ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৪ ১৪৩১

কিছু মানুষের জন্য আমি দায়িত্ব ছাড়ব কেন: মিনহাজুল

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৩৮, ১৬ জানুয়ারি ২০২৪   আপডেট: ১৩:৩৮, ১৬ জানুয়ারি ২০২৪
কিছু মানুষের জন্য আমি দায়িত্ব ছাড়ব কেন: মিনহাজুল

আশির দশক থেকে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচিত ছিলেন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশকে। ক্রিকেট জীবন শেষে কোচিংয়ে এসেছিলেন। নির্বাচকের দায়িত্ব পালনে দীর্ঘায়িত হয়নি কোচিং ক্যারিয়ার। ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো আসেন নির্বাচক প্যানেলে। পাঁচ বছর পর দায়িত্ব আসে প্রধান নির্বাচকের। যার মেয়াদ শেষ হয় গত ৩১ ডিসেম্বর। তবে নতুন প্যানেল আসা পর্যন্ত নান্নু বহাল থাকবেন স্বপদে।

রাইজিংবিডিকে একান্ত সাক্ষাৎকারে নান্নু জানিয়েছেন নির্বাচক হিসেবে তার পথচলার গল্প। পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো।

রাইজিংবিডি: প্রধান নির্বাচক হিসেবে সময়টা কেমন উপভোগ করেছেন?
মিনহাজুল:
যথেষ্ট ভালো। অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। কিছু কিছু পজেটিভ ওয়ার্ক ছিল। সব মিলিয়ে আমি সন্তুষ্ট। 

রাইজিংবিডি: ফের দায়িত্ব আসলে কিভাবে বিবেচনা করবেন?
মিনহাজুল:
এটা অনেক চ্যালেঞ্জিং জব। আমরা যে প্রক্রিয়ায় যাচ্ছি অন্য নির্বাচক প্যানেলে যারা আসবে তাদের প্রক্রিয়াটাও এই রকমই থাকবে। সুতরাং এভাবেই যেতে হবে।

রাইজিংবিডি: দল নির্বাচন হয় উপর থেকে, এটা নিয়ে  আলোচনা-সমালোচনা এমনকি ট্রলও হয়। আপনার ব্যাখা কি?
মিনহাজুল:
 যারা না জেনে ট্রল করে, জেনে-শুনে যেগুলো পজিটিভ নিউজ করার চেষ্টা করেন। কারণ, না জেনে কথা বলা ঠিক না। সুতরাং জেনে তারপর নিউজ করেন। আমরা যেভাবে কাজ করে যাচ্ছি, এবং এটা জানা উচিত কাকে নিয়ে করছে। আমিও সাবেক ক্যাপ্টেন। শহীদের সন্তান, সুতরাং সবকিছু চিন্তা ভাবনা করে ট্রল করা উচিত।

রাইজিংবিডি: সমালোচনায় কখনও কী মনে হয়েছে ছেড়ে দিই, আর না…
মিনহাজুল:
কিছু মানুষের জন্য আমি ছাড়ব কেন? বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য আমাদের অনেক অবদান আছে। যে সমস্ত লোকের দেশের জন্য কোনো অবদান নেই, ওদের কথায় কেন আমাদেরকে সরতে হবে।

রাইজিংবিডি: ওপেনিংয়ে সমস্যা দীর্ঘ দিনের। কোনো ব্যাকআপ ওপেনার নেই। এটার কারণ কি হতে পারে? 
মিনহাজুল:
একটা প্রতিষ্ঠিত প্লেয়ার সরে গেলে একটু সময় লাগে। দুই-তিনটা সিরিজ পর ধারাবাহিকতা আসে। আশা করছি সামনের কয়েকটা সিরিজের মধ্যে সেটি চলে আসবে।

রাইজিংবিডি: শান্তর জন্য আপনারা অনেক সময় নিয়েছিলেন। সে দারুণ খেলছে। সে কি আস্থার জবাব দিতে পারছে?  
মিনহাজুল:
আমরা নির্বাচক প্যানেলে যারা আছি সবাই সাবেক খেলোয়াড়। আমরা মেধা যাচাই সব সময় করি। প্লেয়ারদের উপর বিশ্বাস থাকা আস্থা থাকাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই আস্থার জন্য শান্ত আজকে এতটুকু এসেছে।

