ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৫ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ১২ ১৪৩১

সম্মেলন হবে, ষড়যন্ত্র-বিভ্রান্তিতে কান দেবেন না: রওশন এরশাদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:২২, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  
সম্মেলন হবে, ষড়যন্ত্র-বিভ্রান্তিতে কান দেবেন না: রওশন এরশাদ

‘আগামী ৯ মার্চ জাতীয় পার্টির দশম জাতীয় সম্মেলন হবে। এ সম্মেলনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আরও ষড়যন্ত্র হতে পারে। কোনো ষড়যন্ত্র, কোনো বিভ্রান্তিতে আপনারা কান দেবেন না।’

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইস্টিটিউশন মিলনায়তনে দলের বর্ধিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ও সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ। 

জাতীয় পার্টিতে পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক চর্চা হবে, জানিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রওশন এরশাদ বলেছেন, ৯ মার্চের সম্মেলন সফল করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সম্মেলনের জন্য ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি পাওয়া গেছে। আপনারা সকাল ১০টার মধ্যে প্রত্যেক কাউন্সিলর এবং ডেলিগেটদের নিয়ে সম্মেলনে উপস্থিত হবেন। ওই দিন আপনারাই জাতীয় পার্টির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন।

জাতীয় পার্টির নতুন নেতৃত্ব ও সম্মেলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রওশন এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টি নেতৃত্বে ব‌্যর্থতার কারণে আজ ধবংসের দ্বারপ্রান্তে। সাবেক রাষ্ট্রপতির মৃত‌্যুর পর থেকে বিপুল সংখ‌্যক নেতাকর্মী দল ছেড়ে গেছেন। ত‌্যাগিদের বহিষ্কার করে দূরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, এবারের নির্বাচনি ইশতেহারের মলাট থেকে পল্লীবন্ধুর ছবি মুছে ফেলা হয়েছে। জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠার পর এবার নির্বাচনে পার্টির প্রার্থীদের পোস্টারে পল্লীবন্ধুর ছবি ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী তার নির্বাচনি পোস্টারে বঙ্গবন্ধুর ছবি রেখেছেন। অথচ, জাতীর পার্টির সাবেক চেয়ারম্যানের পোস্টারে পল্লীবন্ধুর ছবি জায়গা পায়নি। এটা জাতীয় পার্টির অগণিত নেতা-কর্মীর মনে আঘাত দিয়েছে, হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে।

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির নিবেদিতপ্রাণ অনেক নেতা, যাদের ভোটে জয়লাভের সম্ভাবনা ছিল, তাদের যদি মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এসব জনপ্রিয় ও যোগ্য নেতা এবং অভিভাবকহীন অসংখ্য নেতাকর্মী ও প্রার্থীদের বিপদে রেখে আমি নির্বাচনে যেতে পারি না। আমার ছেলের আসন যদি কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে আমি কি নির্বাচনে যেতে পারি? নিশ্চয় না। তারপরও আমি সবকিছু মেনে নিতে পারতাম, যদি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ভরাডুবি না হতো। জাতীয় পার্টিকে ধ্বংসের শেষ সীমানায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এটা আমি কীভাবে মেনে নেবো? 

‘দলের চরম বিপর্যয়ের মুহূর্তে পল্লীবন্ধুর জাতীয় পার্টিকে বাঁচাতে আপনারাই প্রথমে উদ্যোগ নিয়েছেন। দলের অগণিত নেতাকর্মীর দাবির মুখে আমি জাতীয় পার্টির চেয়াম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছি। আজ আপনারা আমার দায়িত্ব গ্রহণকে অনুমোদন দিয়েছেন। আপনারাই জাতীয় পার্টির সকল ক্ষমতার উৎস। আপনারা যেভাবে চাইবেন, পার্টি সেভাবেই পরিচালিত হবে। নতুন নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি আবার ঘুরে দাঁড়াবে’, বলেন রওশন এরশাদ। 

