ঢাকা     সোমবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৭ ১৪২৯

শরণার্থীদের লিবিয়ার উপকূলরক্ষীদের কাছে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিলেন ইউরোপের শীর্ষ রাজনীতিবিদরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৪৫, ৩০ নভেম্বর ২০২২   আপডেট: ২০:৪৫, ৩০ নভেম্বর ২০২২
শরণার্থীদের লিবিয়ার উপকূলরক্ষীদের কাছে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিলেন ইউরোপের শীর্ষ রাজনীতিবিদরা

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টাকারী শরণার্থীদের অবৈধভাবে লিবিয়ার উপকূলরক্ষীদের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিলেন ইউরোপের কয়েক জন শীর্ষ রাজনীতিবিদ। তাদের এই কর্মকাণ্ডের কারণে শরণার্থীদের আটকে রাখা হয়েছিল লিবিয়ার কুখ্যাত কারাগারগুলোতে। এই রাজনীতিবিদদের মধ্যে রয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রাক্তন পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফেদেরিকা মোঘেরিনি, ইতালির বর্তমান ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মাল্টার বর্তমান ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। 

হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে এই রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেছে জার্মানির এনজিও ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (ইসিসিএইচআর)। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে শরণার্থীদের নৌকা আটকে এবং শরণার্থীদের লিবিয়ায় ফেরত পাঠানোর মাধ্যমে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ করেছেন রাজনীতিবিদরা। লিবিয়ায় এসব শরণার্থী নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

শরণার্থীদের এই পুশব্যাক শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ওই সময় ইতালির সরকার লিবিয়ার সাথে একটি চুক্তি করে। এতে লিবিয়ার উপকূলরক্ষীদের তহবিল, সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দেওয়া হয়, যাতে নৌকাগুলো আটকানো এবং ফিরিয়ে নেওয়া যায়। ইতালির সঙ্গে ওই চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন পর এর অনুমোদন দিয়েছিল ইউরোপিয়ান কাউন্সিল। 

মার্কো মিনিতি, যিনি চুক্তির সময় ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, পুশব্যাক ব্যবস্থার পিছনে সহ-ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে অভিযোগে তার নাম রয়েছে। সহ-ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে নাম দেওয়া অন্যান্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে মাত্তেও সালভিনি, যিনি ২০১৮-১৯ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এই তালিকায় সালভিনির তৎকালীন চিফ অব স্টাফ এবং বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেডোসি রয়েছেন।

অভিযোগের অংশ হিসাবে জার্মান মানবাধিকার গোষ্ঠীটি ১২টি ঘটনার নথিভুক্ত প্রমাণ জমা দিয়েছে। এসব নথিতে দেখা গেছে, ভূমধ্যসাগরে উদ্বাস্তু নৌকাগুলি আটকানো হয়েছিল। এসব নথির মধ্যে স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি এবং নৌকাগুলি আটকানোর রেডিও কলগুলি রয়েছে যা ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ এবং লিবিয়ার কোস্টগার্ডদের মধ্যে একটি যোগসাজশের ইঙ্গিত দেয়।
 

ঢাকা/শাহেদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়