ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৪ ১৪৩১

মানুষ ও শিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরী

কামালুদ্দিন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:২৩, ২০ মার্চ ২০২৩   আপডেট: ১৯:৪৯, ২৩ মার্চ ২০২৩
মানুষ ও শিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরী

সমরজিৎ রায় চৌধুরী, আলোকচিত্রী: সাইফুর রহমান লেনিন

আমরা অনেকেই যা স্বভাব দোষে করে থাকি- নির্দিষ্ট পথ এড়িয়ে প্রকৃতির সবুজ-সতেজ ঘাস, তৃণ, লতাপাতা পায়ে পিষে দুমড়ে-মুচড়ে নতুন পথ তৈরির নামে সৌন্দর্যের অঙ্গহানি করি। এই স্বভাব দোষ কম-বেশি অনেকেরই আছে। তবে আমি জীবনে এমন এক মানুষকে দেখেছি যিনি এই স্বভাব দোষে দুষ্ট নন। বরং ঠিক তার উল্টো। 
মাটিতে পায়ের দর্প এঁকে নয়, বরং মাটিতে পায়ের কোমলতা বুলিয়ে হেঁটে যেতেন নির্দিষ্ট পথ দিয়ে। হাঁটার সময় তাঁর পায়ের আওয়াজ, কোনো অযাচিত ঘর্ষণ, গর্জন, আচড় বা পদচিহ্ন দেখিনি। কখনো সজীব ঘাস পায়ে মাড়িয়ে যেতে দেখিনি তাঁকে। অত্যন্ত বিনীত ভঙ্গিতে, আলতো পায়ে, মাথা নুয়ে হেঁটে যেতেন তিনি। আমি ছাত্রজীবন থেকে দেখতাম আমাদের চারুকলার অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগের বারান্দা দিয়ে হেঁটে গ্রাফিক আর্ট বিভাগে যেতেন ক্লাসের নির্দিষ্ট সময় সকাল ন’টার আগে।

অনেক সময় আমরা যখন বারান্দায় বিক্ষিপ্তভাবে বসে পথ আগলে ছবি আঁকতাম তখন তাঁর আসা যাওয়ায় একটু সমস্যা হতো। তখনও আমাদের মগ্নতা ভঙ্গ না করে বারান্দা থেকে নেমে নিচ দিয়ে তিনি হেঁটে যেতেন। তিনি যে যাচ্ছেন সেটা আমরা আঁচও করতে পারতাম না অনেক সময়। আর যদি আমরা টের পেতাম, তখনই সরে গিয়ে তাঁকে পথ করে দিতাম। তাতে খুশী হওয়ার বদলে তাকে অপরাধবোধে ভুগতে দেখতাম। কারণ তিনি মনে করতেন শিক্ষার্থীদের কাজে বিঘ্ন ঘটানো মানে ধ্যানী বুদ্ধের ধ্যান ভাঙিয়ে দেয়া। তাই তিনি আড়ষ্ট হয়ে খুব নিচু স্বরে বলতেন, বাবারা তোমরা ছবি আঁকো আমি নিচ দিয়ে যাই।

এরপর সত্যিই তিনি আমাদের সব মুহূর্তের তটস্থতা মুগ্ধতায় ভরিয়ে দিয়ে খুব ধীর পায়ে চলে যেতেন তাঁর বিভাগে। ক্লাস শেষ হলে প্রতিদিন দুপুর দুইটার পর তাঁকে একইভাবে চলে যেতে দেখতাম। তাঁর কথা বলার ভঙ্গি ছিল শান্ত, নমনীয়। তাঁর ভাষা-ব্যবহার দেখে মনে হতো স্বর্গের দেবতারা এমন করে কথা বলেন! তবে তাঁকে এখন আর ক্লাসে বা চারুকলা প্রাঙ্গণে হেঁটে যেতে দেখি না। নিজ গৃহের ঠিকানা মুছে দিয়ে আমাদের সকলকে ছেড়ে চলে গেছেন স্বর্গের নন্দনকাননে, একেবারে নতুন ঠিকানায়। তিনি হচ্ছেন আমাদের সকলের শ্রদ্ধাভাজন মহান এক মানুষ, শিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরী।

হাসপাতালে স্যার মৃত্যুশয্যায় সন্তানদের বলছিলেন, ‘আমাকে একটু বাঁচিয়ে তোল, আমি আবার ছবি আঁকবো।’ স্যারের দীর্ঘ জীবনেও ছবি আঁকা শেষ করতে পারেননি। শিল্পক্ষুধাটা অতৃপ্তই রয়ে গেলো। অনেকটা রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘অন্তরে অতৃপ্তি রবে, সাঙ্গ করি মনে হবে শেষ হয়ে হইল না শেষ’।

