ঢাকা     শনিবার   ০২ মার্চ ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১৮ ১৪৩০

মহল্লার ছেলেটি

মূল: নাগিব মাহফুজ, অনুবাদ: ফজল হাসান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:১৩, ২৫ আগস্ট ২০২৩  
মহল্লার ছেলেটি

[নোবেলজয়ী মিশরীয় লেখক নাগিব মাহফুজ (পুরো নাম নাগিব মাহফুজ আবদেলআজিজ ইব্রাহিম আহমেদ আল-বাশা) আরবি সাহিত্যের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাকে আধুনিক আরবি সাহিত্যের প্রাণপুরুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্প লেখক, চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য রচয়িতা এবং নাট্যকার। সুদীর্ঘ ৭০ বছরের সাহিত্যিক জীবনে তিনি ৩৫টি উপন্যাস, পাঁচটি নাটক, ২৫টি চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য এবং প্রায় ৩৫০টি ছোটগল্প রচনা করেন, যা ১৬টি ছোটগল্প সঙ্কলনে প্রকাশিত হয়েছে। তবে ‘কায়রো ট্রিয়োলজি’র জন্য তিনি দেশ-বিদেশের পাঠকের কাছে সুপরিচিত। তিনি ১৯৮৮ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

নাগিব মাহফুজের মৃত্যু হয় ২০০৬ সালের ৩০ আগষ্ট, কায়রোতে। তার মৃত্যুর বারো বছর পরে, অর্থাৎ ২০১৮ সালে, লেখকের স্বহস্তে লেখা গল্পের পাণ্ডুলিপি ড্রয়ারের ভেতর খুঁজে পাওয়া যায়। পাণ্ডুলিপি সুতোয় বাঁধা ছিল এবং সংযুক্ত লেবেলে লেখা ছিল ‘১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হবে।’ আততায়ীর হাতে জখম হওয়ার কারণে তিনি গল্পগুলো সময় মতো প্রকাশ করতে পারেননি। সেখানে ১৮টি গল্প ছিল এবং প্রতিটি গল্প লেখকের স্মৃতিবিজড়িত কায়রোর বিখ্যাত গামালিয়া মহল্লার বাসিন্দাদের ঘিরে রচিত হয়েছে। গল্পগুলো লেখকের অন্যতম অনুবাদক রজার অ্যালেনের ইংরেজি অনুবাদে ‘দ্য কোয়ার্টার: স্টোরিজ বাই নাগিব মাহফুজ’ শিরোনামে ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয়। 
‘পুরনো দূর্গে নাবকা’ গল্পটি ‘দ্য কোয়ার্টার: স্টোরিজ বাই নাগিব মাহফুজ’ গ্রন্থের  ‘সান অব দ্য কোয়ার্টার’ গল্পের অনুবাদ। উল্লেখ্য, গল্পটি আগে বাংলায় অনূদিত হয়নি।]

লোকজন যতটুকু অতীত মনে করতে পারে, সেই থেকে তারা তাকে ‘মহল্লার ছেলে’ নামেই ডাকতে শুরু করেছে। জানা মতে তার বাবা অথবা মা ছিল না। মহল্লার চৌহদ্দি ছিল তার সীমানা, ভূগর্ভস্থ ঘর ছিল তার বাসস্থান এবং এলাকার মানুষের ছোটখাটো কাজ করে দেওয়া ছিল তার পেশা। এই পেশা থেকে সে বেঁচে থাকার রসদ জোগাড় করত। তাকে এখানে-সেখানে দেখা যেত এবং পরনে থাকত তার একমাত্র জোব্বা। সে সব সময় হাসি মুখ করে থাকত, তবে যতক্ষণ না পর্যন্ত তার ক্লান্ত শরীর বিশ্রাম চাইত। তখন সে তার ভূগর্ভস্থ ঘরে যেত এবং মেঝের বিছানায় হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়ত। ভূগর্ভস্থ ঘরটি পুরনো দুর্গ থেকে খুব বেশি দূরে ছিল না।

