ঢাকা     শনিবার   ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১১ ১৪৩০

গায়ে ‘বুলেট’ আমিও নিয়েছি: আতহার আলী খান

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:০৩, ৫ অক্টোবর ২০২৩   আপডেট: ১৪:১৬, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
গায়ে ‘বুলেট’ আমিও নিয়েছি: আতহার আলী খান

‘ভয়েস অব বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত তিনি। মাঠে লাল-সবুজের ক্রিকেটাররা ওড়ান বিজয়ের পতাকা, আর সেই বিজয়কে কথার মালা দিয়ে আরও শোভিত করেন আতহার আলী খান। যখন যেখানে বাংলাদেশ মাঠে নামুক না কেন, তিনিও থাকছেন বাংলাদেশের ‘দ্বাদশ খেলোয়াড়’ হিসেবে। 

১৯৯৯ বিশ্বকাপ খেলা সাবেক এই ক্রিকেটারের ধারাভাষ্যকার জীবনের শুরুটা সহজ ছিল না। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে শুরু করা বাংলাদেশ তখন জিততো কালেভাদ্রে। তখন আশা দেখানো, স্বপ্ন বাঁচানো ছিল আতহারের একমাত্র সম্বল। খেলার মান একটা সময় বাড়তে থাকে। আতহারের কণ্ঠও ভারী হতে শুরু করে। এরপর বাংলাদেশ একের পর এক পরাশক্তিতে মাটিতে নামিয়ে আনে, আতহারের কথার ধারও বাড়তে থাকে। এখন শব্দের মুগ্ধতায় চলে তার লড়াই। 

রাইজিংবিডির বিশ্বকাপ আয়োজনে থাকছে আতহার আলীর বিশেষ সাক্ষাৎকার-

ধারাভাষ্যকার হিসেবে স্মরণীয় মুহূর্ত...
আতহার আলী খান: ২০০৭ সালে ত্রিনিদাদে ভারতকে হারিয়েছিলাম, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে। হট ফেবারিট ছিল ভারত। সবাই মনে করেছিল ভারত চ্যাম্পিয়ন হবে। আমরা তাদেরকে প্রথম ম্যাচেই হারিয়ে দিয়েছি। অসাধারণ। তামিমের একটা ছয়ের কথা মনে থাকবে আমার। আমি তখন ধারাভাষ্যকার হিসেবে ছিলাম ওইখানে। ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে জহির খানকে একটা ছয় মেরেছে। 

একটা সময় শুধু বাংলাদেশ হারের বৃত্তে থাকতো। তখন ধারাভাষ্যে সময়টা কেমন যেত? 
আতহার আলী খান: আমার কমেন্ট্রি ক্যারিয়ারের প্রথমদিকে ভয়ই লাগতো। কোন সময় কে কি বলবে, হারলে পারফরম্যান্স ভালো না করলে লজ্জা! যেভাবে চোখের দিকে তাকাতো, একটু গায়ে লাগত। যখন আমরা জয় করেছি, তখন কিন্তু টিমের জয়ের কারণে আমার সম্মানটা বেড়ে যায়। সবাই কিন্তু অবাক। 

কমেন্ট্রি বক্সে কখনো বাজে অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন কি না, যেটা মনে রাখতে চান না?
আতহার আলী খান: না আমার মনে হয় না। প্রথম দিকে আমি যখন আরম্ভ করি, তখন আমাদের কমেন্ট্রি বক্সে যারা কমেন্ট্রি করত তখন প্রশ্ন করত, আতাহার ভাই কী হবে। ওই সব শুনতে গেলে আমার কিন্তু খারাপই লাগত। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল না। আরেকটু বেশি হলে নেমে  যেতাম। কিন্তু কমেন্ট্রি বক্সে আমি বাংলাদেশের পক্ষে যুদ্ধে করেছি, যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি। আমি কিন্তু গায়ে বুলেট নিয়েছি, গায়ে মুখে অনেক কথা শুনেছি। কিন্তু তারপরও আমি হাল ছাড়িনি। 

মাঠে লড়ে ক্রিকেটাররা, আর ধারাভাষ্য দিয়ে সেই খেলা ফুটিয়ে তোলেন আপনি। কেমন লাগে?
আতহার আলী খান: আমি এটা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। বলতে পারেন অসীম ভালোলাগা। অতিরিক্ত সম্মান পাই। আমাদের সবারই চিন্তা একই, সবাই জয়  দেখতে চাই। আমরা বাংলাদেশ দলের বিজয় দেখতে চাই, যে কোনো খেলা হোক।  যে কোনো টুর্নামেন্ট হোক। ওখানে যে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। আমি সারাজীবন সব সময় ক্রিকেট মাঠে হোক, বাইরে হোক, কমেন্ট্রি বক্সের ভেতরে হোক বা বাইরে হোক, বাংলাদেশের পতাকা উড়াই।

ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপের স্মৃতি...
আতহার আলী খান: ১৯৯৯-তে পাকিস্তানকে হারালাম এটাই তো সবচেয়ে বড় স্মৃতি। আইসিসি ট্রফি খেলার পর আমরা যখন কোয়ালিফাই করি, তখন পাকিস্তানের বিপক্ষে যখন খেলতে গেলাম, তখন ভাবতেই পারিনি আমরা জিতব।

সামনে আরও একটি বিশ্বকাপ। বাংলাদেশ নিয়ে কি প্রত্যাশা...
আতহার আলী খান: দেখুন, আমি কিন্তু সব সময় আমার দলকে উঁচুতে রাখি। বাংলাদেশ টিম ফাইনাল খেলবে এটা আমার স্বপ্ন। স্বপ্নটা আমাকে  দেখতেই হবে। আমি এই স্বপ্নটা দেখতে চাই, বাংলাদেশ টিম ফাইনাল খেলুক। বাংলাদেশ টিমের ক্যাপ্টেনের কাছে ফাইনাল দেখতে চাই। আশা করব, আশা প্রত্যাশা সব সময় থাকবে।

ঢাকা/রিয়াদ/বিজয়

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়