ঢাকা     রোববার   ১৬ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ২ ১৪৩১

সিদ্দিক বাজারে বিস্ফোরণ

বছর পার হলেও শেষ হয়নি তদন্ত

মামুন খান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:২৬, ৭ মার্চ ২০২৪   আপডেট: ০৯:৩০, ৭ মার্চ ২০২৪
বছর পার হলেও শেষ হয়নি তদন্ত

সিদ্দিক বাজারে বিস্ফোরণ। ফাইল ছবি

গত বছরের ৭ মার্চ। ব্যস্ততম এলাকা বংশালের সিদ্দিক বাজারে সবকিছুই চলছিল স্বাভাবিক নিয়মে। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে হঠাৎ বিস্ফোরণে প্রাণ যায় কয়েকজনের। আহতদের নেওয়া হয় হাসপাতালে। এ ঘটনায় মারা যান ২৬ জন।

পরে এ ঘটনায় মামলা হয়। সেই বিভীষিকাময় ঘটনার বছর পার হলেও মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। কবে শেষ হবে নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

বিস্ফোরণে ২৬ জন নিহতের ঘটনায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে গত বছরের ৯ মার্চ মামলা করেন বংশাল থানার সাব-ইন্সপেক্টর পলাশ সাহা। প্রথমে তদন্ত শুরু করে বংশাল থানা পুলিশ। এরপর মামলার তদন্তভার ডিবি পুলিশকে দেওয়া হয়। বর্তমানে মামলার তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।

সর্বশেষ গত ২৯ ফেব্রুয়ারি মামলাটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ছিলো। কিন্তু ওই দিন সিটিটিসি প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। আগামী ৩ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম। এ পর্যন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ১১ দফা সময় নেওয়া হয়েছে।

মামলা সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এর বোম ডিসপোজাল ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক এস এম রাইসুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুত আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে পারবো।

ভবনটিতে বিস্ফোরণ কী কারণে ঘটেছে-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ঘটনা ঘটনার সাথে সাথে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মিলে আমরা আলামত সংগ্রহ করি। সেই আলামতগুলো সিআইডির ফরেনসিক ল্যাব, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, বিএসটিআই পরীক্ষা করে। প্রত্যেকটি সংস্থার রিপোর্টে একই কথা আসছে এখানে বিস্ফোরকের কোনো উপাদান ছিলো না।  বিস্ফোরণ ঘটেছে গ্যাসের কারণে। আমরা তদন্ত করতে গিয়ে দেখেছি, যে কোনোভাবে গ্যাস জমে ওই বিল্ডিংয়ে বিস্ফোরণ ঘটেছে। সবদিক বিবেচনা করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, খুব দ্রুত মামলার তদন্ত শেষ করে আদালদে প্রতিবেদন জমা দিতে পারবো।

উল্লেখ্য, গত বছর ৭ মার্চ গুলিস্তানের সিদ্দিক বাজারে বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড কাউন্টারের পাশে কুইনস স্যানেটারি মার্কেটের ৭ তলা বিল্ডিংয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে প্রথম বিস্ফোরণের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। এর সাত মিনিটের মাথায় ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে। বিস্ফোরণের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ছাড়াও সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, সিটিটিসি, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়। বিস্ফোরণের ঘটনায় ২৬ জন মারা যান।

ঘটনার পর ওই দিনই গ্রেপ্তার করা হয় ভবন মালিক ওয়াহিদুর রহমান, তার ভাই মতিউর রহমান ও মোতালেব মিন্টুকে। তাদের রিমান্ডেও নেওয়া হয়। বর্তমানে তারা জামিনে আছেন।

ওয়াহিদুর রহমান ও মোতালেবের আইনজীবী আব্দুল আওয়াল বলেন, ঢাকা শহরের প্রতিটি ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ। কিছুদিন আগে বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৪৬ জন মারা গেছে। বিষয়টি কিন্ত খুবই ভয়াবহ। সত্যি খুবই দুঃখজনক। সেখানে আমার পরিবার, আপনারও পরিবার থাকতে পারতো। একটা প্রাণ চলে গেলে আর ফিরে পাবে না বা কেউ ফিরিয়ে দিবে না। আমার ক্লাইন্ট (আসামিদের) সম্পর্কে বলতে গেলে সত্যি তারা নির্দোষ। এটা একটি দুর্ঘটনা মাত্র। এই ভবনটি নির্মাণ করেছেন তাদের বাবা। আসামিরা শুধুমাত্র ভাড়া দিয়েছিলেন ওপরের ফ্লোরগুলো। যেখান থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে নিচের সেই ফ্লোরগুলো ভাড়া দেওয়া হয়নি। এ কারণে আমি বলবো তারা এখনো নির্দোষ।

এই আইনজীবী বলেন, ৫০ বছর আগে ওই বিল্ডিংয়ে নাকি একটা হোটেল ছিলো। তবে সেই হোটেলের গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকলেও পাইপের লাইন অক্ষত ছিলো। সেখান থেকে হয়তো বিস্ফোরণ হতে পারে। তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত সত্য ঘটনা কি ঘটেছে সেটা বলা মুশকিল। আসামিদের যে ভবনটি তৈরি করা হয়েছে সেটা রাজউকের প্ল্যান অনুযায়ী হয়েছে। রাজউক অনুমোদিত ছিলো। এখানে যদি কোনো গাফিলতি থাকে সেটা রাজউকের। তারা হয়তো সঠিকভাবে মেইনটেনেন্স করেননি। তারা যদি ঠিকঠাক মেইনটেনেন্স করতো তাহলে এই দুর্ঘটনাটি ঘটতো না। আশা করি, আসামিরা ন্যায়বিচার পাবেন।

/এসবি/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