একদিন ছেলেটি দেখতে পেল যে, একটা গাধা ঠেলাগাড়ি টানছে। গাড়িটি একটা বিড়ালকে প্রায় চাপা দিচ্ছিল। বিড়ালটি রাস্তায় খেলছিল। ‘থামুন!’ এমনকি কোনও কিছু না ভেবেই সে চিৎকার করে বলল। যাহোক, তার সেই চিৎকার শেইখ আসফুরিকে বিস্মিত করে। শেইখ তখন চত্বরের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি ভয় পেয়ে জড়োসড়ো হয়ে যান এবং তার মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। তিনি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং বিড়বিড় করেন: ‘আমি ঈশ্বরের কাছে আশ্রয় চাই।’ তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি সত্যিকার অর্থে লুকানো রহস্য বিশ্বাস করেন। ঠিক সেই মুহূর্তে তার কয়েক ফুট সামনে একটা বিশাল পাথর এসে ভূমির ওপর আঘাত করে। তার কোনও ধারণাই নেই যে, পাথরটি কিভাবে পড়েছে এবং কোন জায়গা থেকে এসেছে। ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের কাছে বিষয়টা স্পষ্ট ছিল যে, যদি শেইখ আসফুরি মহল্লার ছেলেটির চিৎকার শুনে না থামতেন, তাহলে পাথরটি তার ওপর পড়ত। শেইখ শব্দ করে দোয়া পড়েন। তিনি আকস্মিক ধাক্কা খেয়ে প্রায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাচ্ছিলেন। তারপর তিনি মহল্লার ছেলেটির দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকান।
‘আমি এই মর্মে শপথ করছি যে, তুমি একজন ভালো মানুষ,’ তিনি নম্রভাবে বললেন। ‘সৃষ্টিকর্তার সামান্য অংশ তোমার মধ্যে রয়েছে।’

তিনি যা বলেছেন, লোকজন তা বিশ্বাস করেছে। মহল্লার ছেলেটির মর্যাদা এখন সৎ চরিত্রের ভবঘুরে থেকে সাধু বা আধা-সাধু পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। সে যখন এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি করে, তখন লোকজনের স্নেহপরায়ণ চোখ তাকে অনুসরণ করে। সে এখন পর্যাপ্ত পরিমাণে দান-খয়রাত এবং কিছু রুটি পায়। অনেকে তার গোপন বিষয় জানার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে, কিন্তু সে কখনও সাড়া দেয়নি। সে এমন কিছু জানার দাবিও করেনি, যা সে জানত না। সবাই তাকে সমীহ করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। লোকজন বলাবলি করে যে, তার বিস্ময়কর কাজগুলো ছিল সৃষ্টিকর্তার নিজের ইচ্ছার প্রতিফলন। প্রতিটি দিন অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সে মানুষের হৃদয়ে আরও নিশ্চিত জায়গায় নিজেকে উন্নীত করেছে, যতক্ষণ না সে অন্যদের চিনেছে এবং অন্য লোকজন তাকে চিনতে পেরেছে।

এক রাতে ছেলেটি তার ভূগর্ভস্থ ঘরের মেঝেতে পাতা বিছানায় শুতে গেছে। কিন্তু ঘুম পরী তাকে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়ার আগে গভীর নীরবতা নেমে আসে, যা তার সঙ্গে অপ্রত্যাশিত ঘটনা নিয়ে তর্ক করেছিল। ঘটনার কোনও কিছু না বুঝে ছেলেটি তার চারপাশে তাকিয়ে দেখে। ঠিক সেই মুহূর্তে ওপর থেকে স্পষ্ট এবং আকর্ষণীয় এক গভীর কণ্ঠস্বর নেমে আসে:
‘মহল্লার ছেলে,’ কণ্ঠস্বরটি বলল, ‘মনিব জাওয়ির কাছে যাও এবং তাকে বলো যে, তিনি অবৈধভাবে লোকজনদের কাছ থেকে যত টাকাপয়সা নিয়েছেন, যা তারা আশা করে, তা যেন সম্পূর্ণ ফেরত দিয়ে দেন।’

প্রথমে ছেলেটির ধারণা হয়েছিল যে, কেউ একজন তার সঙ্গে ছলচাতুরি করছে। তবে যখন সে অনুভূতি এবং কণ্ঠস্বরের অদ্ভুত সুর স্মরণ করে, যা তার অন্তরে প্রবেশ করেছিল, তখন সে তা নাকচ করে দেয়। এখন সে ভয় পেয়েছে। সে অন্ধকারে এবং পুরনো দুর্গের কাছাকাছি, যেখানে মহল্লার শয়তান প্রাচীনকাল থেকে বাস করে, ঘুমানোর সময় ভয় পেয়ে অভ্যস্ত। 
‘কে কথা বলছে?’ মহল্লার ছেলেটি বলল, যেন সেখানে সে অন্ধকারে বসেছিল। 
যখন ভুগর্ভস্থ ঘরের চতুর্দিকের কোণা থেকে প্রতিধ্বনি ফিরে আসে, তখন সে জেগে ওঠে এবং সম্পূর্ণ সজাগ হয়। সে আশা করছিল যে, ঘটনার পুরোটা স্বপ্ন অথবা বিভ্রান্তি। কিন্তু তারপর পুনরায় আগের সেই কণ্ঠস্বর ফিরে আসে, তবে এবার আরও জোরালো:
‘মহল্লার ছেলে, মনিব জাওয়ির কাছে যাও এবং তাকে বলো যে, তিনি অবৈধভাবে লোকজনদের কাছ থেকে যত টাকাপয়সা নিয়েছেন, যা তারা আশা করে, তা যেন সম্পূর্ণ ফেরত দিয়ে দেন।’

