ঢাকা     শনিবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৫ ১৪২৯

ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রী যেই হোক, কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে 

অলোক আচার্য || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:২০, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২২  
ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রী যেই হোক, কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে 

বিশ্বের জন্য বর্তমান সময় গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পৃথিবী একটি অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করছে। এই সংকটের বাইরে নেই ইউরোপ-আমেরিকার উন্নত দেশগুলোও। এরই মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান। বিশ্ব এখন একটি বিভক্তিকরণের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। নতুন জোট গঠিত হচ্ছে। রাজনৈতিক অঙ্গণে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতি ব্রিটেনে নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্বে আসছেন। কিন্তু কে আসছেন?

বরিস জনসনের পর ব্রিটেনের নেতৃত্ব কার হাতে যাচ্ছে তা জানতে আর কিছু সময়ের অপেক্ষা। যুক্তরাজ্যকে ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে বের করে আনা বরিস জনসন করোনা মহামারির সময় বিধিনিষেধ ভেঙে ডাউনিং স্ট্রিটে মদের পার্টি বসিয়ে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। তারপর থেকেই তার সময়টা ভালো যাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত নিজ দলের মন্ত্রী-এমপিদের সমর্থন হারিয়ে তিনি দলের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। তার দল কনজারবেটিভ পার্টি নতুন নেতা নির্বাচনে তোড়জোড় শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী হতে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেন। এর মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী পেনি মর্ডান্ট, সাবেক অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ, সাবেক স্বাস্থ্যসচিব জেরেমি হান্ট, অর্থমন্ত্রী নাদিম জাহাবি, যোগাযোগ সচিব গ্রান্ট শ্যাপস, অ্যাটর্নি জেনারেল সুয়েলা ব্র্যাভারম্যান, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী কেমি ব্যাডেনোচও রয়েছেন।

দুই মাসের নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ভার্চুয়ালি ও ডাকযোগে কনজারবেটিভ পার্টির সদস্যদের ভোটাভুটি চলে। শুক্রবার তা শেষ হয়। এখন জানা যাচ্ছে এর মধ্যে দু’জন এগিয়ে রয়েছেন। মূলত এদের মধ্যে থেকেই একজন ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন। দুজন হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ৪৭ বছরের লিজ ট্রাস এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী (৪২) ঋষি সুনাক। দুজনের মধ্যে লিজ ট্রাসের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে লিঙ্গ বৈষম্য নির্মূল, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ করা, কর ব্যবস্থার সংস্কার ও জনগণের জীবনমান বৃদ্ধির দিকে মনোযোগের কথা বলেছেন। 

অপরদিকে ঋষি সুনাক দেশে অর্থনৈতিক সংস্কার, বেকারত্ব দূরীকরণ, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী পদে যিনিই আসুন না কেন তার প্রধান কাজ হবে দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা। দেশে মুদ্রাস্ফীতি কমানো এবং জনগণের ওপর থেকে জীবনযাত্রার ব্যয়ভার কমানো। যদিও এই মুহূর্তে তা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু এটাই অগ্রাধিকার পাবে। কারণ সেদেশের মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে হিমশিম খাচ্ছে।  

ব্রিটিশদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে কয়েকগুণ যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশেষ করে মুদ্রাস্ফীতি ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে যা গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থায় পৌঁছেছে। মাত্র কয়েকদিন আগের খবর হলো যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের বার্ষিক জ্বালানি বিল ৮০ শতাংশ বাড়ছে। এর আগে এপ্রিলে রেকর্ড মাত্রায় ৫৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। এই অতিরিক্ত ব্যয় এবং আয়ের সাথে সমন্বয় রেখে জীবনযাত্রার মান ঠিক রাখার কাজটি বেশ দক্ষ হাতেই করতে হবে। তবে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, এই কাজটি যিনি দক্ষ হাতে সামাল দিতে সক্ষম হবেন তিনিই ব্রিটেনের জনগণের কাছে জনপ্রিয় হবেন। পাশাপাশি তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কাজ করতে হবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বেকারত্ব কমিয়ে আনা। 

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ক্ষমতায় যাওয়ার পেছনের ইতিহাস বেশ ঘটনাবহুল। মূলত একটি ইস্যু সেসময় ব্রিটেনজুড়ে আলোচিত হয়। তা হলো ব্রেক্সিট ইস্যু। এই ইস্যুতে বিভিন্নভাবে জল ঘোলা হওয়ার পর ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান থেরেসা মে। সেই পদের জন্য রক্ষণশীল দলের বরিস জনসন এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জেরেমি হান্টের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা হয়। একজন সাংবাদিক থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়া বরিস জনসন ব্রিটেনের এই পরিস্থিতি বেশ সফলভাবেই সামাল দিয়েছেন। মূলত দুই বছর আগে লক ডাউনের মধ্যে পার্টি দিয়েই বিপাকে পড়েন তিনি। এই তথ্য ফাঁস হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে ওঠে। তার পদত্যাগের দাবিতে স্বর বাড়তে থাকে। এমনকি প্রিন্স ফিলিপের শেষকৃত্যের আগের দিনও মদের পার্টি হয়েছিল। 

কনজারবেটিভ পার্টির জনপ্রিয়তা কমার পেছনের কারণ হিসেবে মনে করা হয় এই পার্টিগেট কেলেঙ্কারি। নিজ দলের ভেতরেই তৈরি হয় অনাস্থা এবং সমালোচনা। বরিসের বিরুদ্ধে অনাস্থা ক্রমে বাড়তেই থাকে। এবং শেষ পর্যন্ত পুরো পরিস্থিতি তার বিপরীতে চলে যায়। অবশেষে তার অধ্যায় শেষ হতে যাচ্ছে। এখন নতুন একজন আসবেন। যিনি আসবেন তাকে অবশ্যই কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। যাই হোক, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর দক্ষতার ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী ব্রিটেনের গতিপথ কেমন হবে? 

/তারা/ 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়