ঢাকা     সোমবার   ১৫ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ২ ১৪৩১

‘কোনো অজুহাত নেই, ক্যালকুলেটিভ রিস্ক নিয়েছি’

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৪৪, ২ এপ্রিল ২০২৪  
‘কোনো অজুহাত নেই, ক্যালকুলেটিভ রিস্ক নিয়েছি’

পাঁচ ইনিংস পর দলীয় রান দুইশ! মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের প্রাপ্তি এতোটুকুই। কিন্তু এইটুকু প্রাপ্তি দিয়ে তো আর হিসেব-নিকেশ চলে না। ব্যাটিং ব্যর্থতায় এই টেস্টেও পরাজয় উঁকি দিচ্ছে। বুধবার শেষ দিনে শ্রীলঙ্কা তিন উইকেট নিতে পারলেই ম্যাচ হেরে যাবে বাংলাদেশ। ৫১১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ২৬৮ রানে দিন শেষ করেছে। সিলেটের পর চট্টগ্রামেও ব্যাটিং ব্যর্থতা। টপ থেকে মিডল অর্ডার কোথাও ব্যাটসম্যানদের রান নেই। ন্যূনতম লড়াইয়ের তাড়না নেই। নেই টেস্ট মেজাজে ব্যাটিং করার মানসিকতা। কোথায় ঘাটতি বাংলাদেশের?

উত্তর দিতে দিয়ে মুমিনুল হক কোনো অজুহাতই পেলেন না। বরং ব্যাটিংয়ে ভালো করতে না পারায় নিজেদের দায় দেখছেন তিনি, ‘এই সিরিজে আমরা ব্যাটিং বিভাগ পুরো ধ্বস কাটিয়েছি। এটার কোনো অজুহাত নেই। আমরা কোনো অজুহাত দিতে পারব না। আসলে আমরা দলগতভাবে খুব বাজে ব্যাটিং করছি। পুরো সিরিজে যেখানে আমাদের ক্লিক করা দরকার ছিল সেখানে আমরা কিছুই করতে পারিনি।’

উইকেটে ব্যাটিং করা কঠিন ছিল। তবে ৭ উইকেটের জায়গায় যদি ৫ উইকেট থাকত, তাহলে কিছুটা হলেও ম্যাচ বাঁচানো বা ভিন্ন কিছুর আশা করতে পারতো বাংলাদেশ। মুমিনুলের কথায় এমন আভাসই পাওয়া গেল, ‘এখনে ব্যাট করা তো খুবই কঠিন। পুরো দিনে আমার কাছে মন হয় আমরা যদি চার উইকেটেও যদি এই রানটা করতে পারতাম তাহলে হয়তো কালকে জিনিসটা আরেকটু ভিন্ন হতো। অথবা, দুই উইকেট (কম হারিয়ে) যদি এখন আছে ২৩৮ রান, ২৩০ হতো, তাহলে কিন্তু ওরা চাপে থাকত। কারণ কাল সারাদিন থাকলে ওই রানটা আরামে তিন সেশন খেললে চলে আসে। উইকেটগুলো তাড়াতাড়ি পড়েছে।’

জয়, জাকির, শান্ত, সাকিব, লিটন প্রত্যেকেই থিতু হয়ে আউট হয়েছেন। লম্বা সময় ধরে তারা ক্রিজে কাটিয়ে উইকেট আত্মাহুতি দিয়ে এসেছেন। আলগা শটে হারিয়েছেন উইকেট। সময় কাটিয়ে থিতু হওয়ার পরও এমন ছন্নছাড়া ব্যাটিংয়ের কারণ খুঁজে পান না মুমিনুল, ‘সবাই সেট হয়ে আউট হয়েছে। যারা আউট হয়েছে ইভেন আমিও সবার দায় নিজেরই। এখন এই পজিশনে ব্যাট করাটা কঠিন। কঠিন মানে অনেক কঠিন। আমি অপটিমিস্টিক থাকলেও বলা ডিফিকাল্ট।’

মুমিনুল দলের হয়ে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫০ রান করেছেন। ওয়ানডে ঘরানায় সাজিয়েছেন নিজের ইনিংস। ডাউন দ্য উইকেটে এসে শট খেলেছেন। উইকেটের চারিপাশে বাউন্ডারি মেরেছেন। সুইপ করে পেয়েছেন বাউন্ডারি। আগ্রাসী ওই ব্যাটিংই তার কাল হয়েছে। টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৬তম ফিফটি ছোঁয়ার পর সুইপ করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন।

৮ চার ও ১ ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি আক্রমণাত্মক ছিল না দাবি করে মুমিনুল বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় না যে আক্রমণাত্মক ছিলাম। আমি চেয়েছিলাম আক্রমণাত্মক ক্রিকেট নয় স্বাভাবিক খেলার। যদি শুধু ব্লক-ব্লক খেলি তাহলে বোলারের জন্য একটা জায়গা স্পেস তৈরি হয়ে যায়। যদি দেখেন পেস বলে রাশ শট যেগুলোকে বলে সেগুলো একটাও খেলিনি। স্পিনে যেসব জায়গায় আমার জোন সেসব জায়গায় আমি ক্যালকুলেটিভ রিস্ক নিয়েছি।’

চট্টগ্রাম/ইয়াসিন/বিজয়

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়