ঢাকা     বুধবার   ৩০ নভেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ১৬ ১৪২৯ ||  ০৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘কুদ্দুস মামার’ ঝালমুড়িতে সবাই মাত 

মাইনুদ্দীন রুবেল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:১৭, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২   আপডেট: ১৭:২৭, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘কুদ্দুস মামার’ ঝালমুড়িতে সবাই মাত 

মোহাম্মদ কুদ্দুস মিয়া। ছবি: রাইজিংবিডি

ঝালমুড়ি। দেশের আইকনিক স্ন্যাকসগুলোর মধ্যে অবশ্যই অন্যতম এটি। বাঙালির রয়েছে দুই দুর্বলতা- চাল আর ঝাল। আর ঝালমুড়ি যেন সে দুয়ের-ই মহামিলন। পাড়া-মহল্লায় ঝালমুড়িওয়ালা চাচা বা মামাদের ফ্যান-ফলোয়ার কিন্তু নেহাত কম নয়। তেমনি একজন মোহাম্মদ কুদ্দুস মিয়া (৬৫)। সবার কাছে তিনি ‘কুদ্দুস মামা’ নামেই অধিক সমাদৃত।

দুই দশক (২০ বছর) ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সামনে ঝালমুড়ি বেচেন কুদ্দুস মিয়া (৬৫)। এই বিদ্যাপীঠের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রির চেয়ে শিক্ষার্থীদের ভালবাসা যেন কুদ্দুস মিয়াকে আরও প্রাণবন্ত করে। সে টানেই তো কুদ্দুস মিয়া চাইলেও পেশা বদলাতে পারেননি। 

মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সামনে রাইজিংবিডির সাথে কথা হয় কুদ্দুস মিয়ার। বলেন, সকাল আটটায় মালামাল নিয়ে কলেজের সামনে আসি। সরকারি কলেজ ও পাশের নিয়াজ মোহাম্মদ স্কুলের শিক্ষার্থীরাই ঝালমুড়ি খায়। স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের সুন্দর করে কথা বলা আমার কাছে অনেক ভালো লাগে। সবাই মামা-চাচা বলে ডাকেন। 

তিনি জানান, প্রথম প্রথম ঝালমুড়ি বিক্রি করতে খারাপ লাগতো। মনে হতো অন্য কোনও পেশায় চলে যাই। কিন্তু স্কুল কলেজের ছেলে-মেয়েদের কাছে ঝালমুড়ি বিক্রি করতে করতে মায়া জন্মে গেছে। এজন্যই অন্য পেশাতে যাওয়া হয়নি।

পাশেই দাঁড়ানো ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী ইভা আক্তার। তিনি বলেন, মামার ঝালমুড়ি অনেক পছন্দের। উনি পরিষ্কার ও সুন্দরভাবে ঝালমুড়ি বানান। 

শিমরাইল কান্দি এলাকার সাবেরা সোবহান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বিথি আক্তার বলেন, প্রায় সময়ই মামার ঝালমুড়ি খেতে চলে আসি। ওনার ঝালমুড়ির মতো অন্য কোথাও এত মজা হয় না। দক্ষিণ মৌড়াইল এলাকার নিয়াজ মোহাম্মদ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মাজিদ বলেন, ছোটকাল থেকেই মামার কাছ থেকে ঝালমুড়ি খাই। 

তবে আক্ষেপও রয়েছে কুদ্দুস মিয়ার। সেটা নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখীতা নিয়ে। বলেন, ঝালমুড়ি বানাতে যে মালামাল লাগে সেগুলোর দাম বেড়ে গেছে। এভাবে হলে তো ঝালমুড়ি বেচা দায় হয়ে যাবে। আগে ঝালমুড়ি বানানোর যে মালামাল কিনতাম ৭০০ টাকায়, এখন লাগে ১২০০। আগে ১৫০০ টাকা বেচলে ৬০০ লাভ হতো। আর এখন ৪০০ টাকা লাভ করতেই কষ্ট হয়। 

কুদ্দুস মিয়া বরিশাল জেলার সৌরভকাটি থানার অরিবুইন্না গ্রামের মৃত রুস্তম মিয়ার ছেলে। জীবনের তাগিদে ২০০১ সালে বরিশাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলে আসেন। বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের দক্ষিণ মৌড়াইলের জয়নাল মিয়ার বাড়িতে ভাড়ায় থাকেন। স্ত্রী, চার ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে কুদ্দুসের সংসার।

ঢাকা/এনএইচ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়