ঢাকা     বুধবার   ২৯ মে ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪৩১

আরেকটি বিশ্বকাপ স্বপ্নযাত্রায় বাংলাদেশ 

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২৩, ১৫ মে ২০২৪   আপডেট: ২২:৩৪, ১৫ মে ২০২৪
আরেকটি বিশ্বকাপ স্বপ্নযাত্রায় বাংলাদেশ 

হোম অব ক্রিকেটের সবুজ গলিচায় গুণে গুণে ১৫ চেয়ার রাখা। রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরিতে কয়েকবার সরাতে হয়েছে। মঞ্চ প্রস্তুত। এবার বাংলাদেশের স্বপ্ন সারথিদের আগমনের অপেক্ষা। পূর্ব নির্ধারিত সময় তখন পার। হঠাৎ দেখা মেলে তাদের। একে একে বের হতে থাকেন ড্রেসিংরুম থেকে। 

কেন এমন দেরি তা বোঝা গেলো নাজমুল হোসেন শান্তদের বেশ-ভূষা দেখে। কেতাদুরস্ত যাকে বলে। স্যুটেড-বুটেড। বুধবার সকাল থেকে অনুশীলনের পর তৈরি হতে একটু সময় লাগে। হালকা আকশি রঙের শার্টের সঙ্গে ছাই রঙা প্যান্ট, গায়ে জড়ানো কালো রঙের ব্লেজার, গলায় সবুজ-হলুদ আবরণের টাই। একে একে আসেন সকলে, গ্রহণ করেন আসন। 

সবকটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সাকিব আল হাসান এখানেও ছিলেন ব্যতিক্রম, চেয়ারে বসে সতীর্থদের খুনসুটির সঙ্গে দিচ্ছিলেন কীভাবে বসতে হবে তার টিপস। অথচ ফটোসেশনে অংশ না নেওয়া নিয়ে সাকিব বেশ কয়েকবার খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন। তবে এবার ছিলেন মধ্যমণি হয়ে। 

ভারত বিশ্বকাপের আগে তাড়াহুড়ো করে বিমানবন্দরের সামনে কোনোমতে সবাই দাঁড়িয়ে একটি ছবি তোলেন। তৎকালীন অধিনায়ক সাকিব ছিলেন ব্যাক বেঞ্চার। সবার পরে আসেন দৌড়াতে দৌড়াতে। এবার তেমন কিছু দেখা যায়নি। সবকিছু ছিল গোছানো, পরিপাটি। 

তিন ধাপে হয় এবারের ফটোসেশন। প্রথম ধাপে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকা ১৫ সদস্য। পরের ধাপে যুক্ত হন প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেসহ কোচিং স্টাফের সদস্যরা। তৃতীয় ও শেষ ধাপে ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন ও ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস।

ফটোসেশন শেষে বিসিবি সভাপতিকে সাকিব-শান্তসহ তাসকিন আহমেদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। এরপর শান্ত-হাথুরুসিংহের গন্তব্য সংবাদ সম্মেলন কক্ষ। দুজনে একসঙ্গে বসে গণমাধ্যমকর্মীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন, শোনান নিজেদের স্বপ্নের কথা।  

ফটোসেশনের আগে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন ক্রিকেটাররা। বিসিবি সভাপতি সবাইকে দিয়েছেন সাহস নিয়ে খেলার বার্তা, ‘মৌলিক জিনিষগুলো বলা হয়েছে, সাহস করে খেলতে হবে। টি-টোয়েন্টি এমন একটা ফরম্যাট এখানে ফর্মের কথা চিন্তা করে, ভয় মাথায় ঢুকিয়ে তাহলে এখানে সফল হওয়ার কোনো উপায় নেই। আমি বলেছি খুব চাপ যাতে তারা না নেয়, মুক্তভাবে তাদের খেলাটা খেলে।’ 

বিশ্বকাপে প্রত্যাশা নিয়ে হাথুরুসিংহে-শান্তর যেন একই সুর। দুজনের চাওয়া প্রথম রাউন্ড পেরোনো। হাথুরুসিংহে বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। কারণ আইসিসি ইভেন্টের বাইরে আমরা ভালো পারফরম্যান্স করি। আমাদেরও প্রত্যাশা কম নয়। আমরা কোচ খেলোয়াড়রাও আশাবাদী। আমরা বিশ্বকাপে খুব কঠিন একটা গ্রুপে আছি। আপাতত গ্রুপ পর্ব উতরে যাওয়া মূল লক্ষ্য।’ 

শান্ত বলেন, ‘আমরা যদি ছোট ছোট প্ল্যান নিয়ে আগাই যে আমরা কীভাবে গ্রুপ স্টেজটা পার করব তাহলে প্ল্যান করাটা সহজ হয়। আমরা যে গ্রুপে আছি খুব একটা যে দুর্বল গ্রুপ তা বলব না। আমরা যদি এটা পার করতে পারি তখন আবার আমরা আলাদাভাবে প্ল্যান করতে পারব। টি-টোয়েন্টিতে আমি বিশ্বাস করি ছোট দল বড় দল বলে কিছু নেই। নির্দিষ্ট দিনে যদি আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি তাহলে যেকোনো দলকে হারানো সম্ভব।’

এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ আছে ‘ডি’ গ্রুপে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, নেদারল্যান্ডস ও নেপাল। বাংলাদেশ তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ৮ জুন ডালাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এরপর ১০ জুন নিউ ইয়র্কে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামবে হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। ১৩ জুন তৃতীয় ম্যাচে কিংসটাউনে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে টাইগাররা। একই ভেন্যুতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ১৬ জুন নেপালের বিপক্ষে লড়বে শান্ত-তাসকিনরা। 

বিশ্বকাপের আগে আরও পাঁচ ম্যাচ খেলতে পারবে লাল সবুজের প্রতিনিধরা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তিন ম্যাচের সিরিজ ছাড়া আছে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ। বুধবার দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে এমিরেটসের ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে স্বপ্নযাত্রায় উড়াল দেবে বাংলাদেশ। প্রতিবেশি রাষ্ট্রে গত বছর নিজেদের সবচেয়ে প্রিয় সংস্করণে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে, এবার সাদা বলের আরেকটি সংস্করণে যদি সেই স্বপ্নপূরণ হয়। 

ঢাকা/রিয়াদ/ইয়াসিন 

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়