Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৮ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ১২ ১৪২৮ ||  ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

Risingbd Online Bangla News Portal

বাইডেনের বিজয়ে কার লাভ কার ক্ষতি?

মো. রায়হান কবির || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:২১, ৮ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৯:৩৯, ৮ নভেম্বর ২০২০
বাইডেনের বিজয়ে কার লাভ কার ক্ষতি?

অনেক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিশ্ববাসী পেয়েছে কোটি টাকা মূল্যের সেই প্রশ্নের উত্তর- কে হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট? এখন প্রশ্ন- জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ায় কার লাভ, কার ক্ষতি? কেননা এ কথা সবাই জানেন, জো বাইডেনের হাতে আগামীর বিশ্ব রাজনীতির অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রিত হবে। সমকালীন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট বলে কথা! যদিও বিশ্ব মোড়লের সেই দাপট অনেকটাই স্তিমিত। সেক্ষেত্রে আরো বড় প্রশ্ন- বাইডেন কি পারবেন দেশের সেই সন্মান ফিরিয়ে আনতে? পারবেন বিশ্ব রাজনীতিকে মুঠোয় নিয়ে দেশ শাসন করতে?

‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর রাজনৈতিক বিশ্লেষক এন্ড্রু রনস্লে’র মতে আমেরিকার নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার শুধু আমেরিকানদের। কিন্তু এর সুবিধাভোগী রয়েছে বিশ্বজুড়ে। কথাটা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যে কারণে গত কয়েকদিন বিশ্বের দৃষ্টি ছিল আমেরিকার নির্বাচনের দিকে- ট্রাম্প না বাইডেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সবাই টেলিভিশন কিংবা মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ রেখেছেন। গুগলে সার্চ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে শুধু ‘ইউএস’ লিখলেই নির্বাচনের খবর ভেসে আসতো। এ থেকেই বোঝা যায়, মানুষের কৌতূহল এই নির্বাচন ঘিড়ে কোন পর্যায়ে ছিল!

পশ্চিমবঙ্গের গত লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে বিজেপি নেতা অমিত শাহ বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারীদের ‘উইপোকা’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। সেই তুলনা দুই দেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। আবারও সেই উইপোকার তুলনা এসেছে! তবে এবার ভারতীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক সমন্তক ঘোষ নিজেদেরকেই  উইপোকার সঙ্গে তুলনা করেছেন। মানে আমেরিকার নির্বাচনের খবরে ভারতের কি আসে যায়- এই প্রশ্ন তিনি তুলেছেন।

বিজ্ঞজনেরা জানেন আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতিতে সাধারণত খুব একটা পরিবর্তন হয় না। যদিও ট্রাম্পের রাষ্ট্রনীতি ছিল একগুঁয়ে। করোনাভাইরাসের ব্যাপকতা ছড়িয়ে দেওয়ার দায় চীনের উপরে না দেওয়ায় ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন থেকে বের হয়ে যাওয়া, চীনা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত- এমন অনেক পদক্ষেপ তিনি নিয়েছেন যা আমেরিকার রাষ্ট্রনীতির সঙ্গে যায় না। আমেরিকান জাতীয়তাবাদের উপর ভিত্তি করে এগিয়ে চলা ট্রাম্প ছিলেন অনেকটাই একরোখা। ফলে বর্ণবাদও তার আমলে ভিন্নমাত্রা পায়।

অন্যদিকে জাতীয়তাবাদের ঘুঁটিতে পারদর্শী আরেক নেতা নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ট্রাম্পের ‘ব্যক্তিগত’ সম্পর্ক ভালো ছিল। ফলে একে অপরের দেশ সফরের সময় সংবর্ধনা হিসেবে পেয়েছেন ‘হাউডি মোদি’ এবং ‘নমস্তে ট্রাম্প’ নামে ভিন্ন আয়োজনের অনুষ্ঠান। যদিও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, মোদি-ট্রাম্প উষ্ণ সম্পর্কে ‘হাউডি মোদি’ ছাড়া আর তেমন কোনো অর্জন নেই। বরং ট্রাম্প ভারতীয়দের সবচেয়ে লোভনীয় ভিসা এইচওয়ান-বি বন্ধ ঘোষণা করেছিলেন। রপ্তানির ওপর আরোপ করেছিলেন বিভিন্ন শুল্ক। ফলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এই উষ্ণ সম্পর্ককে কটাক্ষ করে বলা হতো- ভারত-আমেরিকা সম্পর্কে মোদির সঙ্গে ট্রাম্পের বন্ধুত্ব ছাড়া কোনো অর্জন নেই।

জো বাইডেন ক্ষমতায় আসায় ভারতীয়রা আশা করছেন এইচওয়ান-বি ভিসা আবার চালু হবে। আর অনুমোদনহীন ভারতীয়রা হয়তো স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ পাবেন। ট্রাম্প জামানায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশটির নাম ইরান। ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেশটির অর্থনৈতিক ভীত দুর্বল করে দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে জো বাইডেন যেহেতু পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী সেক্ষেত্রে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যেতে পারে। বাইডেনের জয়ে তাই আশার আলো দেখছে ইরান। যদিও হুয়াওয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংঘাত হয়তো একটি রাষ্ট্রনায়কের জন্য বেমানান, তবে চীনের ক্ষেত্রে আমেরিকার নীতির বড় কোনো পরিবর্তন হয়তো দেখা যাবে না।

সৌদি আরবের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা ছিল চোখে পড়ার মতো। ট্রাম্পের জন্য বহুমূল্য উপহারের স্তূপ বানিয়ে ফেলতো সৌদি আরব। কিন্তু বাইডেনের সঙ্গে এই প্রেম কেমন জমবে তা সময়ই বলে দেবে।

ওদিকে আশায় বুক বাঁধতে পারে ফিলিস্তিনের জনগণ। কেননা ট্রাম্প তাদের সঙ্গে প্রশাসনিক সম্পর্ক বন্ধ করে দিলেও বাইডেন সরকার তা পুনঃস্থাপনে আগ্রহী। বিশেষ করে পশ্চিম তীরে ট্রাম্পের নীতির যে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে এটা নিশ্চিত। ফলে ট্রাম্পের পরাজয়ে ফিলিস্তিনি জনগণ বিজয় উৎসব করতেই পারে। তবে সব কিছু ছাপিয়ে ওই একটি কথাই সত্য- যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ!

অর্থাৎ আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট হয়তো পরিবর্তন হয়, তবে পররাষ্ট্রনীতির খুব একটা পরিবর্তন হয় না। যদিও তৃতীয় বিশ্বের জনগণ হয়তো আগের চেয়ে কিছুটা সহজে আমেরিকার ভিসা পাবে- এটুকু ধারণা করা যায়। বর্ণবাদের উগ্র চর্চাও হয়তো কমবে, আগের মতো জাতীয়তাবাদের চর্চাও হয়তো আর দেখা যাবে না দেশটিতে কিন্তু আমেরিকা তার হারিয়ে ফেলা সন্মান বা ক্ষমতা উদ্ধারে যে মরিয়া হয়ে উঠবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। সেক্ষেত্রে চীন বরাবরের মতোই দেশটির চক্ষুশূল হয়েই থাকবে। 

লেখক: প্রাবন্ধিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক

ঢাকা/তারা

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়