ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৪ মে ২০২২ ||  জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪২৯ ||  ২২ শাওয়াল ১৪৪৩

শিল্পী সমিতির নির্বাচন- জিতবে কে?

রাহাত সাইফুল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৩১, ২৭ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৭:৩৯, ২৭ জানুয়ারি ২০২২
শিল্পী সমিতির নির্বাচন- জিতবে কে?

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস গৌরবের। চলচ্চিত্রের সেই সোনালি অধ্যায় হারিয়ে যেতে বসেছে। তারপরও চলচ্চিত্র শিল্পীদের প্রতি দর্শকের রয়েছে বাড়তি আগ্রহ। বিশেষ করে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন এফডিসির গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি করেছে। নির্বাচনে কে জিতবে এ নিয়ে চলছে হিসাব-নিকেশ।

রাত পোহালেই আগামীকাল শিল্পী সমিতির নির্বাচন। প্রার্থীরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটের আগে যদিও বলা যাচ্ছে না কার গলায় জয়ের মালা উঠবে, তবে তফসিল ঘোষণার পর যেসব আলোচনা বা সমালোচনা হয়েছে সেখান থেকে কিছুটা অনুমান করাই যায়।   

শুরু থেকেই এই নির্বাচনের আলোচ্য বিষয় পূর্ণ সদস্যপদ থেকে  ১৮৪ জন শিল্পীর বাদ পড়া। পেছনে তাকালে দেখা যায় গত নির্বাচনে এই বাদ পড়া শিল্পীরা চিত্রনায়িকা মৌসুমীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেন। বিভিন্ন সময় মিশা সওদাগর-জায়েদ খানের নামে তারা তুলোধুনো কম করেননি। তাদের ভোট প্রদান করার অনুমতি না থাকায় সেবার মৌসুমী, মিশা সওদাগরের সঙ্গে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরে যান।  

এবারও বাদ পড়া ১৮৪ জন শিল্পী ইলিয়াস-কাঞ্চন নিপুণের পক্ষ নিয়েছেন। তারা পূর্ণ সদস্যপদ পেতে আদালতের শরণাপন্ন হন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। এবারো ভোট দিতে পারবেন না এই শিল্পীরা। যদিও তারা প্রকাশ্যে কাঞ্চন-নিপুণের প্রচার-প্রচারণা করছেন। 

এদিকে শিল্পী সমিতির ভোটার যারা তাদের মধ্যে খুব কমসংখ্যক আছেন যারা প্রকাশ্যে কারো পক্ষ নিয়েছেন। তারা নীরব ভূমিকা নিয়েছেন। ব্যালটে তাদের মতামত প্রকাশ করবেন।

নির্বাচনের শুরুতে চমক হিসেবে হাজির হন ইলিয়াস কাঞ্চন। সর্বজনপ্রিয় এই অভিনেতা দীর্ঘ ৩৩ বছর পরে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এটাকে চমক হিসাবেই দেখছেন শিল্পীরা। একই প্যানেলে পরীমনি নির্বাচন করছেন এটাও ছিল চমক। যদিও সে চমক বেশিদিন টেকেনি। পরী নিজেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।  
এদিকে মিশা-জায়েদ খান প্যানেলের চমক হিসেবে আছেন প্রিয়দর্শিনী মৌসুমী। চমক এই কারণে যে, গত নির্বচনে মিশা সওদাগরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তিনি। অন্যদিকে সুচরিতাও এই প্যানেলের চমক। নির্বাচনে মিশা সওদাগরের বিনয় অনেককেই বিমোহিত করেছে। 

তবে নির্বাচনের কৌশল অবলম্বন করতে গিয়ে অনেকেই হয়েছেন সমালোচিত ও হাসির পাত্র। চিত্রনায়ক রিয়াজ বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্না করায় ট্রলের শিকার হন। পড়েন প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের রোষানলে। পরে রিয়াজ ক্ষমা চান। এর কিছুদিন পর জায়েদ খান বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কিছু কষ্টের কথা বলতে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের সমালোচনার মুখে পড়েন।  

এবারের নির্বাচনে সিনিয়র শিল্পীরা খুব বেশি পক্ষ না নিলেও নায়ক আলমগীর এবার সরাসরি কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেল সমর্থন করছেন। অন্যদিকে আনোয়ারা ও সুজাতা আজিম সরাসরি মিশা-জায়েদ খানের প্যানেলের সমর্থন দিচ্ছেন। সোহেল রানা বক্তব্য না দিলেও মিশা-জায়েদ প্যানেলের সমর্থন করছেন বলে জানা যায়। নির্বাচন ঘিরে ইলিয়াস কাঞ্চন-রিয়াজ-ডিপজল-মিশা সওদাগর-জায়েদ খানসহ অনেকেই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। 

নির্বাচন ঘিরে প্রতি বছর কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এবারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। নায়ক ইমনকে লঞ্ছনার অভিযোগ ওঠে।  এদিকে দীর্ঘদিন অন্তরালে থাকা চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি হঠাৎ করেই একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। এতে তার সদস্যপদ বাদ দেয়া নিয়ে বর্তমান কমিটির প্রতি আক্ষেপ প্রকাশ পায়। তিনি প্রকাশ্যেই কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেলের সমর্থন করেছেন।  

নির্বাচনে প্রার্থীদের মতভেদ থাকবেই। ভোটারদেরও মান-অভিমান থাকবে। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনাও ঘটবে। কিন্তু সেগুলো চলচ্চিত্রের উন্নয়নে প্রভাব ফেলবে না বলেই সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস। কারণ দিন শেষে সবাই শিল্পী। সবার একটাই লক্ষ্য- দেশের চলচ্চিত্রের উন্নয়ন। প্রতিটি প্রার্থীই বলছেন সেকথা। আর এখানেই রয়েছে এফডিসির মানুষদের সান্ত্বনা এবং স্বপ্ন। সেই স্বপ্নপূরণের দায়িত্ব কাদের হাতে উঠবে জানা যাবে আগামীকাল ভোটের পর। 

/তারা/ 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়