ঢাকা     সোমবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৬ ১৪২৯

ঝুঁকিপূর্ণ দুই সেতুতে দুর্ঘটনার শঙ্কা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:১৮, ৩০ নভেম্বর ২০২২  
ঝুঁকিপূর্ণ দুই সেতুতে দুর্ঘটনার শঙ্কা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ডাকাতিয়া নদীর শাখা খালে একটি ভাঙা সেতু ও কাঠের পুল দীর্ঘদিনেও মেরামত করা হয়নি। এ কারণে চারটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষকে ঝুঁকি নিয়েই এই দুটি সেতু দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

সেতু দুটি চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের (সিআইপি) অভ্যন্তরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নিয়ন্ত্রণাধীন খালের উপরে অবস্থিত। 

রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ও দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের লোকজনকে চলাচলের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন উত্তর চরবংশী ইউনিয়নে অবস্থিত মালেক খাঁ সেতু। অপরদিকে দক্ষিণ চর আবাবিল ও উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের লোকজনেকে ব্যবহার করতে হয় উদমারা নাছির বেপারী সেচ পাম্প সংলগ্ন কাঠের পুলটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ ১৯৯৮ সালে ৯০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬ ফুট প্রস্থের মালেক খাঁ সেতুটি নির্মাণ করে। আটটি পিলারের ওপর সেতুটি তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু সেতুটির পূর্ব অংশে মাঝখান বরাবর দুটি বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকবার দুর্ঘটনা ঘটায় স্থানীয়রা গাছ ও ডালা দিয়ে স্থানটি ঝুঁকিপূর্ণ চি‎হ্নিত করে রেখেছেন। দুপাশের নিরাপত্তা দেওয়ালগুলোও ভেঙে পড়েছে। ইট সরে নিরাপত্তা দেওয়ালের অনেক স্থানেই রড বেরিয়ে পড়েছে। 

এদিকে কাঠের পুলটিও এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সুপারি গাছ বসিয়ে স্থানীয়রা চলাচল অব্যাহত রেখেছেন। শতভাগ ঝুঁকি থাকায় এ দুটি পথে বৃদ্ধ, শিশু ও প্রতিবন্ধীরা চলাচল করতে পারছেন না। 

উত্তর চর আাবাবিলের বাসিন্দা মনির বকাউল, মাসুম বেপারী ও রায়হান মোল্লা বলেন, পুলটির স্থানে একটি সেতু নির্মিত হলে আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হতো। অনেকেই বিকল্প পথ হিসেবে দেড় থেকে দুই কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করছেন। 

উত্তর চরবংশীর বাসিন্দা মরিয়ম বেগম, রহিম গাইন, করিম সরদার ও রহিমেরনেছাও একই রকম প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। 

দক্ষিণ চর আবাবিল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হাওলাদার নুরে আলম জিকু বলেন, ‘কাঠের পুলটি ভেঙে এলাকার লোকজনের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।’

উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘বাধ্য হয়েই লোকজন ঝুঁকি নিয়ে গর্ত হওয়া সেতুটি দিয়ে চলাচল করছেন। আমাকেও ঝুঁকি নিয়েই এ সেতুতে চলাচল করতে হয়। সেতুটি নতুনভাবে নির্মাণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) রায়পুর উপজেলা কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘মালেক খাঁ সেতুটি নতুনভাবে নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি গৃহিত হলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এসে ডিজাইন ও প্রাক্কলনসহ আনুসাঙ্গিক কাজ করবেন। তবে কবে নাগাদ এটি করা হবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘কাঠের পুলটি জরুরিভাবে মেরামত করে দেওয়া হবে। এখানে আগে রাস্তার কাজ করে পরে সেতু নির্মাণের একটি প্রস্তাবনার আলোচনা চলমান আছে।’

জাহাঙ্গীর লিটন/ মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়