শিল্পের সঙ্গে ছিল তাঁর আত্মার সামগ্রিক সংযুক্তি। কিন্তু অপরপিঠে অপর চেহারা- নাম, যশ, খ্যাতির ব্যাপারে ছিল ভীষণ অনীহা। মানুষের মধ্যে বহু প্রভেদ রয়েছে। অনেকে আকাশ ছুঁতে চান, অনেকে আবার মাটি ছুঁতে চান। সেক্ষেত্রে সমরজিৎ স্যার ছুঁতে চেয়েছেন মাটি। কারণ মাটিতে মা আছে, দেশ আছে, সাধারণ মানুষ আছে। আর আকাশ সে তো বহু ওপরে, নাগালের বাইরে, সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন। তাইতো সেসব আকাশ ছোঁয়া বিশিষ্টজন কখনো কখনো একেবারে একা। অমন আকাশছোঁয়া মানুষগুলোকে মানুষ ঠিক মনে রাখে কি না সন্দেহ। কিন্তু যারা মাটিতে থাকেন, মানুষের সঙ্গে থাকেন মানুষের হৃদয়েই তাদের বসবাস। তাদের প্রাণসম্ভারে যুক্ত রয়েছে মানুষের ভালোবাসা।

বৈভবহীন শিষ্টালাপী, নির্মোহ, নিরহঙ্কার, দেবতুল্য মানুষ সমরজিৎ রায় নিতান্ত সাধারণ জীবন যাপন করতেন। তাই তিনি আমাদের কাছে হয়ে রয়েছেন অসাধারণ। পিকাসোর মতে ‘শিল্পকলার উদ্দেশ্য হচ্ছে আত্মা থেকে দৈনন্দিন জীবনের ধুলোগুলো তুলে ধরা’। তো সাধারণ মানুষের কথা বাদই দিলাম, আমরা যারা শুধুই শিল্পকলার মানুষ তারাও কি আদৌ মনের ধুলো ঝেড়ে নিতে পেরেছি?

মানুষ হিসেবে প্রত্যেকের সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। মানুষের নৈতিক দায় দায়িত্ব রয়েছে। কথিত আছে মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ, বিজ্ঞান ও দর্শনেও বহু ব্যাখ্যা আমরা পাই। কিন্তু কার্যত আমরা সৃষ্টির সেরা হয়ে উঠতে পারি না। কিন্তু সমরজিৎ রায়রা সৃষ্টির সেরা। কারণ সৃষ্টির অন্যান্য প্রাণকে তিনি মূল্য দিতেন। অন্যান্য প্রাণের অধিকার ও মর্যাদার কথাও ভাবতেন। মান আর হুঁশ মিলে নাকি মানুষ হয়। পৃথিবীর সব কিছুর একটি কেন্দ্র আছে, মূল বা মূলধন আছে। সেক্ষেত্রে মানুষের মূলধন হচ্ছে মনুষ্যত্ব। এখন মনুষ্যত্ব শব্দটি ব্রাত্য, অর্বাচীন। বেশীরভাগ মানুষ এখন পশুর এডাপ্টেশন। শিল্পী সমরজিৎ রায় ছিলেন সেইসব শ্রেষ্ঠ মানুষদের একজন, যাঁদের আমরা সম্বোধন করতে পারি শুধু সৃষ্টির সেরা জীব নয় ‘শ্রেষ্ঠ মানুষ’ হিসেবেও। মানুষ হিসেবে, শিল্পী হিসেবে যিনি মানুষের প্রতি, অপরাপর প্রাণের প্রতি নিজের কর্তব্য বিস্মৃত হননি কখনো। সব প্রাণের প্রতি, শিল্প ও সভ্যতার জন্য নিজের সর্বোত্তম অবদান রাখার প্রাণান্ত চেষ্টা করে যেতেন আমৃত্যু। ঘুণে ধরা শিরদাঁড়া ভাঙা নড়বড়ে সমাজে এমন উদাহরণস্বরূপ আদর্শ মানুষ দুর্লভ।

সমরজিৎ রায় চৌধুরীর আঁকা চিত্রকর্ম

একদিন কথাপ্রসঙ্গে স্যারকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, শিল্পী হতে গেলে কী করতে হবে? তিনি বললেন, ‘ছবি অনেকেই আঁকতে পারে, তার আগে দরকার ভালো মানুষ হওয়া।’ আপনি আচরি ধর্ম, পরেরে শিখাও- স্যার এমন নন। স্যারের কথার সঙ্গে কাজের মিল রয়েছে। ভালো মানুষের সমস্ত গুণাবলী স্যারের মধ্যে ছিলো। আমরা দেখেছি মানুষের কল্যাণে, দেশের ক্রান্তিলগ্নে স্যার তাঁর সর্বোচ্চ সংবেদ প্রকাশ করছেন। প্রতিটি শ্রেণী-পেশার মানুষকে দিয়েছেন সমান গুরুত্ব। মানুষকে কীভাবে সম্মান দিয়ে কথা বলতে হয় সেটা স্যারের কাছাকাছি না গেলে বুঝতে পারতাম না। দম্ভ আর প্রাবল্য তাঁর জীবনমহলে প্রবেশ করেনি কখনো।

