ্যে যখন কথা হয় তখন সবচেয়ে বেশি কি নিয়ে কথা হয়? 
মিরাজ:
খেলা নিয়ে হয়, খেলার বাইরে হয়। ফাইজলামি হয়। উনি (সাকিব) দুষ্টামি করেন জুনিয়রদের সঙ্গে। শান্ত আছে, লিটন আছে, সবার সঙ্গে দুষ্টামি করেন। সিনিয়র প্লেয়ারদের থেকে এমন ব্যবহার জুনিয়রদের বুস্টআপ করে। 

ভারতের বিপক্ষে আপনার ব্যাটিং পারদর্শীতা দেখেছে বিশ্ব। আপনার ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস/সিরিজ কি না? 
মিরাজ:
আমার জীবনের সেরা ইনিংসের মধ্যে এগুলো অবশ্যই আছে। কারণ দুটোই ছিল অসম্ভব। 

কোহলি-রোহিতদের সঙ্গে কোনো কথা হয়েছে? অভিনন্দনতো নিশ্চয় জানিয়েছে তখন। এরপর? 
মিরাজ:
সত্যি কথা বলতে কোহলিরা কখনো ভাবতে পারে নাই আমি এভাবে ইনিংস খেলতে পারি। ওরা কখনো চিন্তা করে নাই আমাকে নিয়ে। আমার একটা লক্ষ্য ছিল কিছু একটা করে দেখাবো। সেটা হয়েছে, সম্পূর্ণ কৃতিত্ব আল্লাহকে দিতে চাই।

কদিন আগে হেরাথ বলেছেন, বিশ্বকাপের জন্য স্পিনারদের তৈরি করছেন তিনি। যেন বৈরি কন্ডিশনেও ভালো করা যায়। এখন থেকেই কি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু আপনাদের? 
মিরাজ:
বিশ্বকাপে উইকেট ভালো হয়। বড় রান হয়। এখানে বোলারদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। এখানে চ্যালেঞ্জ নিয়ে খেলতে হবে। সুযোগ আসলে সেটি যেন ভালোমতো নিতে পারি সেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। 

হাথুরুসিংহেকে কড়া হেডমাস্টার বলা হয়ে থাকে। আপনার কাছে কি মনে হয়? 
মিরাজ:
হাথুরুসিংহে কড়া হেডমাস্টার। আসলেই সে কড়া হেডমাস্টার। কিন্তু তার অনেক অভিজ্ঞতা আছে, তার অনেক ভালো বিচক্ষণ গুণ আছে। যেটার জন্য সে সফল। বিশেষ করে দলকে কিভাবে প্রেরণা যোগাতে হয়, প্লেয়ারের কাছ থেকে কিভাবে পারফরম্যান্স বের করে নিয়ে  আসতে হয়, কার সঙ্গে কিভাবে কাজ করতে হবে এগুলো খুব ভালো জানেন। এ জন্য তিনি প্লেয়ারদের জন্য খুব ভালো একটা কোচ।  

বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে আপনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। সাকিব-তামিমের পরবর্তী প্রজন্মে আপনারই দেশের ক্রিকেটের কান্ডারি। নেতৃত্ব নিয়ে আপনার ভাবনা কি?
মিরাজ:
এখন এসব নিয়ে ভাবছি না। খেলার মধ্যে আছি, খেলছি, নিজের অবস্থান পোক্ত করার চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতে যখন এমন সুযোগ আসবে তখন চিন্তার করবো। এখন খেলা নিয়ে থাকি।  

এখন পর্যন্ত জাতীয় দলের কোনো সংস্করণে নেতৃত্বের প্রস্তাব আসছে কি না? 
মিরাজ:
এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোনো সিঙ্গেল ম্যাচ, সিরিজে নেতৃত্বের কোনো প্রস্তাব আসেনি। 

আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে জয়ের সম্ভাবনা কতটুক। প্রথমবার হেরেছেন, এবার জয়ের জন্য প্রস্তুত? 
মিরাজ:
আন্তর্জাতিক খেলা এত সহজ না। যাদের সঙ্গেই খেলেন কষ্ট করে জিততে হবে। ছোট বলতে কিছু নেই। এর আগে আমরা আফগানিস্তানের সঙ্গে হেরেছি। টেস্ট ক্রিকেট যারা ৫ দিন ভালো খেলে তারাই ম্যাচটা জিতে। আমাদের সুযোগ আছে, আমাদের দলের অভিজ্ঞতা ভালো যেহেতু অনেক দিন ধরে খেলছে, আমাদের হোমগ্রাউন্ড আমরা অ্যাডভান্টেজ পাবো। কিন্তু আমাদের কষ্ট করে জিততে হবে। আমি বলবো ওদের সঙ্গে জিতবই এরকম না, তবে খেলা ভালো হবে। প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ হবে।  

সবশেষ, বিশ্বকাপ নিয়ে সবাই স্বপ্ন দেখছে। আপনি পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে বাস্তবতাও বোঝেন। আপনি কি ভাবছেন? বাংলাদেশ কতটুক পর্যন্ত যেতে পারে?  
মিরাজ:
সবাই যদি ঠিকমতো সবার সেরাটা খেলতে পারে তাহলে আমাদের প্রথম লক্ষ্য থাকবে সেমি ফাইনালে খেলা। তারপর ভাগ্য সহায় হলে একটা ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠে যাবো, আবার ভাগ্য সহায় হলে চ্যাম্পিয়ন হবো। এটা অনেক দূরের ব্যাপার, কষ্টের ব্যাপার, চিন্তার ব্যাপার এবং অনেক হিসাব-নিকাশ আছে। কিন্তু আমরা স্বপ্ন দেখবো (বিশ্বকাপ ট্রফির)।

ঢাকা/ইয়াসিন

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