ঢাকা     সোমবার   ১৭ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৩ ১৪৩১

দুর্বল হচ্ছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৪৯, ৩০ মে ২০২৪   আপডেট: ১৬:৫১, ৩০ মে ২০২৪
দুর্বল হচ্ছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা

বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর একের পর এক হামলায় বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডের উপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা। এর ফলে বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক সীমানায় প্রবেশাধিকার, দখলকৃত অঞ্চল সম্প্রসারণ এবং একীভূত করার সুযোগ পেয়েছে বিদ্রোহীরা।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অস্থিতিশীলতার মধ্যে রয়েছে মিয়ানমার। ওই সময় সামরিক বাহিনী নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এরপরই দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। এই বিক্ষোভকারীদের ওপর সেনাবাহিনী নিপীড়ন শুরু করলে তারা সশস্ত্র বিদ্রোহীগুলোতে যোগ দেয়। এই সম্মিলিত বাহিনী কয়েক দশকের মধ্যে সেনাবাহিনীর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মিয়ানমারের বিশেষ উপদেষ্টা পরিষদের মতে, মিয়ানমারের ওপর জান্তার কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। জান্তা দেশের ভূখণ্ডের ৮৬ শতাংশ শহরতলির উপর সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব হারিয়েছে যা জনসংখ্যার ৬৭ শতাংশের আবাসস্থল।

গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তনকে সমর্থন করার জন্য অভ্যুত্থানের পরে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একটি স্বাধীন গ্রুপ এসএসি-এম বলেছে,‘সামরিক জান্তা রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব পালনের জন্য মিয়ানমারের ভূখণ্ডের পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ করে না। জান্তা উল্লেখযোগ্য অঞ্চল পরিত্যাগ করেছে এবং দেশের বেশিরভাগ অংশে যেখানে তারা রয়েছে সেখানে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থাকতে বাধ্য হচ্ছে।’

সশস্ত্র বাহিনীগুলোর তীব্র আক্রমণ জান্তাকে থাইল্যান্ডের সাথে দেশের সীমান্ত থেকে বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় অঞ্চল পর্যন্ত এলাকাগুলো থেকে সরে আসতে বাধ্য করেছে।

অলাভজনক সংস্থা ক্রাইসিস গ্রুপ একটি প্রতিবেদনে বলেছে, ‘যেসব জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী এই সামরিক বিজয়গুলো অর্জন করেছে তারা তাদের সম্প্রসারিত স্বদেশীয় অঞ্চলগুলির নিয়ন্ত্রণ একীভূত করছে, অনেকগুলো স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পথে রয়েছে।’

সামরিক বাহিনীর ক্রমবর্ধমান লোকসান এবং রাজধানী নেপিদোতে অভিজাতদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান হতাশা জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের ভবিষ্যতকে গুরুতর সংশয়ের মধ্যে ফেলেছে। অবশ্য মিন অং তার প্রতি অনুগত অফিসারদের সাথে সিনিয়র পদে উন্নীত করে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করেছে।

ক্রাইসিস গ্রুপ বরেছে, ‘তিনি এইভাবে তার পদ ধরে রাখতে সক্ষম হতে পারেন, কিন্তু অসন্তোষের মাত্রার কারণে অপসারণের একটি চক্রান্তের মুখোমুখি হতে পারেন তিনি।

উভয় সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জান্তা দেশের প্রায় সব সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ হারানোর সাথে সাথে এবং অ-রাষ্ট্রীয় প্রশাসন সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কারণে প্রতিবেশী রাষ্ট্র, আঞ্চলিক ব্লক এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত প্রতিরোধ গোষ্ঠীর সাথে তাদের সম্পৃক্ততা প্রসারিত করা।

জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মতে, মিয়ানমারে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ক্রমবর্ধমান সংঘাতের কারণে দেশটির ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

এসএসি-এম এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ড. ইয়াংহি লি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই এই বাস্তবতা বুঝতে হবে এবং মিয়ানমারের জনগণকে জরুরি সাহায্য ও সহায়তা প্রদানের জন্য প্রতিরোধ কর্তৃপক্ষ এবং সুশীল সমাজের সাথে সরাসরি কাজ করতে হবে।’

ঢাকা/শাহেদ

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়