ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৫ মার্চ ২০২৪ ||  ফাল্গুন ২১ ১৪৩০

বাংলাদেশ ‘বাংলা ওয়াশ’

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৫৬, ১৩ অক্টোবর ২০২২   আপডেট: ১২:৩২, ১৩ অক্টোবর ২০২২
বাংলাদেশ ‘বাংলা ওয়াশ’

সিরিজের নামকরণ করা হয়েছিল ‘বাংলা ওয়াশ।’ বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে ‘বাংলা ওয়াশ’ শব্দটা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলাদেশ প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করলে ঘুরে ফিরে আলোচনায় আসে ‘বাংলা ওয়াশ’। কিন্তু এবারের সিরিজে বাংলাদেশ নিজেরাই হয়ে গেলো ‘বাংলা ওয়াশ।’

ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথমে পাকিস্তান, তারপর নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দুই হারের পর আবারও বাবর আজমদের বিপক্ষে একই ফল বাংলাদেশের। কোনও জয় ছাড়াই শেষ হলো বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের প্রস্তুতি পর্ব। 

এই সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য ছিল বিশ্বকাপ প্রস্তুতির মঞ্চই। কিন্তু সেটিকে আদর্শ প্রস্তুতির মঞ্চ বানাতে ব্যর্থ সাকিব আল হাসানরা। 
শেষ ম্যাচে ব্যাটিংয়ে উন্নতি হয়েছে। কিন্তু বোলিং ও ফিল্ডিং ব্যর্থতার গল্পগুলো একই। এই ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাসের রসদ মজুদ করার সুযোগ ছিল। কিন্তু টানা চার হারে শূন্য হাতে বিশ্বকাপ মঞ্চে যাচ্ছে সাকিবরা। 

হ্যাগলি ওভালে আগে ব্যাটিং করে ৬ উইকেটে ১৭৩ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে শেষ ওভারে রোমাঞ্চ ছড়ানোর পরও পাকিস্তান ৭ উইকেটে অনায়াসে জয় তুলে নেয়। ম্যাচের পর হতাশাজনক হারের সঙ্গে নিজেদের বিশ্বাসের ভিত শক্ত করার মতো কিছুই ঘটেনি এবারের সিরিজে। ফলে সিরিজটি আটকে গেছে ‘শিক্ষা সফরেই।’ 

ত্রিদেশীয় সিরিজে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হবে, আদর্শ কম্বিনেশন ঠিক করা হবে, একে-ওকে বাজিয়ে দেখা হবে; ঘুরে ফিরে এসব কথাই বলা হচ্ছিল। টেকনিক্যাল কনসালট্যান্ট শ্রীধরন শ্রীরাম সেই কাজটাই করেছেন। কিন্তু খেলোয়াড়রা বারবার ব্যর্থ। ওপেনিং রীতিমতো বাংলাদেশের সাফল্যের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্য ওভারগুলোতে জুটি গড়ার পর ছন্দ পায় বাংলাদেশ। কিন্তু হঠাৎ ছন্দ হারিয়ে তালগোল পাকিয়ে অল্পতেই গুঁড়িয়ে যায়। আজও তেমন কিছুর দেখা মিলেছে হ্যাগলি ওভালের সবুজের গালিচায়। 

সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেওয়ার পর লিটন দাস ও সাকিব আল হাসান দলের হাল ধরেন তৃতীয় উইকেটে। প্রতি আক্রমণে এত সুন্দর ব্যাটিং করেছেন যে প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়রাও মুগ্ধ হয়েছেন। তাদের ৮৮ রানের জুটি গড়ে দেয় বড় সংগ্রহের ভিত। কিন্তু তাদের বিদায়ের পর ছন্নছাড়া দল। লিটন ৪২ বলে ৬৯ রান করেন ৬ চার ও ২ ছক্কায়। সাকিব সমান বলে ৬৮ রান করেছেন ৭ চার ও ৩ ছক্কায়। 

অথচ তাদের বিদায়ের পর শেষ ২ ওভারে বাংলাদেশ পায় মাত্র ১২ রান। এছাড়া ইনিংসের প্রথম ওভারে মাত্র ১। পাওয়ার প্লে’তে বাংলাদেশের গড় রান ৪০। আজ ৪১ তুলেছেন ব্যাটসম্যানরা। ১০ ওভারে রান পায় ৮০। পরের ১০ ওভারে ৯৩ রান তুললেও তা যথেষ্ট ছিল না। সাকিব সেই কথাই বলেছেন ম্যাচ শেষে, ‘আমরা শেষ ওভারে মাত্র ৩ রান পাই। যেটা ঠিক হয়নি। ওখানে ১২-১৫ রানের একটি ওভার হলে আমাদের জন্য ভালো হতো।’ 

ব্যাটিং মোটামুটি ঠিকঠাক হলেও বোলিংয়ে স্রেফ এলোমেলো। টি-টোয়েন্টিতে এখন ওপেনিংয়ে নাম্বার ওয়ান জুটি বাবর-রিজওয়ান। তাদের আউট করতে হলে বিশেষ কিছু করতেই হবে। কিন্তু তাসকিন, শরিফুল, হাসান মাহমুদদের সেই সামর্থ্য ছিল না। সাকিবও যেন দর্শক। ফলে বাবর-রিজওয়ান জুটি পেয়ে যান নিজেদের অষ্টম শতরানের জুটি। 

তাদের দুজনের ১০১ রানের জুটিতে খুব সহজেই জয়ের ভিত পেয়ে যায় পাকিস্তান। এরপর আর তাদের পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। হাসান বাবর ও হায়দারকে ফিরিয়ে জোড়া আঘাত করলেও নওয়াজ প্রতি আক্রমণে দ্রুত রান তুলে বাংলাদেশের থেকে ম্যাচ বের করে নেন। উল্লেখ্য, নড়বড়ে বোলিংয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের গ্রাউন্ড ফিল্ডিং ছিল চরম বাজে। ফিল্ডারদের হাত ফসকে ডাবলস বেরিয়ে গেছে একাধিকবার। সাইফউদ্দিন মিস করেছেন ম্যাচ সেরা রিজওয়ানের ক্যাচ। আফিফ, মোসাদ্দেক, ইয়াসিররা সীমানায় মিস ফিল্ডিং করেছেন। সব মিলিয়ে ব্যাটিং, বোলিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও হতাশ করেছেন।

শূন্য হাতে বিশ্বকাপ মঞ্চে যাওয়া বাংলাদেশ এবার সরাসরি সুপার টুয়েলভে খেলবে। ২৪ অক্টোবর খেলবে নিজেদের প্রথম ম্যাচ। এর আগে আফগানিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচও আছে। দেখার বিষয়, নিউ জিল্যান্ডের ব্যর্থ মিশন শেষে অস্ট্রেলিয়ায় গোটা বাংলাদেশ কেমন পারফর্ম করে? 

একটি ইতিহাস মনে করিয়ে দেওয়া যাক, ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের পর মূল পর্বে কখনও কোনও ম্যাচ জেতেনি বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়াতে এই হারের গেরো ছুটাতে পারবে বাংলাদেশ? সময়ের কাছেই প্রশ্নটা তোলা থাক।

ঢাকা/ইয়াসিন/ফাহিম

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়