এই অনুগ্র নিচুস্বরের মানুষটি যেকোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত বা দায়িত্বের বেলায় দৃঢচেতা আবার অন্যদিকে অন্যায় আবদার বা নেতিবাচক সিদ্ধান্তের বেলায় জগদ্দল পাথর। এই তো সেদিন এক সাঁঝবেলায়, মৃত্যুর কিছুদিন আগে (যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চারুকলা অনুষদ, গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের সুপারনিউমরেরি শিক্ষক ছিলেন) সকাল নয়টার দিকে এক ছাত্র দৌড়ে গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল। তখন পথিমধ্যে আমি জিজ্ঞেস করলাম তুমি হাঁপাচ্ছো কেন? উত্তরে ছেলেটি বললো সমরজিৎ স্যারের ক্লাস আছে। স্যার ইতোমধ্যে ক্লাসে বসে আছেন। সত্যিই স্যারের নিশ্চল দেহ বুড়িয়ে গেলেও দায়িত্ব তখনো বুড়িয়ে যায়নি।

শিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরীর জন্ম ১৯৩৭ সালে, কুমিল্লার দাউদকান্দিতে। তাঁর ছবি আঁকার হাতে রঙ্গিন খড়ি খুব ছোট বেলা থেকেই। মা যখন কাপড়ে এম্ব্রয়ডারি করতেন আর মামা কাপড়ে ড্রইং করে দিতেন, সেসব ছোট্ট সমরজিতের অন্তরগোচর হওয়ায় ছবি আঁকার ঝোঁক পেয়ে বসে। তাই তো ঈশ্বরের কৃপায় কুমিল্লার ঈশ্বর পাঠশালা হাই স্কুলে ভর্তি হন। সেখানে ড্রইং বিষয়টি অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত আবশ্যক হওয়ায় ছবি আঁকার নেশা আরো প্রশ্রয় পেতে শুরু করলো। তাতে করে রং তুলির গতিপ্রবাহ বা ব্যগ্রতা বেড়ে যাওয়ায় শিল্পরসে পরিব্যপ্ত হন তিনি। ম্যাট্রিক পাস করার পর ১৯৫৫ সালে তাঁর বাবা ঢাকায় নিয়ে এসে শিল্পাচার্যের হাতে গড়া কলাশিল্পের পীঠস্থান আর্ট কলেজে তাঁকে ভর্তি করিয়ে দেন। সে সময় আর্ট কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন এবং অন্যান্য শিক্ষক হিসেবে ছিলেন আনোয়ারুল হক, কামরুল হাসান, সফিউদ্দীন আহমেদ। এঁরা প্রত্যেকেই কলকাতা গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস থেকে পাস করা।

স্বভাবতই আবেদিন স্যার যাকে শিক্ষক বানানোর ইচ্ছা থাকতো তাকে ছাত্রজীবন থেকে অজান্তে তাঁর মেধা, মনন, চিন্তা চেতনা এবং গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতেন। শিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরী ১৯৬০ সালে কমার্শিয়াল আর্ট বা গ্রাফিক ডিজাইন থেকে কৃতিত্বের সাথে স্নাতক অর্জন করার পরই আবেদিন স্যার তাঁকে ডেকে এনে শিক্ষকতার চাকরি দেন। সেই সময় কামরুল হাসান ডিজাইন সেন্টারে যোগ দিয়েছিলেন এবং সমরজিৎ রায়কেও ডিজাইন সেন্টারে যোগ দিতে বলেন বেশি বেতনে। কিন্তু তিনি রাজি হননি, এমনকি নিমরাজিও না। কারণ তাঁর পছন্দ ছিলো শিল্পাচার্যের ছায়ায় থেকে শিক্ষকতা করা। তাই তো জীবনপ্রদীপের সলতের গোড়া অবদি দীর্ঘ ৪৩ বছর শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন চারুকলা অনুষদে। শিক্ষকতার পাশাপাশি ছবি আঁকার কাজটিও সমানভাবে চালিয়ে গেছেন।