রাইজিংবিডি: কিন্তু ইমরুল কায়েস-এনামুল হক বিজয়রা অন্যদের চেয়ে কম সুযোগ পেয়েছে বলে মনে করেন কি না? 
মিনহাজুল:
সব প্লেয়ারকে সমানভাবে মনিটরিং করা হয়। যাকে নিয়ে চিন্তা ভাবনা পজিটিভ থাকে, তাকে আমরা সুযোগ দেই। এখানে কোনো বঞ্চিত করার বিষয় নেই। সবাইকে সমানভাবে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

রাইজিংবিডি: সৌম্য সরকারের জাতীয় দলে আসার প্রক্রিয়া কি ঠিক ছিল?
মিনহাজুল:
একটা অভিজ্ঞ প্লেয়ারকে ফর্মে আনার জন্য যতটুকু করা দরকার সেটা যথেষ্ট চেষ্টা করেছি। নিউজিল্যান্ড সিরিজে ওর এক্সপেরিয়েন্স ও ঠিকই কাজে লাগাতে পেরেছে। 

রাইজিংবিডি: অনেকে মনে করেন হাথুরুসিংহের কারণে সৌম্য সুযোগ পেয়েছেন… 
মিনহাজুল:
এখানে টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে নির্বাচক প্যানেলের বোঝাপড়া না থাকলে তো টিমের সফলতা আসে না। সুতরাং আমরা টিম ওয়ার্ক হিসেবে কাজ করি ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে। একটা ভালো বোঝাপড়া থাকলে সম্ভাব্য সেরা দল দাঁড় করানো যায়।

রাইজিংবিডি: তামিমের হঠাৎ অবসরে চলে যাওয়া আপনাদের ব্যর্থতা কী না? 
মিনহাজুল:
এটা নিয়ে কিছু বলতে চাই না। ওকে আমরা মিস করছি।

রাইজিংবিডি: দেশের উইকেট নিয়ে সমালোচনাটা একটু বেশি হয়ে থাকে। উইকেট নির্মাণে ভূমিকা কতটুকু আপনাদের?
মিনহাজুল:
উইকেট নিয়ে কোনো সমালোচনা করা উচিত না। তিনটা ভেন্যুতে খেলা হয়। উইকেট তৈরিতে কোনো ভূমিকা নেই আমাদের।

রাইজিংবিডি: অনেক অপেক্ষার পর সম্প্রতি টেস্টে নজরকাড়া সাফল্য এসেছে। এই ধারাবাহিকতা থাকবে? এর চ্যালেঞ্জটা কি আসলে?
মিনহাজুল:
এখানে টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে একটা টিমওয়ার্ক ছিল। টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে নির্বাচক প্যানেলের যথেষ্ট ভালো বোঝাপড়া ছিল। এ জন্য আমরা এই সাফল্যটা পেয়েছি। প্রক্রিয়া কিন্তু প্রায় একই। প্রক্রিয়া এবং লাল বলের ক্রিকেটটাকে আরও প্রতিষ্ঠিত করলে ইনশাল্লাহ টেস্ট ক্রিকেটে আমরা আরও কিছু ভালো দিক দেখতে পারব ইনশাল্লাহ।

রাইজিংবিডি: আপনার নির্বাচক প্যানেল পেস বোলারদের নিয়ে কাজ করেছেন, সময় দিয়েছেন, সাপোর্ট দিয়েছেন। পেস বোলার নিয়ে বাজি ধরেছিলেন কেন?
মিনহাজুল:
পেস বোলারদের নিয়ে কাজের একটা সন্তুষ্টি আছে। বাইরে আপনি যে কোনো জায়গায় খেলতে যান, পেস বোলারদের উপর ডিপেন্ড করতে হয়। তাদের পারফরম্যান্স কিন্তু যথেষ্ট মূল্যবান। সেই হিসেবে চিন্তা করে পেস বোলিং ইউনিটের বোলারদের সংখ্যা আমরা বাড়িয়েছি। আমরা হাই পারফরম্যান্স ইউনিটে যথেষ্ট যত্ন নিয়েছি পেস বোলারদের। আমাদের ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে পেস বোলাররা যাতে এক্সট্রা বোলিং করতে পারে সে জন্য ৮০ ওভারে বাধ্যতামূলক নতুন বল দিয়ে দিয়েছি। সেই হিসেবে অনেক কিছু পরিবর্তন এনে কিন্তু এদের স্থায়িত্ব এসেছে।

