ঢাকা     বুধবার   ১৯ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৫ ১৪৩১

পারফেক্ট সিরিজে বাংলাদেশের যত প্রাপ্তি

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৩৬, ২৪ মার্চ ২০২৩   আপডেট: ১৫:৫১, ২৪ মার্চ ২০২৩
পারফেক্ট সিরিজে বাংলাদেশের যত প্রাপ্তি

আয়ারল‌্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক সিরিজ শেষ করলো বাংলাদেশ। শক্তি ও অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ নিজেদের সামর্থ‌্যের জানান দিতে চেয়েছিল। মাঠের ক্রিকেটে সেই চিত্র ফুটে উঠে প্রবলভাবে। ব্যাট-বলের দারুণ সময়ে দেখা মেলে আগ্রাসী ক্রিকেটের। তাতে রানও যেমন হয়েছে। বোলারদের মুখেও ফুটেছে হাসি। ২-০ ব‌্যবধানে জেতা সিরিজে প্রাপ্তির খাতা টইটুম্বুর। অধিনায়ক তামিমের চোখে সিরিজটি একদম পারফেক্ট। এই পারফেক্ট সিরিজে যেসব প্রাপ্তি মিলেছে তা দেখে নেয়া যাক এক নজরে।

রানের হিসেবে বড় জয়:
প্রথম ম‌্যাচে বাংলাদেশ জয় পায় ১৮৩ রানে। যা বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়। টস হেরে আয়ারল‌্যান্ডের আমন্ত্রণে ব‌্যাটিংয়ে নেমে ৩৩৮ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে তাদেরকে ১৫৫ রানে আটকে দেয় বোলাররা।

উইকেটের হিসেবে বড় জয়:
তৃতীয় ওয়ানডেতে আসে উইকেটের হিসেবে সবচেয়ে বড় জয়। এদিনও টস জিতেছিল আয়ারল‌্যান্ড। এবার বাংলাদেশকে ফিল্ডিংয়ে পাঠিয়ে আগে ব‌্যাটিংয়ে যায় অতিথিরা। কিন্তু মাঠের ক্রিকেটে সেই একই চিত্র। ১০১ রানে অলআউট তারা। এই রান বাংলাদেশ তাড়া করে ১০ উইকেট হাতে রেখে। যা বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়।

বলের হিসেবে দ্বিতীয় বড় জয়:
তৃতীয় ম্যাচে ২২১ বল হাতে রেখে জিতেছে বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে অব্যহৃত বলের হিসাবে, যা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বড় জয়।

সাকিবের ৭০০০:
তামিম ইকবালের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতে ৭ হাজার রানের মাইলফলক পেরিয়ে যান সাকিব। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৯৩ রান খেলার পথে সাকিব অনন‌্য এ রেকর্ড গড়েন। ২৪ রান দূরে থেকে ম‌্যাচে মাঠে নেমেছিলেন। যুৎসই ব্যাটিংয়ে সহজেই ল‌্যান্ডমার্কে পৌঁছে যান বাংলাদেশের সুপারস্টার। 

মুশফিকেরও ৭০০০:
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। ওই ইনিংস খেলার পথে মুশফিকও ওয়ানডে ক্রিকেটে ৭ হাজার রান ছাড়িয়ে যান। তামিম ও সাকিবের পর তৃতীয় ব‌্যাটসম‌্যান হিসেবে অনন‌্য কীর্তি গড়েন মুশফিক। ৫৫ রান দূরে থেকে মাঠে নেমে অতি সহজেই পৌঁছে যান মাইলফলকে।

মুশফিকের দ্রুততম সেঞ্চুরি:
২০০৯ সালে বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঝড় তুলে সাকিব ৬৩ বলে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন। ১৪ বছরের রেকর্ড ভেঙে মুশফিক সাকিবকে টপকালেন। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাত্র ৬০ বলে সেঞ্চুরি পান মুশফিক। ইনিংসের শেষ বলে এক রান নিয়ে ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ১৪ চার ও ২ ছক্কায় তাণ্ডব চালিয়ে পৌঁছান তিন অঙ্কে।

পেসারদের ১০ উইকেট:
প্রথমবারের মতো ওয়ানডে ইতিহাসের বাংলাদেশের পেসাররা প্রতিপক্ষের ১০ উইকেট পেয়েছে। এর আগে ৮ উইকেট ছিল সর্বোচ্চ। টেস্টে একবার পেয়েছিল ৯ উইকেট। তৃতীয় ওয়ানডেতে হাসান মাহমুদের ফাইফার এবং তাসকিনের ৩ ও ইবাদতের ২ উইকেটে সব উইকেট পান পেসাররা। পেস বোলিংয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে যে বিপ্লব চলছে তার প্রমাণ এই পরিসংখ‌্যানই।

দলীয় সর্বোচ্চ রান:
প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩৩৮ রান করেছিল। ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে সেই রেকর্ড টিকে থাকেনি। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ৬ উইকেটে ৩৪৯ রান করে।

হৃদয়ের বাজিমাত:
ওয়ানডে অভিষেকে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েন তাওহীদ হৃদয়। হাতছানি দিচ্ছিল বিশ্বরেকর্ড। অভিষেকে পাঁচে নেমে কোনো ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরি ছিল না। অভিষেকে সর্বোচ্চ ছিল স্বপ্নীল প্রকাশ পাটিলের ৯৯ রান। মাত্র ৮ রানের জন্য হৃদয় বিশ্বরেকর্ড গড়তে পারেননি। গ্রাহাম হুমের স্লোলার ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে ফেরেন ৯২ রানে। এর আগে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেকে সর্বোচ্চ ৬৩ রান ছিল নাসির হোসেনের। ১২ বছর পর এই রেকর্ড ভাঙেন হৃদয়। ৮টি চার ও দুটি ছয়ে পাঁচে নেমে এই রান করেন তিনি।

সাকিবের ডাবল ধামাকা:
এই সিরিজে ওয়ানডেতে সাকিবের রান ৭ হাজার ছাড়িয়েছে। আগেই তার উইকেট ৩০০ ছাড়িয়ে। রান ও উইকেট সংখ্যায় অসাধারণ ডাবল ছুঁয়েছেন সাকিব। ওয়ানডেতে সাকিবের রান ৭০৮৬। উইকেট ৩০১টি। তার চেয়ে কেবল এগিয়ে সনাৎ জয়াসুরিয়া ও শহীদ আফ্রিদি। জয়াসুরিয়ার ৪৪৫ ম্যাচে রান ১৩৪৩০, আর উইকেট ৩২৩টি। আফ্রিদির ৩৯৮ ম্যাচে রান ৮০৬৪, উইকেট ৩৯৫টি। এরপর সাকিবের স্থান।

বাংলাদেশেরও ১০, আয়ারল্যান্ডেরও ১০:
প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ১০ উইকেটে ওয়ানডে জিতেছে। আয়ারল্যান্ডও ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথমবার ১০ উইকেটে হেরেছে। একজনের অর্জনের ঝুলি যেমন ভারী হয়েছে। অন্যজন বিব্রতকর রেকর্ডকে সঙ্গী করেছে।

প্রথম:
হাসান মাহমুদের হাত ধরে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নতুন ক্লাবের যাত্রা শুরু হলো। সিলেটে এই প্রথমবারের মতো কোনো পেসার ৫ উইকেট পেয়েছেন।

ইয়াসিন/আমিনুল

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়