ছেলেটি কাঁপতে থাকে এবং অনুভব করে যে, সে যে কণ্ঠস্বর শুনেছে, তা খুবই শক্তিশালী, স্পষ্ট এবং মহল্লার মানুষের কাছে অপরিচিত। হয়তো তার সময় হয়েছে পুরনো দুর্গের বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা, বিশেষ করে মহল্লার লোকজন যাদের ডাকা হয়েছিল। তার অর্থ এই যে, সমাজে জাওয়ির যতই মর্যাদা এবং সম্মান থাকুক না কেন, ছেলেটিকে গায়েবী নির্দেশ মানতে হবে। সত্যি কথা বলতে কি, সে একাধিকবার জাওয়ির প্রতি সদয় ছিল। তবুও এখন তাকে নির্দেশ মানতে হবে। এক মুহূর্তের জন্য সে দ্বিধা করে এবং তারপরই সে জনগণের কণ্ঠস্বর আরও তীব্র ও জোরালো শুনতে পেল। তৎক্ষণাৎ সে উঠে দাঁড়ায় এবং সীমাহীন আস্থা নিয়ে নিজের পথে পা বাড়ায়। অবশেষে সে শেইখ জাওয়ির সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। জাওয়ি তখন ক্যাফেতে বসা ছিলেন। তার এক পাশে ছিলেন মহল্লার শেইখ এবং আরেক পাশে ছিলেন মসজিদের ইমাম। ছেলেটিকে আসতে দেখে তারা তিনজন ধূমপান বন্ধ করেন এবং জাওয়ি মহল্লার ছেলেটির দিকে তাকান।
‘তোর কিছু হয়েছে?’ জাওয়ি জিজ্ঞেস করেন। ‘না খেয়ে আছিস?’
‘পুরনো দুর্গ থেকে আমি একটি নির্দেশনামা এনেছি,’ ছেলেটি দৃঢ়ভাবে বলল। ‘আমাকে আপনার কাছে আসার জন্য একটা কণ্ঠস্বর বলেছে এবং আপনাকে বলতে বলেছে যে, আপনি অবৈধভাবে লোকজনদের কাছ থেকে যত টাকাপয়সা নিয়েছেন, যা তারা আশা করে, তা যেন সম্পূর্ণ ফেরত দিয়ে দেন।’ 

ছেলেটির কথায় তারা তিনজন স্তম্ভিত হয়ে যান এবং অল্প সময়ের জন্য কেউ যেন তাদের জিহ্বা বেঁধে রাখে। মনিব জাওয়ির জিহ্বা প্রথম ছাড়া পায়। নারগুইলেহ পাইপের পাশ কাটিয়ে হেঁটে গিয়ে তিনি ছেলেটির গালে জোরে চপেটাঘাত করেন। তারপর তিনি গলার স্বর সপ্তমে তোলেন এবং ধাক্কা দিয়ে ছেলেটিকে চত্বরের মাঝখানে পাঠিয়ে দেন। মহল্লার প্রধান জাওয়িকে ফিরিয়ে এনে পুনরায় চেয়ারে বসান। সবাই ঘটনাটি দেখেছে এবং তারা প্রচণ্ড ক্ষেপে যায়, যদিও তারা জাওয়ির মেজাজ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিল। মহল্লার ছেলেটি থমকে যায় এবং সে নিজেকে বলল যে, নিশ্চয়ই কণ্ঠস্বর তার সঙ্গে খেলছে; হয়তো খুবই দুষ্ট শয়তান। লোকজন খবরটি ছড়িয়ে দিয়েছে এবং তাদের বিশ্বাসের পাল্লা খানিকটা ঝুঁকে আছে কণ্ঠস্বরটি কোনও সৎ এবং ভালো শয়তানের দিকে। তা নাহলে জাওয়ি এবং তার সম্পদ সম্পর্কে ছেলেটির মতামত কেমন করে শয়তানদের মতামতকে এত ঘনিষ্ঠভাবে প্রতিফলিত করতে পারে?

