ঢাকা     সোমবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৭ ১৪২৯

সিরাজগঞ্জে সরকারি বরাদ্দকৃত কম্বল ফেরত দিলেন চেয়ারম্যানরা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:০০, ২ ডিসেম্বর ২০২২   আপডেট: ১২:২৮, ২ ডিসেম্বর ২০২২

শীতে অসহায় ও দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি কম্বল ফেরত দিয়েছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ১০ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানরা। আর এ ঘটনার পর থেকেই জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

বৃহস্পতিবার (১ ডিস্বেম্বর) রাতে কম্বর ফেরতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি ও গালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন।

এরআগে, বৃহস্পতিবার সকালে শাহজাদপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত কম্বলগুলো ভ্যানে করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিয়ে আসেন চেয়ারম্যানরা। পরে কম্বলগুলো পরিষদের গোডাউনে রাখা হয়।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা জানান, অসহায় ও দরিদ্রদের জন্য শাহজাদপুরের ১৩টি ইউনিয়নে ৩৫০পিচ করে কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দ দেওয়ার পরে স্ব-স্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানেরা কম্বল বিতরণের জন্য নামের তালিকা তৈরি করেন। এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন চেয়ারম্যানদের জানান, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মেরিনা জাহান কবিতা প্রতিটি ইউনিয়নে বরাদ্দ থেকে ২০০পিচ করে কম্বল নিজে বিতরণের জন্য চেয়েছেন।

চেয়ারম্যান আরও জানান, একটি ইউনিয়নে বিপুল সংখ্যাক দরিদ্র ও অসহায় মানুষ রয়েছে। সেই মানুষদের বিতরণের জন্য  আমরা মাত্র ৩৫০পিচ করে কম্বল বরাদ্দ পেয়েছি যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এরমধ্যে যদি সংসদ সদস্যকে ২০০ পিচ করে দেওয়া হয় তাহলে আমরা কিভাবে মানুষের মধ্যে অল্প সংখ্যাক কম্বল বিতরণ করবো। তাই কম্বল ফেরত দেওয়া হয়েছে।

কম্বর ফেরতের বিষয়ে গালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন বলেন, ‘তীব্র শীতের কারণে দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের জন্য উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের মধ্যে সরকারি বরাদ্দের ৩৫০ পিচ করে মোট ৪ হাজার ৪৫০ পিচ কম্বল দেওয়া হয়। পরে আমাদের উপর বরাদ্দকৃত কম্বলগুলো থেকে সংসদ সদস্য সাহেব ২০০পিচ কম্বল চেয়েছেন। সেই কম্বলগুলো এমপি মহোদয় বিতরণ করবেন। তিনি ২০০ পিচ বিতরণ করলে আমরা করবো মাত্র ১৫০ পিচ। আর তাই কম্বল বিতরণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের ইউনিয়নে কোনো দরিদ্র, অসহায় ও বৃদ্ধ শীতার্থ মানুষ নেই। তাই সরকারি বরাদ্দ পাওয়া কম্বলগুলো
আমরা ফেরত দিয়েছি।’

হাবিবুল্লাল নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাচ্ছু বলেন, ‘আমাদের মাঝে যে কম্বলগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেই কম্বলগুলো থেকে ২০০পিচ কম্বল এমপি মহোদয় বিতরণ করবেন বলে নির্বাহী অফিসার আমাদের জানিয়েছেন। একারণে আমরা বিতরণ না করে বরাদ্দ পাওয়া কম্বলগুলো ফেরত দিয়েছি।’

শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘চেয়ারম্যানরা কম্বল ফেরত দিয়েছে কি না এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।’

সংসদ সদস্য কম্বল বিতরণ করতে চেয়েছেন কি না তার সত্যতা জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিনের মুঠোফোনে
বারবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মদ বলেন, ‘স্ব-স্ব উপজেলায় সরকারিভাবে কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত কম্বলগুলো এমপি মহোদয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা বিতরণ করবেন। এবিষয়ে আমার কোনো মতামত নেই।’

সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মেরিনা জাহান কবিতা বলেন, ‘কম্বর ফেরত দেওয়ার কোনো নির্দেশ দেয়নি। আমি বলেছি প্রতিটা ইউনিয়নে গিয়ে কম্বল বিতরণ করবো। বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যানদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে।’

অদিত্য/ মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়