ঢাকা     শনিবার   ২০ জুলাই ২০২৪ ||  শ্রাবণ ৫ ১৪৩১

বাজেটে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বিএমবিএর ৮ প্রস্তাব

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:২২, ২৫ জুন ২০২৪   আপডেট: ১১:২৩, ২৫ জুন ২০২৪
বাজেটে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বিএমবিএর ৮ প্রস্তাব

প্রস্তাবিত জাতীয় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটের লক্ষ্যমাত্রাসমূহ অর্জন এবং কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে যে অর্থায়ন প্রয়োজন তা সংগ্রহে পুঁজিবাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জাতীয় বাজেটের ঘাটতির অর্থায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)। 

এ জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে মার্চেন্ট ব্যাংকসমূহকে তাদের পরিচালন আয়ের ওপর ধার্যকৃত কর কমানোসহ পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ৮ প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। কর হ্রাস করা হলে পুঁজিবাজার হতে অর্থায়নে মার্চেন্ট ব্যাংকসমূহ অধিকতর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করে বিএমবিএ। 

সোমবার (২৪ জুন) বিএমবিএ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব প্রস্তাব জানানো হয়েছে। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ৬ জুন ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ঘোষণা করা হয়। প্রথমবারের মত প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করায় অর্থমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলিকে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন এর পক্ষে স্বাগত জানানো হয়। অর্থমন্ত্রী ৬.৭৫% জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করার লক্ষ্যমাত্রার ভিত্তিতে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার  জাতীয় বাজেট ২০২৪-২৫ উপস্থাপন করেছেন। আলোচ্য বাজেট অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ, প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নকে উৎসাহ প্রদান এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য একটি বিস্তৃত পরিকল্পনার রূপরেখা প্রদান করেছে। 

জাতীয় বাজেট ২০২৪-২৫ এর লক্ষ্যমাত্রাসমূহ অর্জন এবং কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে যে অর্থায়ন প্রয়োজন তা সংগ্রহে পুঁজিবাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে জাতীয় বাজেটের ঘাটতির অর্থায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে বিএমবিএ। 

এ ক্ষেত্রে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বিএমবিএর প্রস্তাবনাসমূহ তুলে ধরা হলো- 

২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি পূরণের অধিকাংশ ব্যাংকিং উৎস হতে ধারস্বরূপ সংগ্রহ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়াও অ-ব্যাংকিং উৎস হতে ধার করার মাধ্যমেও বাজেট ঘাটতি পূরণের একটি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে অর্থ সংস্থানের দীর্ঘমেয়াদি উৎস হিসেবে পুঁজিবাজার হতে অর্থায়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পুঁজিবাজারের প্রাইমারি মার্কেটের মাধ্যমে বিভিন্ন বন্ড/সুকুক/ডিবেঞ্চার ইত্যাদি ইস্যুর মাধ্যমে বাজেটে অর্থায়নের উদ্যোগে নেওয়া যেতে পারে। 

জাতীয় বাজেটের ঘাটতি অর্থায়ন পুঁজিবাজারের মাধ্যমে করতে হলে এ ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে মার্চেন্ট ব্যাংক সমূহ। অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি মার্চেন্ট ব্যাংকসমূহ স্টক, বন্ড এবং অন্যান্য সিকিউরিটিজের মাধ্যমে পুঁজিবাজার হতে অর্থায়ন ও পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তিকরণে কাজ করে। এসব কাজের আওতা বৃদ্ধি পেলে কর আয় অনেক বৃদ্ধি পাবে। মার্চেন্ট ব্যাংকসমূহকে তাদের পরিচালন আয়ের ৩৭.৫ শতাংশ কর দিতে হয়, যেখানে সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের কর দিতে হয় ২৭.৫ শতাংশ। এমতাবস্থায় মার্চেন্ট ব্যাংকসমূহের দক্ষভাবে পরিচালনার জন্য প্রযোজ্য করের হার ২৭.৫ শতাংশ এ আনয়নে অতি প্রয়োজন। এরূপ কর হ্রাস করা হলে পুঁজিবাজার হতে অর্থায়নে মার্চেন্ট ব্যাংকসমূহ অধিকতর ভূমিকা রাখতে পারবে এবং তাদের কার্যক্ষমতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে যা মূলত বাড়তি কর সংগ্রহের সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। 

