ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৬ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ৩ ১৪৩১

সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ: মেনন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৫০, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪   আপডেট: ২১:৫১, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ: মেনন

ফাইল ফটো

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, সাম্রাজ্যবাদী ও তাদের দোসর বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে নির্বাচন সম্পন্ন করা গেলেও সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ। বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে নিজের মানুষের বিরুদ্ধেই আগে ব্যবস্থা নিতে হবে।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। 

ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে অধিবেশনে রাশেদ খান মেনন বলেন, দেশি-বিদেশি চক্রান্ত ব্যর্থ করে সুষ্ঠুভাবে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হলেও নির্বাচন সম্পর্কে জনমানুষের যে অনাস্থাবোধ তা দূর করা যায়নি। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের স্বার্থে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামানত ১ লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।

তিনি বলেন, এবারই প্রথম এত অধিক সংখ্যক স্বতন্ত্র সদস্য সংসদে এসেছেন। ফলে, সংসদে কিছু নতুন রীতির সৃষ্টি হবে। কিন্তু, সেটা যেন এমন না হয়, যাতে সংসদীয় রীতির সৌন্দর্য নষ্ট হয়।  রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও এটি নতুন অভিজ্ঞতা। নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকে উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। দলের ক্ষেত্রে এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপজেলা নির্বাচনকেও উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এর প্রতিক্রিয়ায় নতুন কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা জন্ম নেবে কি না, সেটা দেখার বিষয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সে ধরনের নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার কথা বলছেন। এই ব্যবস্থায় ধনীরাই থাকবে, গরিব-মধ্যবিত্ত সাধারণ মানুষ নয়। নির্বাচন কমিশন সে লক্ষ্যে উপজেলা চেয়ারম্যানের জামানত ১ লক্ষ ও ভাইস চেয়ারম্যানের জামানত ৭০ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছেন। তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের নামে ভিসানীতি, শ্রমিক অধিকার নীতি প্রয়োগের হুমকি দিয়ে আসছিল। এই পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে তখনই বলেছিলাম, অবাধ নির্বাচন নয়, রেজিম চেঞ্জ বা সরকার পরিবর্তনই তাদের লক্ষ্য। এ দেশে তাদের স্বাভাবিক সহযোগী ছিল বিএনপি-জামায়াত। তারা দেশের অভ্যন্তরে সরকার পতনের আন্দোলনের নামে সব ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি করার প্রয়াস নিয়েছিল। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও জনগণের প্রতিরোধ তাদের সকল ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করে দিয়েছিল। আগুনসন্ত্রাস, ট্রেনে মানুষ পুড়িয়ে মারা, রেললাইন উপড়ে ফেলাসহ নানা জটিল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে এই নির্বাচনটি হয়ে যাওয়া দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র এবং অসাংবিধানিক ধারার বিরুদ্ধে, বিশেষ করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিজয়। তবে, এ কথা সত্য যে, নির্বাচন সম্পর্কে জনমানুষের যে অনাস্থাবোধ, তা দূর করা যায়নি। কালো টাকার প্রভাব, বিশেষ সংস্থার নিয়ন্ত্রণ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের অসহায়ত্ব, শহরাঞ্চলগুলোতে ভোটারদের নগণ্য উপস্থিতি নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ন করেছে। কিন্তু, তা কোনোক্রমেই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না। নির্বাচন অনুষ্ঠান, সরকার গঠন সবই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনা প্রধান চ্যালেঞ্জ, উল্লেখ করে রাশেদ খান মেনন বলেন, এটা একইভাবে আওয়ামী লীগের নির্বাচনের ১১টি প্রধান প্রতিশ্রুতির প্রথম প্রতিশ্রুতি। বাজার সিন্ডিকেট না ভাঙার কোনো কারণ নেই। কারণ, কারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করে, সরকারের তা জানা। অন্য দলকে এ ব্যাপারে দোষ দিয়ে লাভ নেই। নিজের মানুষের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা এ ব্যাপারে গণবণ্টন ব্যবস্থার পূর্ণ রেশনিং চালু করার কথা বলেছিলাম। সরকারকে বিষয়টা আরেকবার বিবেচনার জন্য বললাম। 

তিনি আরো বলেন, মানবতা থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হলেও তারা আজ বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার প্রতি প্রত্যক্ষ হুমকিতে পরিণত হয়েছে। মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধের অবশ্যম্ভাবী প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের ওপর পরছে। এই হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অখণ্ডতা রক্ষা করা জরুরি কর্তব্য।

এএএম/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়