তিনি বলেন, পল্লীবন্ধুর নীতি-আদর্শ, তার চেতনা-প্রেরণা, তার ভাবমূর্তি হচ্ছে জাতীয় পার্টির অস্তিত্ব। সেই অস্তিত্বকে যারা মুছে দিতে চায়, তারা জাতীয় পার্টির পরিচয় দেওয়ার অধিকার রাখে না।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রওশন এরশাদ বলেন, পল্লীবন্ধু এরশাদ স্বপ্ন দেখেছেন নতুন বাংলাদেশ গড়ার। তিনি স্বপ্ন দেখেছেন এ দেশে প্রাদেশিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের। তিনি চেয়েছিলেন নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কার করার। তিনি চেয়েছিলেন পূর্ণাঙ্গ উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে। তিনি চেয়েছিলেন ৬৮ হাজার গ্রামকে বাঁচিয়ে গোটা বাংলাদেশকে বাঁচাতে। আপনারা কি পল্লীবন্ধুর সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে পারবেন? 

নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখে আবেগ আপ্লুত হয়ে রওশন এরশাদ বলেন, আজ আমার হৃদয় কানায় কানায় ভরে গেছে। আপনারা আমার ডাকে সারা দিয়ে সকল জেলা থেকে অল্প সময়ের মধ্যে এই বর্ধিত সভায় যোগ দিয়েছেন। আপনারা প্রমাণ করেছেন, পল্লীবন্ধু এরশাদের জাতীয় পার্টি হারিয়ে যায়নি, হারিয়ে যাবে না। আপনারা পার্টিকে আবার সুসংগঠিত করে পল্লীবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবেন।

‘আপনাদের একটি কথা বলতে চাই, আজ আপনাদের পেয়ে আমার মনোবল দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। যতদিন বেঁচে আছি, আপনাদের মাঝেই বেঁচে থাকতে চাই। পল্লীবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের সংগ্রামই হবে আমাদের সকলের পথ ও পাথেয়,’ এমন প্রত‌্যয় ব‌্যক্ত করেন দলটির চেয়ারমান রওশন এরশাদ।

নতুন সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে, জানিয়ে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অশনিসংকেত দেখা যাচ্ছে। সরকার যদি তা মোকাবিলা করতে না পারে, তাহলে দেশে বড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। 

পবিত্র রমজানে দ্রব‌্যমূল‌্য নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়ে রওশন এরশাদ বলেন, দ্রব্যমূল্য এখনই সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। আর রমজানকে সামনে রেখে অসাধু ব্যবসায়ীরা ওঁৎ পেতে বসে আছে। এক্ষেত্রে সরকারের প্রধান কাজ হবে, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

দলের যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল আহসান শাহজাদার সঞ্চালায় বর্ধিত সভায় বিভিন্ন জেলা শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সাদ এরশাদ, দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, কাজী মামুনুর রশীদ, গোলাম সারোয়ার মিলন, ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, জাফর ইকবাল সিদ্দিকী, ক্বারী হাবিবুল্লাহ বেলালী, নুরুল ইসলাম মিলন, রফিকুল ইসলাম হাফিজ, এম এ গোফরান, ভাইস চেয়ারম্যান জিয়াউল হক মৃধা, কাশেম সরকার, নুরুল ইসলাম নুরু, মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, ইঞ্জিনিয়ার মামুনুর রশিদ, আব্দুল গাফফার বিশ্বাস, খোরশেদ আলম খুশু, ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল হক, ড. আব্দুল্লাহ আল নাসের, শেখ মাসুকুর রহমান, শংকর পাল, কেন্দ্রীয় নেত্রী শাহিন আরা সুলতানা রিমা, শাহনাজ পারভিন, মাহমুদা রহমান মুন্নী, খন্দকার মাহতাব উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম শফিক, এমএ সাত্তার, আমিনা হাসান, মোল্লা শওকত হোসেন বাবুল, অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান, মিজানুর রহমান প্রমুখ।

নঈমুদ্দীন/রফিক

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়