পুঁজিবাজারের মূল ভিত্তি হচ্ছে প্রাইমারি মার্কেট। বিভিন্ন উদ্যোক্তাগণ, এসএমই কোম্পানি, স্টার্ট-আপ কোম্পানি এবং অন্যান্য অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানিসমূহকে পুঁজিবাজার হতে পুঁজি সংগ্রহ এবং পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার জন্য প্রাইমারি মার্কেটকে অধিকতর প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন। তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া সহজীকরণ, কমপ্লায়েন্স এবং আইনকানুন বিনিয়োগবান্ধব ও সহজীকরণ এবং উপদেষ্টা সহায়তা প্রদানের মতো বিভিন্ন কার্যকরী পলিসি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। 

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিসমূহ ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানিসমূহের মধ্যকার বিদ্যমান কর হারের ব্যবধান ৫ শতাংশ, যাহা অতি স্বল্প বিধায় কোম্পানিসমূহের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তিতে উৎসাহ কম। জাতীয় বাজেটে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানিসমূহের মধ্যে কর হারের ব্যবধান বৃদ্ধি করা হলে কোম্পানিসমূহ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য আকৃষ্ট হবে। এছাড়াও অ-তালিকাভুক্ত বা নতুন নিবন্ধিত কোম্পানিসমূহকে নির্দিষ্ট সময়ে তালিকাভুক্ত করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা যেতে পারে। 

দেশের বৃহৎ ও স্বনামধন্য কোম্পানিসমূহ, বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানি ও সরকারি লাভজনক কোম্পানিসমূহকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করার লক্ষ্যে পলিসি সহায়তার পাশাপাশি তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য কর্পোরেট ট্যাক্সের হার ১৫ শতাংশ এবং ভ্যাট ছাড় ইত্যাদি প্রদান করা যেতে পারে। এরূপ সুযোগ-সুবিধা অধিক সংখ্যক ভালো ভালো কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত করবে। এভাবে বিনিয়োগকারীদের জন্য পত্রকোষে বৈচিত্র্যকরণের সুযোগ সৃষ্টি হবে, বাজারের গভীরতা ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধি হবে এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিসমূহের মুনাফা বাড়ার পাশাপাশি তাদের স্টকগুলিকে বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলবে। 

পুঁজিবাজার হতে ৫০ লক্ষ টাকার ওপর ক্যাপিটাল গেইনের ক্ষেত্রে কর ধার্যকরণের যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা পুনর্বিবেচনা করে ৫০ লক্ষ টাকার উপরে হতে বিভিন্ন স্ল্যাব ভিত্তিক কর ধার্য করা যেতে পারে এবং এই ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স ফাইলান ট্যাক্স হিসেবে বিনিয়োগকারীর ট্যাক্স ফাইলে বিবেচিত হবে। এছাড়াও পুঁজিবাজার হতে কর সংগ্রহ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কর ব্যবস্থার উন্নতকরণ এবং পরিবর্ধন করা যেতে পারে। 

পুঁজিবাজারের উন্নয়নের জন্য বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ করায় উৎসাহিত করা গুরুত্বপূর্ণ। দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ করার জন্য কর প্রণোদনা, সহজীকৃত বিনিয়োগ পদ্ধতি এবং পলিসি সহায়তার মতো পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। 

পুঁজিবাজারের উন্নয়নকল্পে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন কার্যকরী পলিসি সহায়তা প্রদান আবশ্যক। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন কার্যকরি পলিসি সহায়তা এবং সরকারি বিনিয়োগকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইসিবিকে প্রাইমারি মার্কেট সংক্রান্ত কার্যক্রম পুনরায় শুরুকরণসহ বিভিন্ন কার্যকরি পলিসি সহায়তা প্রদান করা যেতে পারে। 

বিএমবিএ মনে করে, উপর্যুক্ত পদক্ষেপসমূহ পুঁজিবাজারের গতিশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করবে এবং পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে। এ সকল উদ্যোগসমূহ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী ও বৈচিত্র্যপূর্ণ পুঁজিবাজার গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

ঢাকা/এনটি/ইমন

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়