মাত্র কয়েকদিন পরে সেই কণ্ঠস্বর ফিরে এসে মহল্লার ছেলেটিকে জ্বালাতন করতে শুরু করে। যখন সে কণ্ঠস্বর শুনতে পেল, তখন তার বুকের ভেতর ধুকপুকানি বেড়ে যায় এবং সে অন্ধকারে চুপচাপ বসে থাকে।
‘আমি পুরোপুরি পাগল হয়ে যাব,’ ছেলেটি মন খারাপের সুরে বলল, ‘যদি পুনরায় তোমার আদেশ মান্য করি।’
ভূগর্ভস্থ ঘরের ফাঁকা জায়গায় কণ্ঠস্বরটি আরও একবার প্রতিধ্বনিত হয় এবং বলে যে, সে যেন আবার জাওয়ির কাছে যায় ইত্যাদি। 
‘যদি বিষয়টি আপনার কাছে এতই গুরুত্বপূর্ণ,’ ছেলেটি নরম গলায় বলল, ‘তাহলে আপনি কেন যান না? আপনি অনেক বেশি শক্তিশালী এবং আমি হলাম অত্যন্ত গরিব বেচারা।’
কোনও তর্ক না করে কণ্ঠস্বরটি তৎক্ষণাৎ তার স্পষ্ট নির্দেশ পুনরাবৃত্তি করে।

মহল্লার ছেলেটি হঠাৎ লাফিয়ে ওঠে এবং তখন সে তার শক্তিহীন দেহের ভার বহন করতে পারছিল না। আচমকা সে সাহস এবং সংকল্পের ঝাকুনি অনুভব করে, যেন সে পুরো এক বোতল মদিরা সাবাড় করেছে। তাকে আসতে দেখে প্রত্যেকেই বিস্মিত হয়। জাওয়ি তার নারগুইলেহ পাইপ সরিয়ে রাখেন এবং ছেলেটির দিকে কঠোর দৃষ্টিতে তাকান। ক্যাফেতে সন্ধ্যা কাটানো লোকজন মাত্র একটা জোব্বা পড়া ছেলেটিকে দেখে স্থবির হয়ে যায়। 
‘চলে যা, তাহলে কোনও বিপর্যয় ঘটবে না,’ মহল্লার প্রধান সাবধান করে বললেন।
যাহোক, তারপরও মহল্লার ছেলেটি জাওয়িকে বার্তাটি দেওয়ার জন্য চিৎকার করে বলতে থাকে:
‘কণ্ঠস্বর আপনাকে বলেছে যে, আপনি অবৈধভাবে লোকজনদের কাছ থেকে যত টাকাপয়সা নিয়েছেন, যা তারা আশা করে, তা যেন সম্পূর্ণ ফেরত দিয়ে দেন।’

জাওয়ি ছেলেটিকে ঘুষি মারেন, মাথা ধরে ঝাকুনি দেন এবং লাথি মারেন, যতক্ষণ না সে মাটিতে পড়ে যায়। ছেলেটি গোঙাতে শুরু করে। তার নাক ও মুখ থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। 
তারপর এমন এক বিরল ঘটনা ঘটে, যা আগে কখনও মহল্লায় দেখা যায়নি। যারা বসেছিল, তারা উঠে দাঁড়ায় এবং যারা দেখছিল, তারা মহল্লার ছেলেটির কাছে এগিয়ে আসে, যেন তাকে আর প্রহার করা না হয়। 
মসজিদের ইমাম বর্ণনা করেছেন যে, ঘটনার সময়টি ছিল রীতিমতো কালো রাত্রি। ঘটনার স্থান উত্তেজিত লোকজনে ভরে যায়। সেখানে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিল এবং জাওয়ি মাটিতে পড়ে যায়, যেভাবে কিছুক্ষণ আগে মহল্লার ছেলেটি পড়ে গিয়েছিল। মহল্লার প্রধান, যিনি আহতের সংখ্যা দেখে বিস্মিত, পরিস্থিতি আয়ত্তে আনার জন্য উঠে দাঁড়ান।
‘কি অবিশ্বাস্য রাত!’ মহল্লার প্রধান ইমামকে বললেন। ‘এমনকি পুরনো দুর্গের শয়তানের গল্পের চেয়েও অদ্ভুত।’

তারা//

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়