তাঁর ছবি রেখার অনুধ্যান, তিনি মনে করতেন রেখা হচ্ছে ছবির প্রাণ বা আকর। রেখার সারল্যের ভূমিজ শিল্পের আঘ্রাণ। সীমারেখা হচ্ছে চিত্রভূমির আল বা বাঁধ। যা চিত্রভূমির উৎপাদিত ফসল আগলে রাখে। এমনকি আলের মাঝখানে রঙ তুলি দিয়ে কর্ষণ করে চিত্রভূমির ফসল ফলানোই হচ্ছে তাঁর ছবির মূল বৈশিষ্ট্য। তবে তার রেখাঙ্কিত চিত্রভূমির আল বা বাঁধ মাঝেমধ্যে ভেঙে যায়। সুতরাং সেই ভাঙা পথ দিয়ে বহু রঙ সীমানা অতিক্রম করে ঢুকে অন্য এক চিত্ররূপ তুলে ধরে। তিনি নিজেকে নানাভাবে বিবর্তিত করেছেন। শুরুর দিকে ফিগারেটিভ কাজ করেতেন পরে অবশ্যই লোকজ ফর্ম, জ্যামিতিক ফর্মের দিকে ঝুঁকে পড়েন। বিশেষ করে তিনটি মৌলিক ফর্ম বৃত্ত, ত্রিভুজ এবং চতুষ্কোণের আচরণ লক্ষণীয় তাঁর কাজে। প্রতিটি ছবিতে বাংলার রূপ, সৌন্দর্যকে চিত্রারোপ করেছেন। যেমন- ফুল, পাখি, নদী, নৌকা, সাধারণ মানুষ, গ্রামীণ জীবন, নাগরিক জীবন, লোকজ উৎসব, পার্বণ, ষড়ঋতু, শৈশবের নানা স্মৃতি ইত্যাদি। অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথের গান, কবিতা নিয়ে বহু ছবি এঁকেছেন। তাঁর ছবি সত্য ও সুন্দরের সংশ্লেষ। তিনি চিত্রভাষাকে কঠোর হতে উসকে দেননি। তাঁর ছবি হৃদয়ঙ্গম সহজ, সরল, আলঙ্কারিক। ভূমিজ রূপকল্প চিত্রের অনুধ্যান, পটবিন্যাসে ত্রিমাত্রিকতার অনুভূতির আবেশ।

উল্লেখ্য ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান লেখার পর অলঙ্করণের জন্য বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে শিল্পাচার্যের নেতৃত্বে সংবিধানে নকশাসজ্জিত করার জন্য শিল্পীদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেন। তন্মধ্যে নকশাবিদ হিসেবে সমরজিৎ রায় চৌধুরী ছিলেন । এমনকি বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ লোগোর স্রষ্টাও তিনি। সুপ্রিম কোর্ট, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, পল্লী-কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি, দ্বিতীয় সাফ গেমসসহ বহু প্রতিষ্ঠান ও উৎসবের লোগো তিনি করেছিলেন। 

এ দেশে স্যারের অবদান অনস্বীকার্য। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সরকার সমরজিৎ রায় চৌধুরীকে চারুশিল্পে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদক প্রদান করেন। এছাড়া শিল্পকলা পদক, সুলতান পদকসহ অন্যান্য বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। বলাবাহুল্য বহু বইয়ের প্রচ্ছদ, অলঙ্করণ, ডিজাইন করতেন, খুব সস্তায় নামে মাত্র পয়সায়। কারণ শিল্পটা প্রতিষ্ঠা করার জন্য। শিল্পটাকে দুর্লভ বা দুর্বোধ্য করেননি তিনি। শিল্পটাকে সাধারণের কাছে পৌঁছাতে চেয়েছেন সব সময়। এক সময় এদেশে কলাশিল্প অনুর্বর ছিল। শিল্প জিনিসটাই এদেশে অচেনা এক বস্তু ছিল। এঁদের মতো কতিপয় মানুষ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের নেতৃত্বে বহু ত্যাগ, তিতিক্ষা, আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শিল্প-অনুর্বর এ দেশের মাটিতে শিল্পবীজ বপন করে দৃশ্যশিল্পকে প্রদীপ্ত করেছেন। আজকে এদেশের শিল্পাঙ্গন প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর।

সবই অশীতিপর এক আদর্শ মানুষের গল্প। স্যার আমার সরাসরি শিক্ষক না হলেও তাঁর বহু সান্নিধ্য আমি পেয়েছিলাম। বহু স্মৃতি আমার রয়েছে। সেসব অসামান্য স্মৃতিগুলো এখনো বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যায়নি। আমার এই লেখা সবিস্তার বা অনুপুঙ্খ স্মৃতির রোমন্থন নয়। তবু অল্প শব্দমালা সহযোগে মানুষ সমরজিৎ রায়কে প্রণিধানযোগ্য করে কিছু স্মৃতি তুলে ধরলাম। স্যারের প্রতি অতল শ্রদ্ধা।

তারা//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়