ঢাকা     বুধবার   ১৯ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৫ ১৪৩১

নদী রক্ষার যুদ্ধে আমরা জয়ী হবো: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৩৭, ২৬ মে ২০২৪  
নদী রক্ষার যুদ্ধে আমরা জয়ী হবো: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নদী রক্ষায় বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এ যুদ্ধে আমরা বিজয়ী হবো। নদী রক্ষায় দখল, দূষণরোধ, অবৈধ বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। যারা নদী রক্ষায় কাজ করেন, তারা সচেতনতা তৈরি করুন। দায়িত্ব চিহ্নিত করুন। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন সহায়তা করবে, সরকার সহায়তা করবে।

রোববার (২৬ মে) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে জাতীয় নদী কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

‘নদী বাঁচাই, দেশ বাঁচাই’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় নদী সম্মেলন-২০২৪ শেষ হয়েছে আজ। সোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি), বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলা), ওয়াটার রাইটস ফোরাম, রিভারাইন পিপল, বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আজকের সম্মেলন প্রমাণ করে নদী নিয়ে আমরা কত ভাবি। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমাদের নদীগুলোর নাব্য হারিয়ে যাচ্ছে। নাব্য ফিরিয়ে আনতে হবে। সে সময় বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) জন্য সাতটি ড্রেজার সংগ্রহ করেছিলেন।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষের দেহে শিরা-উপশিরা দিয়ে যেমন রক্ত প্রবাহিত হয়, বাংলাদেশের নদীগুলো সেরকম আমাদের শিরা-উপশিরা। সেগুলো বন্ধ হয়ে গেলে বাংলাদেশ থেমে যাবে। নদীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর অনেক ভালোবাসা। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে রক্ষার কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম বলেছেন। নদীকে রক্ষা করতে হবে সরকারপ্রধান এ ধরনের কথা বলেন বলেই যারা নদী নিয়ে ভাবেন, কথা বলেন, তাদের কাছে সেটি শক্তি হিসেবে দাঁড়ায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু নদী দখল নয়। ৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সব ক্ষেত্র দখল হয়ে যায়। দখলদারিত্বের মহা উৎসব চলে। বঙ্গবন্ধু হত্যা ব্যক্তি বা পারিবারিক হত্যা নয়, এটি বাংলাদেশকে হত্যার ষড়যন্ত্র।’

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘নদী-নালা, খাল-বিল আমাদের সম্পদ। নদী-নালা খাল-বিল না থাকলে আমরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করতে পারতাম না। সে সময় নদী-নালা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যেভাবে সুন্দরবন আমাদের ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষা করছে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন একটি নতুন প্রতিষ্ঠান। তারা বিভিন্ন সমীক্ষা করেছে, দখলদারদের তালিকা করেছে। এ সব জায়গায় ভুল থাকতে পারে, তবে যাত্রা শুরু হয়েছে। নদী রক্ষায় বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এ যুদ্ধে আমরা বিজয়ী হবো।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নদীকে ঘিরে সভ্যতা গড়ে উঠেছে– এটা সত্য। নদীর পাড়ে ইন্ডাস্ট্রি হবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে, শহর হবে সবই ঠিক আছে। সেগুলো হবে নদীকে রক্ষা করে, নদীকে ধ্বংস করে নয়।’

তিনি বলেন, ‘নদী রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা কাজ করছি। বর্তমান সরকারের সময়ে নদী রক্ষা কমিশন হয়েছে, হাওর বোর্ডকে অধিদফতরের উন্নীত করা হয়েছে, বালু ব্যবস্থাপনা নীতিমালা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, কোনও হাইড্রোগ্রাফি জরিপ ছাড়া বালুমহাল ইজারা দেওয়া যাবে না। একই জায়গায় বার বার বালু উত্তোলন করা যাবে না। আমরা প্রতি বছর নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন করে থাকি। কেউ কেউ বলেছেন, নদী দখলের সময় বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি সবাই একসঙ্গে থাকে। এটা রাজনৈতিক শক্তি নয়। এরা অপরাধী। সরকার তাদের অপরাধী হিসেবে দেখবে। এই জায়গায় সরকার জিরো টলারেন্স দেখাবে।’

তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন হতে হবে। উন্নয়নের জন্য বালু প্রয়োজন। কিন্তু সে জন্য যত্রতত্র বালুমহাল হবে না। হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ করে বালু তুলতে হবে। সরকার ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খননের লক্ষ্যে কাজ করছে। বিআইডব্লিউটিএ নিরলসভাবে কাজ করছে। বিআইডব্লিউটিএর ৪৫টি ড্রেজার রয়েছে। সেগুলো বসে নেই। কাজ করছে। নীতিমালা অনুযায়ী ৪০ শতাংশ সরকারি, বাকি ৬০ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খনন করা যাবে।’

ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান সারোয়ার মাহমুদ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মো. শরীফ উদ্দিন, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, বেলার প্রধান নির্বাহী রিজওয়ানা হাসান।

আসাদ/এনএইচ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়