রাইজিংবিডি: যে কোনো ঘরোয়া টুর্নামেন্টের নির্বাচকদের উপস্থিতি থাকে। এই সংস্কৃতিতে কতটা উপকৃত হয়েছেন?
মিনহাজুল:
সব প্লেয়ারদের মনিটরিং করাটা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। আমরা প্লেয়ারদের শুধু পারফরম্যান্স না সবকিছু ফলো করি। সবকিছু পরিবর্তনের জন্য কিন্তু মনিটরিংটা করা। এনসিএল থেকে শুরু করে প্রিমিয়ার ডিভিশন সব খেলাই কিন্তু আমরা অবজার্ভ করি। ওইভাবে কিন্তু মনিটরিংটা করি।

রাইজিংবিডি: ওয়ানডে দলের ধারাবাহিকতাই কি আপনাদের সবেচেয়ে বড় অর্জনগুলোর মধ্যে একটি?
মিনহাজুল:
এটা একটা বড় অর্জন। তিন নম্বরের মধ্যে থাকা এখানে তো অবশ্যই প্লেয়ারদের পারফরম্যান্স ধরতে হবে। স্বাধীনতার পর থেকে এই ফরম্যাটে আমাদের স্থায়িত্বটা বেশি। ধারবাহিকভাবে এই প্রক্রিয়ায় গেলে সামনে আরও উপরে দিকে যাওয়ার আশা আমরা দেখছি।

রাইজিংবিডি: টি-টোয়েন্টিতেও খানিকটা ধারাবাহিক বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে কেমন প্রত্যাশা?
মিনহাজুল:
২০২৩ পুরোটা টি-টোয়েন্টিতে ভালো গেছে। ধারাবাহিকভাবে এই প্রক্রিয়াটা আমরা চাচ্ছি। বিশ্বকাপের আগে খেলোয়াড়রা বিপিএলে খেলার সুযোগ পাবে। তারপরে শ্রীলঙ্কা সিরিজ আছে, জিম্বাবুয়ে সিরিজ তারপরে বিশ্বকাপে খেলতে যাবে। এই প্লেয়ারদের মধ্যে যে অভিজ্ঞতা পাবে সেটি পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারলে বিশ্বকাপে ভালো করবে আশা করি।

রাইজিংবিডি: সবচেয়ে কঠিন সময় কখন পার করেছেন? 
মিনহাজুল:
কোভিডের পরে যে বিশ্বকাপ ২০২১ সালে আমরা খেলেছিলাম, তখন আমাদের কঠিন সময় গিয়েছিল। শেষে কিন্তু ওভারকাম করা হয়েছে। ওভারঅল দীর্ঘ পথচলায় একটা ওঠা নামা থাকে। ওঠা নামার মধ্যেই কিন্তু একটা সফলতা আসে। তবে এখন টেস্ট ক্রিকেট বলেন, ওয়ানডে বলেন, টি-টোয়েন্টি বলেন- তিন ফরম্যাটে কিন্তু নাম্বার অব প্লেয়ারের সংখ্যা বেড়েছে। কিছু ভালো পারফর্মার এসেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট যে উপরের দিকে যাচ্ছে আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে দেখবেন আরও ভালো অবস্থানে যাচ্ছে। 

রাইজিংবিডি: বিপিএলে অনেক দেশি কোচ দেখা যাচ্ছে… 
মিনহাজুল:
এটা খুবই ইতিবাচক দিক, আমাদের লোকাল কোচরা কাজ করছে। পারফরম্যান্সটা খুব গুরত্বপূর্ণ। ওরা যে এক্সপেরিয়েন্সটা পাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সাহস যোগাবে অন্য কোচদের।

রাইজিংবিডি: যদি নির্বাচক পদে না থাকেন কিভাবে ক্রিকেটের সঙ্গে থাকবেন? 
মিনহাজুল:
এটা এই মুহূর্তে বলা কঠিন। আগে এই মেয়াদটা শেষ করি তারপর ডিসিশন নিবো। ক্রিকেটের সাথে থাকব এটা নিশ্চিত।

রাইজিংবিডি: আপনাকে ধন্যবাদ। সময় দেওয়ার জন্য। 
মিনহাজুল: আপনাকেও ধন্যবাদ।

ঢাকা/আমিনুল

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়