Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ২১ জুন ২০২১ ||  আষাঢ় ৭ ১৪২৮ ||  ০৯ জিলক্বদ ১৪৪২

পাহাড়ি ঢালুতে গাছে গাছে ঝুলছে লাল ‘মিয়াজাকি’ আম

নুরুচ্ছাফা মানিক, খাগড়াছড়ি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৩১, ১১ জুন ২০২১   আপডেট: ১৩:৩৬, ১১ জুন ২০২১
পাহাড়ি ঢালুতে গাছে গাছে ঝুলছে লাল ‘মিয়াজাকি’ আম

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার ধুমনিঘাট এলাকায় পাহাড়ি ঢালুতে গাছে ঝুলছে লাল লাল আম। মন কেড়ে নেওয়ার মতো রঙ। এসব আম পোকা মাকড়ের আক্রমণ থেকে বাঁচতে কিছু কিছু গাছে ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যাকিং পদ্ধতি।

স্থানীয় চাষি হ্লাশিমং চৌধুরী ৬০ শতক বাগানে এই প্রজাতির ১২০টি চারা লাগিয়েছেন। এটি তার ‘মিয়াজাকি’ প্রজাতির আমের দ্বিতীয় বারের উদ্যোগ। বেশ ভালো ফলন হয়েছে।

প্রজাতিটি জাপানের মিয়াজাকি অঞ্চলের। মিয়াজাকি আমকে এখানে কেউ বলেন ‘সূর্যডিম’ আম। মনে করা হয়, এটি পৃথিবীর সবচেয়ে দামি ও পুষ্টিসমৃদ্ধ আমের প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এ আমের চাষ করে সফল হয়েছেন খাগড়াছড়ির হ্লাশিমং চৌধুরী।  

সরেজমিনে হ্লাশিমং চৌধুরীর ধুমনিঘাট এলাকার বাগানে গিয়ে দেখা যায়, লাল লাল আমে রঙীন হয়ে আছে তার মিয়াজাকি আমের বাগান। স্থানীয়রা জানালেন, মুকুল আসা থেকে ফলন ছেঁড়া পর্যন্ত যত্ন নেওয়ায় কোন কমতি থাকে না হ্লাশিমংয়ের। তার সারাটা দিন কেটে যায় এই বাগান নিয়েই।  

হ্লাশিমং চৌধুরী জানান, ভারতের পুনে থেকে ২০১৭ সালে মিয়াজাকি আমের চারা সংগ্রহ করেন তিনি।  এরপর তার বাগানে কলম চারার মাধ্যমে ১২০টি চারা করেন। ২০১৯ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে লাগানো ‘মিয়াজাকি’ বাগানে ফলন আসতে থাকে। ২০২০ সালেও ভালো ফলন হয়। তবে বৈরি আবহাওয়ার কারণে এ মৌসুমে ফলন কম হলেও দাম পেয়ে খুশি। প্রতি কেজি আম বিক্রি করছেন ১ হাজার টাকায়। এবার এক টনের মতো ফলন পাবেন এবং তা বিক্রি করে ১০ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা তার।

হ্লাশিমং চৌধুরী জানান, এ আমের যে বাজার মূল্য ও চাহিদা তা দিন দিন বাড়বে। উচ্চমূল্যের এ ফলের চারা পার্বত্য চট্টগ্রামে ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা তার। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মাতৃচারা কলমের কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান।

খাগড়াছড়ি হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক কিশোর কুমার মজুমদার বলেন, ‘মিয়াজাকি’ আমের চাষ খাগড়াছড়িতে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে হর্টিকালচার সেন্টারের নার্সারিতে মাতৃচারা উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। যদি এটি করা যায় তাহলে এ অঞ্চলের ফলদ বাগানের সঙ্গে সম্পৃক্তদের জীবন মান পাল্টে যাবে।  কারণ উচ্চমূল্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও বেশ কদর রয়েছে এ আমের।

নুরুচ্ছাফা মানিক/টিপু

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়