ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৮ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ২৩ ১৪২৯

উপবৃত্তি না পেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি, ডেকে উপহার দিলেন ইউএনও

রাজশাহী সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:১৯, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২   আপডেট: ১৪:৩২, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
উপবৃত্তি না পেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি, ডেকে উপহার দিলেন ইউএনও

উপবৃত্তির টাকা পেলে নতুন ব্যাগ আর ছাতা কিনবে। এমন আশায় বুক বেঁধেছিলো রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার তেবিলা সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র জুনাইদ সিদ্দিক। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তার উপবৃত্তির টাকাও এসেছিলো। কিন্তু টাকা তুলে নেয় অন্য কেউ। মন ভেঙে যায় ছোট্ট জুনাইদের। তাই প্রধানমন্ত্রী বরাবর খোলা চিঠি লেখে সে।

তারপর সেই চিঠি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ চিঠি নজরে আসে প্রশাসনের। শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহেল রানা শিশু জুনাইদকে ডেকে তার হাতে নতুন স্কুল ব্যাগ, ছাতা ও শিক্ষা উপকরণসামগ্রী তুলে দিয়েছেন। এ সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

ইউএনও জানান, শিশু জুনাইদের লেখা চিঠিটি জেলা প্রশাসন ও তার নজরে আসে। তারপরই তাৎক্ষণিক তাকে ডেকে আনা হয়। নতুন স্কুল ব্যাগ, ছাতা, খাতা, কলম, পেন্সিল বক্সসহ বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা উপকরণ তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তার টাকা কীভাবে অন্য কেউ তুলে নিয়েছে সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

জানা গেছে, শিশু জুনাইদের বাবা একজন রিকশাচালক। জুনাইদ ছেঁড়া স্কুল ব্যাগ ও ভাঙা ছাতা নিয়ে স্কুলে যেতো। সম্প্রতি উপবৃত্তির জন্য যে টাকা সে পেয়েছিলো তা অন্য কেউ তুলে নেয়। তাই মন খারাপ করে সে প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি লিখেছে সে। জুনাইদের লেখা সেই চিঠি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

চিঠিতে জুনাইদ লিখেছিল, ‘আমার উপবৃত্তির টাকা আমি এখনও পাইনি। বাবা বলেছিলো উপবৃত্তির টাকা পেলে স্কুল ব্যাগ আর ছাতা কিনে দিবে। কিন্তু আর তা হলো না। স্যারদের মাধ্যমে জানতে পারলাম কেউ আমার টাকা তুলে নিয়েছে। প্রতিদিন আমাকে ছেঁড়া স্কুল ব্যাগ আর ভাঙা ছাতা নিয়ে স্কুলে যেতে হয়। তাতে আমার কোন দুঃখ নেই। এরপর যেন এমনটি না হয় এটাই দাবি।’

তেবিলা সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফির উদ্দিন বলেন, জুনাইদের বাড়ি দুর্গাপুর উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকায়। সে টাকা না পেয়ে এমনটি করেছে। আসলে তার বাবা একজন রিকশাচালক। তার বাবা ছেলেকে বলেছিলেন, উপবৃত্তির টাকা দিয়ে তাকে একটি ব্যাগ ও ছাতা কিনে দিবে। কিন্তু সেটি হয়নি। এই কারণে জুনাইদের মন খারাপ হয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও ইউএনও’র নজরে এলে জুনাইদকে ডেকে আনা হয়। তার হাতে ব্যাগ, ছাতা ও শিক্ষাসামগ্রী তুলে দেন ইউএনও। তার টাকা কীভাবে অন্য কেউ তুলে নিলো এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শিরিন সুলতানা কেয়া/টিপু

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়